গোপালগঞ্জে নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। রোববার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাশেদ খান লিখেছেন, ‘গোপালগঞ্জে নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার চলছে। যাদের গ্রেপ্তার করছে অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। আমাদের দলের একজন সদস্যদের বোন জামাইকে গ্রেপ্তার করেছে, পেশায় সে একজন ভ্যানচালক। আমাদের এক ছাত্র নেতার ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে।’
জেলার ‘প্রতিটি হাটবাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার’ চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জ থেকে আমাদের দলের নেতারা এই তথ্য দিয়েছে। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের নেতারা সব পলাতক। যাদেরকে ধরা হয়েছে এদের অধিকাংশ নিরীহ মানুষ। শুধুমাত্র চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে কাদেরকে সন্তুষ্টি করতে এই গণগ্রেপ্তার?’
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরও লেখেন, ‘গোপালগঞ্জ এই দেশেরই অংশ। গোপালগঞ্জকে স্বাভাবিক করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু গণহারে নিপীড়নের শিকার হলে সেটা গোপালগঞ্জের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিবে। এই ক্ষোভ থেকে তারা বাঁচার জন্য সশস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। সেটা কিন্তু দেশের জন্য ভাল নয়। আমি পুলিশকে বলবো, হাসিনার আমলের মত হইয়েন না। বেশি বেশি গ্রেপ্তার দেখিয়ে সরকার বা কোনো দলের নেতাদের খুশি করার চরিত্র থেকে বের হয়ে আসুন। নতুবা ক্ষতির শিকার আপনারাও হবেন।’
গত বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসূচিতে হামলা হয়। এরপর আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়। আহত হন শতাধিক। সংঘর্ষের পর থেকে জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। রোববার সকাল ৬ টায় কারফিউ শেষ হয়েছে। এখন জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশের করা চার মামলায় এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অবশ্য নির্বিচার গ্রেপ্তারের তথ্য অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণগ্রেপ্তার চলছে না। যারা অন্যায় করছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। পর্যায়ক্রমে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হবে।’


গোপালগঞ্জে গুলির প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন, ‘যেখানে যে পরিস্থিতি সেখানে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’
