বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ সময়ে) চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি’র মুনাফা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে এমনটাই জানিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। মুনাফা অর্জনের দিক দিয়ে বিশ্লেষকদের করা ভবিষ্যৎবাণীকে ছাপিয়ে গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন টিএসএমসি’র ভবিষ্যৎ।
তাইওয়ান সেমিকনডাকটর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, সংক্ষেপে টিএসএমসি, জানিয়েছে যে, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে তাঁদের সার্বিক মুনাফা পৌঁছেছে ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তাইওয়ানের স্থানীয় মুদ্রায় সংখ্যাটা ৩৬১ দশমিক ৬ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার। এ নিয়ে টানা চতুর্থ কোয়ার্টারে (প্রান্তিকে) দু অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করল প্রতিষ্ঠানটি।
টিএসএমসি’র সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। তাঁদের গ্রাহক তালিকায় আছে এনভিডিয়া, অ্যাপলের মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তবে তাঁরা এই সাফল্য বছরের বাকি সময়টায় অব্যাহত রাখতে পারবে কি-না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এক্ষেত্রে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতিই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্কনীতিতে তাইওয়ানের পণ্যের ওপর ৩২ শতাংশ শুল্কারোপের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ৯০ দিনের জন্য ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি কার্যকর স্থগিত করা হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে, সেমিকনডাকটরসহ বেশ কিছু প্রযুক্তি পণ্যের ওপর কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁরা নতুন শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে।
অর্থাৎ, আমেরিকায় চিপ আমদানির ওপর নতুন করে শুল্ক ধার্য করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই টিএসএমসি’র মতো চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতাদের ওপর ট্রাম্পের নতুন শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ কারণেই বছরের প্রথম তিন মাসের সাফল্যকে উদযাপন করার সুযোগ নেই প্রতিষ্ঠানটির। বরং অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের ব্যবসার প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর যথেষ্ট কারণ আছে টিএসএমসি’র।
ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে আমেরিকায় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানো। শুল্ক এড়াতে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো আমেরিকায় বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে উৎপাদন অবকাঠামো নির্মাণ করবে, এমনটাই প্রত্যাশা ট্রাম্প প্রশাসনের।
এই প্রেক্ষাপটে গত মাসেই আমেরিকায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে টিএসএমসি। এর আগে দেশটির অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ৩টি উৎপাদন কারখানা নির্মাণের জন্য আরও ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



