নেত্রকোণায় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সেই নেত্রীকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে দলটি।
বুধবার এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজিন দিনার সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া নেত্রীর নাম সাদিয়া আক্তার। তিনি এনসিপির নেত্রকোণা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নেত্রকোণা সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নেত্রকোণা জেলার সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাদিয়া আক্তারকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের’ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে সাদিয়া আক্তারকে নেত্রকোণা জেলার আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হলো।
একই সঙ্গে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের কাছে লিখিতভাবে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নেত্রকোণা শহরের কুড়পার এলাকা থেকে সাদিয়া আক্তারকে আটক করা হয়।
আটকের পর ওই দিন রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানিয়েছিলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা সাদিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিনি এলাকার পাঁচজনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।
পরে ৮ সেপ্টেম্বর সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হলে কারামুক্ত হন সাদিয়া।



