আমেরিকার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা সম্প্রতি কর্মী ছাঁটাই করা শুরু করেছে। এরই মধ্যে রিয়ালিটি ল্যাবস, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রামসহ মেটার মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে গণছাঁটাই নয় বরং প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিভাগে দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই মেটা কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ২০২৩ সালকে ‘দক্ষতার বছর’ অ্যাখ্যা দেওয়ার পরই মেটা কর্মী ছাঁটাই করতে শুরু করল। বিষয়টি কতটা কাকতালীয় আর কতটা পরিকল্পিত সেটা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন থেকেই যায়।
ছাঁটাইকৃত বেশ কয়েকজন কর্মী ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। মেটার থ্রেড টিম থেকে চাকরীচ্যুত জেন মানচুন ওং নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে চাকরি হারানোর কথা জানিয়েছেন।
কর্মী ছাঁটাই নিয়ে মেটার তরফ থেকে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে মুখপাত্র ডেভ আর্নল্ড বলেছেন, ‘বর্তমানে মেটার কয়েটি দলে পরিবর্তন করা হচ্ছে যাতে করে এর মানব সম্পদ প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্য ও অবস্থানগত কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।’
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি দলকে ভিন্ন লোকেশনে স্থানান্তরিত করা হতে পারে, আবার কিছু কর্মীকে নতুন ভূমিকায় নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যখন কোনো একটি পদ-ই বিলুপ্ত হয়ে যায় তখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার যথাযথ চেষ্টা করি।
চলতি বছরের শুরুতে মেটার রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগেও সামান্য কিছু সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) বিষয়ক গবেষণা ও পণ্য তৈরি নিয়ে কাজ করে থাকে রিয়েলিটি ল্যাবস।
তবে মেটায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের রেকর্ড ২০২২ সালে। সেবছর মেটার ১১ হাজার কর্মী চাকরীচ্যুত হয়। কোভিড মহামারীর পর পরই মেটা অতিআশাবাদী হয়ে প্রচুর কর্মী নিয়োগ করে। কিন্তু প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ না হওয়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে যেতে বাধ্য হয়।
তবে মেটার সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই কতদিন অব্যাহত থাকবে, আর কত জন চাকরি হারাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: দ্য ভার্জ



