দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক প্রবেশের পর এবার একই পথে হাঁটতে পারেন কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে অভিনেতা ধানুশকে ঘিরে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে তাঁর ফ্যানক্লাব আয়োজিত এক রক্তদান শিবিরে দেওয়া বক্তব্যের পর থেকেই তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ধানুশ বলেন, এত মানুষ একসঙ্গে জড়ো হওয়াটাই একটি বড় শক্তি। এই ঐক্যকে শুধু অডিও লঞ্চ বা ভক্তদের মিলনমেলায় সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা উচিত। তিনি ভক্তদের নিজ নিজ এলাকার মানুষ ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
ধানুশের এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত। জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে একটি কাকতালীয় ঘটনা। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই থালাপতি বিজয় তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন ‘বিজয় মক্কল ইয়াক্কাম’-এর পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ঠিক একই তারিখে, ২৭ জুলাই ২০২৬ সালে, ধানুশের ফ্যানক্লাবও নিজেদের পতাকার অধীনে বড় পরিসরে রক্তদান ও সমাজসেবামূলক কর্মসূচি পালন করেছে।
৪২ বছর বয়সী ধানুশের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং ‘পাশের বাড়ির ছেলে’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে আসতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেন। আবার কেউ ধারণা করছেন, তিনি থালাপতি বিজয়ের দলেই যোগ দিতে পারেন।
তবে এখন পর্যন্ত ধানুশ নিজে কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেননি কিংবা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর বক্তব্য মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভক্তদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান হিসেবেই দেখা উচিত।
একই অনুষ্ঠানে ধানুশ নিজের পরিচালিত ছবি ‘রায়ণ’ নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেন। তিনি স্বীকার করেন, ২০২৪ সালে তাঁর ছবির চেয়েও ভালো তামিল সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। কাজের দিক থেকে শিগগিরই তাঁকে ‘ওম: চ্যাপ্টার ১’ এবং ‘তামিঝ মুরুগান’ ছবিতে দেখা যাবে।


‘দৃশ্যম’-এর ‘মূল গল্পের’ রূপকার কেইগো হিগাশিনো আর নেই
