আজ রাতে একটু ভয় পেতে চান? আধুনিক বাংলা হোটেলে যান!

অ্যান্থোলজি সিরিজটির ক্ষেত্রে গল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অনেকদিন পর এ দেশের কোনো হরর-ফ্যান্টাসি জনরার কনটেন্টে দেখা গেল যে, গল্পই সব কিছু তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। অর্থাৎ, গল্পের কারণেই মূলত উপভোগ্য হয়েছে আধুনিক বাংলা হোটেল’র সব খাবার।

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১০:১২ পিএম

সিরিজটির একটি দৃশ্যে মোশাররফ করিম। ছবি: চরকি

কখনও ভয়ের সহযোগী, কখনও ভয়ের শিকার, আবার কখনও ভয় সৃষ্টির কারণ। এই তিন রূপে অভিনেতা মোশাররফ করিমকে পাওয়া সাধারণ দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আর সমালোচকদের জন্য এটি উপভোগের উপলক্ষ তো বটেই। ঠিক সেই কাজটিই করে দেখিয়েছেন মোশাররফ করিম। এভাবেই ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অভিনেতার অভিনয় ক্ষমতার এক অনুপম প্রদর্শনী।

সম্প্রতি হ্যালোইনকে উপলক্ষ করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’ নিয়ে এসেছে ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’। প্রথম সিজনে গত তিন সপ্তাহ ধরে একটি একটি করে মোট তিনটি পর্ব মুক্তি পেয়েছে। এই আয়োজন নিয়ে চরকি বলছে, ‘আধুনিক বাংলা হোটেল, বাংলা খাবারকে উপজীব্য করে লোকাল মিথলজি, ফ্যান্টাসি, সাইকোলজিক্যাল হররের সংমিশ্রণে একটি অ্যান্থোলজি সিরিজ, যার প্রতিটি গল্পে একটা করে লোকাল বাংলা খাবার পরিবেশিত হয়। প্রত্যেক এপিসোডে নতুন খাবার নতুন টেস্ট। প্রতিটি গল্প শেষ হবে এক অপার্থিব ফ্যান্টাসি কিংবা বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে।’

এই আঞ্চলিক বাংলা খাবারের গন্ধ প্রতিটি পর্বেই পাওয়া গেছে। তিনটি পর্বের নাম যথাক্রমে, ‘বোয়াল মাছের ঝোল’, ‘খাসির পায়া’ ও ‘হাঁসের সালুন’। শেষ পর্বটি গতকাল বুধবার রাতেই মুক্তি পেয়েছে। প্রথম পর্বে বোয়াল মাছ ছিল লোভের উপকরণ। দ্বিতীয়তে খাসির পায়া পছন্দ ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর তৃতীয় পর্বে হাঁসের সালুন হয় উদর ও প্রবৃত্তি পূর্তির উপায়।

আধুনিক বাংলা হোটেলের দৃশ্যে মোশাররফ করিম ও নিদ্রা নেহা। ছবি: সংগৃহীত

অ্যান্থোলজি সিরিজটির ক্ষেত্রে গল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অনেকদিন পর এ দেশের কোনো হরর-ফ্যান্টাসি জনরার কনটেন্টে দেখা গেল যে, গল্পই সব কিছু তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। অর্থাৎ, গল্পের কারণেই মূলত উপভোগ্য হয়েছে আধুনিক বাংলা হোটেল’র সব খাবার। এমন ভিন্নধর্মী গল্প উপহার দেওয়ার জন্য শরীফুল হাসানের অকাতরে ধন্যবাদ প্রাপ্য। আর তা পর্দায় সুন্দর ও প্রায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিচালক কাজী আসাদকেও অভিবাদন জানাতে হয়। তিনি দুর্দান্ত কাজ করেছেন। চিত্রনাট্য তৈরির কাজটি কাজী আসাদ এতটাই পরিমিতভাবে সম্পাদন করেছেন, যাতে কোনো ক্ষেত্রেই বাড়াবাড়ি অনুভূত হয়নি। অভিনয়শিল্পীদের কাজও সেক্ষেত্রে কিছুটা সহজ হয়েছে বলেই বোধ হয়।

তবে হ্যাঁ, সিরিজের কিছু দৃশ্যে বাঙালির মনে ভয় জাগানোর চিরাচরিত উপাদান যোগ করার বিষয়টি না থাকলেই হয়তো ভালো হতো। যেমন ধরুন, একটি পর্বে অতিপ্রাকৃত সত্তাকে সেই ক্লিশে সাদা কাপড়ে হাজির করার দৃশ্যটি দেখে নতুন কিছু মনে হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ এর আগের দৃশ্যে কাফনের কাপড়ের পরিবর্তে একই চরিত্রকে রোজকার আটপৌরে সাজেই দেখা গেছে। ভূত হতে গেলেই যে সাদা কাপড় পরতে হবে, এই মাথার দিব্যি কেউ কি দিয়েছে? অথবা ভৌতিক পরিবেশ তৈরিতে কালো বেড়াল কি দেখাতেই হবে? কিংবা একই ব্যক্তির নাম যখন দুই সংলাপে দুই রকম শোনা যায়, তখনও একটু খটকা লাগে বটে।

অবশ্য দেশীয় অন্যান্য সিরিজের তুলনায় আধুনিক বাংলা হোটেল-এ ত্রুটি প্রায় নেই বললেই চলে। সব পর্বেই ক্যামেরার কাজ এক কথায় ছিল, দুর্দান্ত। কালার গ্রেডিং খুবই ভালো হয়েছে। আবহসংগীত সম্পূর্ণরূপে উপযুক্ত।   

আরেকটি দৃশ্যে মোশাররফ করিম ও রোবেনা রেজা জুঁই। ছবি: চরকি

আর সব কিছুকে ছাড়িয়ে আধুনিক বাংলা হোটেল’র সব খাবার সুস্বাদু করে তুলেছেন এর অভিনয়শিল্পীরা। বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন মোশাররফ করিম, গাজী রাকায়েত, নিদ্রা নেহা, সালাউদ্দিন লাভলু, শিল্পী সরকার অপু, এ কে আজাদ সেতু, রোবেনা রেজা জুঁই প্রমুখ। প্রত্যেকেই যার যার চরিত্রে উপযুক্ত ছিলেন। বিশেষভাবে বলতেই হবে মোশাররফ করিমের কথা। কারণ তিনটি পর্বেই তিনি মূল চরিত্রে ছিলেন। ওটিটি’র দুনিয়ায় মোশাররফ করিমের অন্যতম সেরা কাজ আধুনিক বাংলা হোটেল। বিভিন্ন রূপে, ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, এই অভিনেতা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা অনবদ্য।

সিরিজের অন্যান্য চরিত্রেও যে অভিনয়শিল্পীদের বেছে নেওয়া হয়েছে, তা ছিল সুচিন্তিত। শিক্ষকের চরিত্রে গাজী রাকায়েত, গ্রামীণ নারীর চরিত্রে শিল্পী সরকার অপু কিংবা বোর্ডিংয়ের ম্যানেজার হিসেবে সালাউদ্দিন লাভলু—সবাই দারুণ অভিনয় করেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওই চরিত্রগুলোর জন্য তাঁদের ছাড়া আর কাউকে ভাবা যাচ্ছে না। এটিই এই সিরিজের সবচেয়ে বড় সফলতা।

তিনটি পর্বের কোনগুলো বেশি ভালো? এই প্রশ্ন আসতেই পারে। সেটি বলতেই হলে দাঁড়াবে এমন—বোয়াল মাছের ঝোলের স্বাদ গুড, খাসির পায়া বেটার ও হাঁসের সালুন স্বাদে বেস্ট। আর তিনটিই পরপর চাখলে যে কেউ বিনোদিত হবেন পূর্ণ মাত্রায়। তাহলে, আজ রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর একটু ভয় চাখবেন নাকি? মন্দ লাগবে না, গ্যারান্টি!       

রেটিং: ৪.৩০/৫.০০
পরিচালক: কাজী আসাদ
গল্প: শরীফুল হাসান
চিত্রনাট্য: কাজী আসাদ
অভিনয়শিল্পী: মোশাররফ করিম, গাজী রাকায়েত, নিদ্রা নেহা, সালাউদ্দিন লাভলু, শিল্পী সরকার অপু, এ কে আজাদ সেতু, রোবেনা রেজা জুঁই প্রমুখ
ভাষা: বাংলা
ধরন: হরর, ড্রামা
মুক্তি: ৩০ অক্টোবর ২০২৪/চরকি

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ৬টি শহরে। আগামী ৫ জুন থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু...
তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলিউড তারকা আমির খান। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্কে থাকা গৌরি স্প্র্যাটকে আগামী ৫ জুলাই বিয়ে করবেন তিনি। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একান্ত...
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এর সংশোধিত তালিকায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সোনালী যুগের জনপ্রিয় নায়িকা শবনম। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের...
বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ‘মাতব্বরি’র জেরে নাকি ‘আলফা’ সিনেমার শুটিং বাধাগ্রস্ত হয়! মাসখানেক আগে যশরাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের সেট থেকে ফাঁস হয়েছিল এমন তথ্য। শোনা যায়, অভিনেতা ববি দেওলের সঙ্গে...
এক মাস পর পণ্য রপ্তানি আবার কমল। গেল মে মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৭ শতাংশ। বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এডিসের মারাত্মক ঝুঁকিতে দেশের চার জেলা- ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার। এখানে ব্রুটো ইনডেক্সে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণায় মিলেছে...
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।
মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিকদের জন্যেও সুখবর আসছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে। তাদের ওপর অগ্রিম আয়কর আদায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর।
লোডিং...

এলাকার খবর