প্রিন্সেস ডায়ানার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাঁর রাজকীয় উপস্থিতি। কখনো লাল গালিচায় ঝলমলে গাউনে, আবার কখনো ছোট ছেলেদের পেছনে ছুটে চলা সাধারণ জিনসে, সবখানেই তিনি ছিলেন অনন্য। তবে তাঁর স্টাইলের অনেক সূক্ষ্ম দিক আমাদের চোখ এড়িয়ে গেছে বছরের পর বছর। যেমন, ছোট্ট একটা ক্লাচ ব্যাগ, যেটা তিনি প্রায় সব সময়ই বুকের কাছে ধরে রাখতেন।
১৯৮০-৯০-এর দশকে ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা ছিল আরও হিংস্র। গাড়ি থেকে নামার মুহূর্তে যদি পোশাক একটু খোলামেলা হয়, তাহলে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন আরও উগ্র হয়ে উঠত। সেই সময়, ডায়ানা নীরবে এক বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল বেছে নিয়েছিলেন, ক্লাচ ব্যাগ। তিনি যেভাবে সেটা বুকের সামনে ধরতেন, তা প্রথমে কারও চোখে পড়েনি। পরে বোঝা যায়, এটা কোনো সাজগোজের অভ্যাস নয়। বরং নিজের গোপনীয়তা রক্ষার এক পরিপাটি উপায়।
এই সহজ কিন্তু কার্যকর কৌশলই হয়ে ওঠে তাঁর স্টাইল সিগনেচার। ছোট্ট ক্লাচ ব্যাগগুলোকে পরে নাম দেওয়া হয় ‘ক্লিভেজ ক্লাচ’। কারণ, ডায়ানা এগুলো ব্যবহার করতেন ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই, ক্লিভেজ ঢাকতে। এক সময় যে ব্যাগ শুধু ফ্যাশনের অনুষঙ্গ ছিল। তা-ই হয়ে ওঠে আত্মরক্ষার প্রতীক। শব্দহীন প্রতিবাদ, নীরব আত্মসম্মানবোধ।

ব্রিটিশ রাজপরিবারে এমন নিঃশব্দ বার্তার নজির আছে আগেও। রানি এলিজাবেথ যেমন হ্যান্ডব্যাগ বদল করে জানান দিতেন, তিনি কোনো অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যেতে চান। ডায়ানার ক্লাচও ঠিক তেমনই। কিন্তু আরও ব্যক্তিগত, আরও সাহসী।
ডায়ানা প্রমাণ করে গেছেন, ফ্যাশন কেবল দেখানোর ব্যাপার নয়। পোশাক, এক্সেসরিজ, সবকিছুই হয়ে উঠতে পারে ভাষা। তিনি পোশাক পরতেন এক ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে, একটা বার্তা নিয়ে। আর সে জন্যই তিনি আজও আমাদের ফ্যাশন ও ভাবনার জগতে একজন অগ্রদূত।
এই ক্লাচ ব্যাগের গল্প তাই শুধু স্টাইল নয়। নারী-স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা আর চাতুর্যের এক অনন্য দলিল।


কেলি ব্যাগ যেভাবে হয়ে উঠল ফ্যাশনের আইকন
যে ব্যাগ কিনলে বেচা যাবে দ্বিগুণ দামে
