বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করে। ত্বকের ভেতরে থাকা তেলের পরিমাণ কমে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই ধরনের ত্বকে দ্রুত বলিরেখা দেখা দেয়। শুষ্ক ত্বকের যত্নে তাই বাড়তি নজর দেওয়া উচিত।
গরম বাড়ায় ইদানীং আবহাওয়াগত কারণে আমাদের ত্বক প্রচুর শুষ্ক থাকছে। পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধোয়ার সময় থেকেই শুরু করতে হবে ত্বকের যত্নআত্তি। গরমে শুষ্ক ত্বকের খেয়াল রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন-
১০ মিনিটে গোসল
গরম পানি দিয়ে গোসল করলে অনেক রোগের প্রকোপ কমে। তবে তা কুসুম গরম পানি হতে হবে। অতিরিক্ত গরম পানি ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। ৫-১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত গোসলের পরামর্শ দিয়েছেন ডার্মাটোলজিস্টরা। লম্বা সময় ধরে গোসল করলে ত্বক বেশি মাত্রায় আর্দ্র হয়ে যায়। ত্বকের নিজস্ব স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব শুকিয়ে যায়। তাই ৫ মিনিটের বেশি শাওয়ারের নীচে থাকতে নিষেধ করেন চিকিৎসকেরা। এতে ত্বকের পাশাপাশি চুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চটজলদি ময়েশ্চারাইজার
আর্দ্রতা ধরে রাখতে গোসল বা মুখ ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ক্রিম, লোশন, অয়েন্টমেন্টস-ত্বকের ধরন বুঝে বেছে নিন আপনার জন্য উপযোগী পণ্যটি। নইলে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়বে। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে নেয়ার পরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
তবে লোশনের চেয়ে ত্বকের জন্য ক্রিম, তেল বা অয়েন্টমেন্টস ব্যবহার করাটা বেশি উপকারী। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন ত্বকের শুষ্কতা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু উপাদান সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জোজোবা অয়েল, ডাইমেথিকোন, গ্লিসারিন, হায়ালিউরোনিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড, ল্যানোলিন, মিনারেল অয়েল, শিয়া বাটার প্রভৃতি।
ঠোঁটের আর্দ্রতায় লিপ বাম
আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বক থেকে ঠোঁটের ত্বক ভিন্ন, শুষ্কতায় তাই সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় থাকে ঠোঁট। ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ কিছু লিপ বাম রয়েছে যাতে রয়েছে প্রাকৃতিক তেলের মিশ্রণ। জোজোবা অয়েল এবং ভিটামিন ই সমৃদ্ধ লিপ বাম ঠোঁটকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। আবার এসপিএফ যুক্ত লিপ বাম ঠোঁটকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিয়ে মসৃণ ও কোমল করে তোলে।
সুবাসযুক্ত সাবান
ডিওডোরেন্ট সোপের মতো পণ্য শুষ্ক আর সংবেদনশীল ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকারক। ত্বক বিশেষজ্ঞরা তাই ‘ফ্রেগরেন্স ফ্রি’ (সুগন্ধহীন) পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবার যদি কোনো পণ্যের মোড়কে ‘আনসেন্টেড’ লেখা দেখে থাকেন, তবে সেটিও বর্জন করবেন। এসব পণ্যে এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা অন্যান্য উপাদানের স্বাভাবিক গন্ধকেও নিষ্ক্রিয় করে বা লুকিয়ে রাখে। আর এসব রাসায়নিক শুষ্ক ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করতে পারে।
হাতের শুষ্কতায়
মুখে যেমন বয়সের ছাপ পড়ে, একইভাবে আপনার হাতেও কিন্তু বলিরেখা প্রকট হতে শুরু করে। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের সময়ের আগেই হাতের তালু খসখসে হয়ে চামড়া কুঁচকে যেতে পারে।তাই সব সময় হাতের যত্ন নিন। হাতের যত্নে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে একদম ভুলবেন না। ময়েশ্চারাইজারে থাকা পুষ্টি উপাদান আপনার হাতকে কোমল রাখতে সাহায্য করে। কাপড় বা থালাবাসন ধোয়ার ক্ষেত্রে লম্বা সময় আমাদের হাত ভিজে থাকে। এসব ক্ষেত্রে গ্লাভস পরতে পারেন।
এ ছাড়া তাপ উৎপন্ন করে এমন উৎসের সামনে বেশিক্ষণ থাকলে তা ত্বককে শুষ্ক আর পানিশূন্য করতে পারে। শীতকালে যেমন অনেককেই চুলা বা আগুনের পাশে বসে তাপ পোহাতে দেখা যায়। এতে সাময়িকভাবে উষ্ণ অনুভূত হলেও ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক।


গরমে ত্বক ভালো রাখতে সহজে বানাতে পারেন ৫ প্যাক
সকালের যে অভ্যাসে ত্বক সুন্দর
