অটোরিকশা চালিয়ে মেয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন চাকরি পেয়ে বাবা-মায়ের সকল কষ্ট ঘোচাবে মেয়ে। চাকরি পেয়ে মেয়ে সেভাবে স্বপ্ন পূরণ করছিলেন মেয়ে। কিন্তু এক অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু শেষ করে দিলো তাদের।
বলছি নীলফামারীর সৈয়দপুরের আব্দুল হান্নানের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা অন্যন্যা ও তার বাবার স্বপনের কথা। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে মৃত্যু জন তাঁর।
নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অন্যন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বিমানবন্দর পূর্বপাড়ায়। দুই বোনের মধ্যে বড় অনন্যা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনন্যার বাবা আব্দুল হান্নান পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে। কঠোর পরিশ্রম আর মেধার জোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন অনন্যা। কিন্তু মিরপুরের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড সেই স্বপ্নকে মুহূর্তেই পণ্ড হয়ে যায়।
জানতে চাইলে অনন্যার বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। অটোরিকশা চালিয়ে তাকে মানুষ করেছি।’ কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন ছিল ওকে নিয়ে। আজ সেই স্বপ্নটাই আগুনে পুড়ে গেল।’
অনন্যার চাচা আবুল কালাম আজাদ জানান, অনন্যার পরিবার খুব গরিব। অনন্যা চাকরি পাওয়ার পরে তাঁর পরিবার কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছে। তবে গতকাল হঠাৎ করে তার ছোট বোন সূর্বণাকে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ কল দিয়ে জানায় তার বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে সেটা জানার পরে তার বাবা-মা ও ছোট-বোন গতকাল রাতে ঢাকায় যায়। পরে তারা কল দিয়ে জানায় রাতেই হাসপাতালে মারা গেছে অনন্যা।
ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, ‘আমি তাকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসতাম। চাকরিতে যোগ দিতে যখন সে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল, তখন তাকে ছাড়তে আমার খুব কষ্ট হয়েছিল। আজ সে এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, এটা কখনো ভাবিনি। তাকে হারিয়ে আমরা যেন সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছি।’
সোমবার দুপুরে মিরপুর স্টেডিয়ামের বিপরীতে অবস্থিত এল এ প্লাজা নামের ১১ তলা ভবনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ছাদ থেকে ১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ২৪ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। নিহত অপরজনের নাম শেখ রাকিবুজ্জামান। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায়।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, ‘আমি পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। তাঁর পরিবারকে কীভাবে সহায়তা করা যায় সেটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’



