টানা বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ভোলায় মেঘনা নদীর ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে জেলা শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরের শিবপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ অবস্থায় জেলা শহর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মেঘনা তীরবর্তী ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়ন। এলাকার ভোলাখাল ধান, সুপারি ও ইলিশ কেনাবেচার জন্য সুপরিচিত। গরিবের দুবাই হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আলোচিত জনপদে নেমে এসেছে মেঘনার নির্মম থাবা। চলতি বর্ষায় নদী তীরবর্তী ১ কিলোমিটার এলাকার হাট-বাজার, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি এখন মেঘনার গর্ভে।
শুধু শিবপুরই নয়, গত দুই দশকে পাশর্বর্তী মেদুয়া ও ধনিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আর মাত্র ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ভাঙলেই বিলীন হতে শুরু করবে খোদ ভোলা জেলা শহর।
গত ১৫ বছরে নদীতীর সংরক্ষণ খরচ হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা জানায়, নদী ভাঙন ঠেকাতে শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ ও ৬ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসনে একটি বড় প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোলা-১ আসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, ‘ভোলার ভাঙ্গণ কবলিত এলাকাগুলো রক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ চলছে। এর মধ্যে শিবপুরকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি জরুরি প্রকল্পের মাধ্যমে গত ২ বছরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙণ ঠেকানোর চেস্টা চালানো হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্প হিসাবে ৬৮৫ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভাঙণ বন্ধ হবে।’
নদীবেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলার ৫০০ কিলোমিটার নদী তীরের মধ্যে সদর উপজেলাতেই রয়েছে ৬০ কিলোমিটার পাড়ই রয়েছে অরক্ষিত। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যে কোনো মুহূর্তে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ভোলা শহর। এমনটাই শঙ্কা নদীপাড়ের মানুষের।



