সানস্ক্রিন সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। বাইরে বের হওয়ার আগে তাই সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ৩০ বা তার বেশি এসপিএফের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
অনেকে মনে করেন, শুধু যে ঘরের বাইরে গেলেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। বিষয়টি এমন নয়। ঘরের ভিতরেও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি রান্না করার সময় চুলার কাছে গেলেও ত্বকে সানস্ক্রিন লাগানো উচিত, কারণ এ থেকেও ত্বকের ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে।
এছাড়াও যেসব কারণে ঘরে থাকা অবস্থায়ই সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন। জেনে নিন।
অকাল বার্ধক্য রোধ
সূর্য ত্বকের ক্ষতিকারক দুই ধরণের অতিবেগুনী রশ্মি উৎপন্ন করে থাকে- ইউভিএ এবং ইউভিবি রশ্মি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই রশ্মি জানালার কাঁচের মধ্য দিয়ে এবং এমনকি মেঘলা দিনেও ত্বকে প্রবেশ করতে পারে। এ সময় সাধারণত ত্বকে কোনো রোদে পোড়া ভাব ফুটে ওঠে না, তবে ত্বকের সবচেয়ে বাইরের অংশ হিসেবে পরিচিত এপিডার্মিস ঠিকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘন ঘন ইউভিএ রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকে অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়ে; ত্বক তার সহজাত স্থিতিস্থাপকতা (ইলাস্টিসিটি) হারায় এবং বলিরেখা দেখা দেয়। রোদে পোড়ার দৃশ্যমান কোনো দাগছোপ না পড়লেও দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরের মধ্যেও তাই ত্বকে ব্যবহার করুন সানস্ক্রিন।
স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ
দুপুরের কড়া রোদে জানালার পাশে বসে লাঞ্চ করাই হোক কিংবা বারান্দায় গা এলিয়ে প্রিয় কোনো বইয়ে মুখ ডুবিয়ে থাকা, সূর্য রশ্মির সংস্পর্শে এলেই ত্বকের ক্ষতি।
ইউভিবি রশ্মি ত্বকের লালচে ভাব এবং প্রদাহ সৃষ্টির জন্য দায়ী, এর জন্যই আমাদের ত্বকে রোদে পোড়াভাব দেখা যায়। একবার ত্বকের কিছু কোষে রোদের পোড়া দাগ পড়ে গেলে, অবশিষ্ট কোষগুলোও সময়ের সাথে সাথে সূর্য রশ্মির প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, যা ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
ব্লু লাইট থেকে সুরক্ষা
আধুনিক জীবনধারার অংশ হিসেবে আমাদের চোখ এখন সর্বক্ষণ স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার এবং টেলিভিশনের মতো ডিভাইসে আটকে থাকে। কিন্তু এসব ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্গত ব্লু লাইট বা নীলচে আলো আমাদের ত্বক, চোখ এবং ঘুমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ত্বকে দৃশ্যমান কোনো দাগছোপ না ফেললেও ব্লু লাইট থেকে সৃষ্ট ফ্রি র্যাডিকেলের ফলে অকালে বয়সের ছাপ পড়ে, ত্বকে মেলানিনের হার বেড়ে যায় এবং কোলাজেনের মাত্রা কমে ত্বক ঝুলে পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনের সামনে থাকলে কোষ কুঁচকে যেতে পারে, এমনকি অনেক কোষ একেবারে ঝরে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে আয়রন অক্সাইড, জিঙ্ক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই অক্সাইডের মতো খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে তা ত্বক এবং ব্লু লাইটের মধ্যে একটি আস্তরণ তৈরির মাধ্যমে সুরক্ষা দিতে পারে।
স্কিনকেয়ার পণ্যের কার্যকারিতায়
আপনি যদি নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার না করেন, তাহলে আপনার ব্যবহৃত অনেক স্কিনকেয়ার পণ্যই কার্যকারিতা হারাবে। রেটিনল, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড এবং নির্দিষ্ট কিছু এক্সফোলিয়েটরের ব্যবহারে ত্বক সূর্যের প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে; যার ফলে ত্বকে সহজেই রোদে পোড়া ভাব ফুটে ওঠে। এই ঝুঁকি দূর করতে ক্লিনজার, টোনার, সেরাম এবং এসেনশিয়াল অয়েল লাগানোর পর মুখে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
সূত্র: সান ডক্টরস



