অস্থিরতা শুরু হয়েছে বেকারি শিল্পে। কেক, রুটি, বিস্কুটের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি বেকারি মালিক সমিতির। ভোক্তারা বলছেন, চড়া মূল্যস্ফীতির মধ্যে বেকারি পণ্যের বাড়তি দামের কারণে ভোগান্তি আরো বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার তদারকির আহ্বান তাদের।
অটোরিকশা চালক সাজু মিয়া। প্রতিদিনের যাত্রী পরিবহনের ফাঁকে চায়ের সাথে পাউরুটি কিংবা কেক বিস্কুট খেয়ে ক্ষুধা মেটান। তবে এসব খাদ্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তিত তিনি।
সাজু মিয়া বলেন, ‘১০ টাকা রুটির দাম ১৫ টাকা হয়েছে। আমরা কাজের ফাঁকে চা-বিস্কুট খাই। এমনিতে ইনকাম কম, তার ওপর এগুলা, কীভাবে চলব আমরা?’
১২ সেপ্টেম্বর থেকে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় বেকারি মালিক সমিতি। নতুন দর অনুযায়ী, আগে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই পাউন্ডের একটি পাউরুটির দাম ১২০ টাকা। আর ৫০ টাকার রুটি ৬০ টাকা। শুধু পাউরুটি নয়, অন্য বেকারি পণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে পণ্যের আকার।
ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘যেখানে চিনি ছিল ৫ হাজার টাকার নিচে, সেখানে এক বছরের চিনির দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। এক প্রশ্ন হইলো যে আমাদেরকে তো টিকে থাকতে হবে। এদিকে আমাদের কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে। আমাদের সেক্টরে সবচেয়ে, মরার উপরে খাড়ার খা যেটা, সেটা হলো বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের দুষ্প্রাপ্যতা।’
ক্রেতারা বলছেন, নিত্য পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তালিকায় নতুন পণ্য যোগ হওয়ায় মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে।
এক ক্রেতা বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। বাজারে সবকিছুর দাম যদি বেশি হয় তাহলে আমাদের জন্য চলা সম্ভব নয়।’
আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের খুব কষ্ট হয়। অল্প টাকা আয় কিন্তু খরচ অনেক বেশি হয়ে গেছে।’
ছোট–বড় মিলিয়ে রাজধানিতে ৭০০ এবং সারা দেশে বেকারি রয়েছে ৭ হাজারের বেশি।



