যক্ষ্মা হলে সংক্রমণ প্রতিরোধে যা করবেন

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:১১ এএম

যক্ষ্মা এক প্রকারের বায়ুবাহিত ছোঁয়াচে রোগ। এটি মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ।

সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির মাধ্যমে এ রোগটি ছড়িয়ে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির কফ, কাশি, থুথু ও হাঁচির মাধ্যমে এর জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আর তা শ্বাস–প্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়।

ফুসফুসে যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে। যক্ষ্মার জীবাণু যে কেবল ফুসফুসকে আক্রান্ত করে তা নয়, এটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি ও হাড়সহ দেহের অন্য কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সংক্রমিত হতে পারে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিদা খানম বলেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তির একটানা ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি, জ্বর, ক্ষুধামন্দা, শরীরের ওজন হ্রাস পেলে বুঝতে হবে এসব যক্ষ্মার লক্ষণ। কোনো ব্যক্তি যদি উল্লিখিত সমস্যাগুলোতে আক্রান্ত হন, তাহলে  তাকে তাঁর নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। রক্ত- কফ পরীক্ষা এবং বুকের এক্সরে পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের যক্ষ্মা নির্ণয় করা হয়। শরীরের অন্যান্য স্থানের যক্ষ্মা নিরূপণের জন্যও ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। যক্ষ্মা শরীরের কোন অঙ্গে হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে ৬ মাস হতে ২৪ মাস পর্যন্ত ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়ে থাকে।’

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিদা খানমের মতে, সঠিক সময় চিকিৎসা নেওয়া না গেলে এই জীবাণু শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে এবং চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে জীবাণুটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যক্ষ্মা রোগের লক্ষ্মণের মধ্যে আছে অনেক দিন ধরে কফ, কাশি, বুকে ব্যথা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া ও জ্বর জ্বর ভাব।

করণীয়

যক্ষ্মার প্রতিকারে আছে আধুনিক চিকিৎসা। এই চিকিৎসা একবার শুরু করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত বন্ধ করা অনুচিত। আর যক্ষ্মা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চা করতে হবে। যেমন:

১. যেখানে সেখানে কফ-থুতু ফেলবেন না।

২. যেখানে সেখানে থুতু-কফ না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে ভালোভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করুন বা মাটি চাপা দিন।

৩. নিজের ব্যবহৃত টিস্যু, রুমাল বা মাস্ক যেখানে সেখানে ফেলবেন না।

৪. কারও মুখের সামনে গিয়ে কথা বলবেন না।

৫. হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল দিন, তা না হলে অন্তত হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন কিংবা সবার সামনে থেকে একটু দূরে গিয়ে কাশি দিন।

৭. পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

৮. সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিদা খানম মনে করেন, অনেক রোগী আছেন যারা যক্ষ্মার ওষুধ শুরু করে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ না করেই ছেড়ে দেন। আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়া তখন উক্ত ওষুধগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে যায়। এই ব্যাকটেরিয়া যখন অন্য রোগীর শরীরে প্রবেশ করে, তখন এই রোগীর ক্ষেত্রে উক্ত ওষুধগুলো আর কাজ করে না। তাই প্রত্যেক যক্ষ্মা রোগীকে নির্ধারিত মেয়াদের নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করতে হবে এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসামেয়াদে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।

দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির...
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। আজ সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বন‍্যা...
হাম, ডেঙ্গু, কোভিডের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা দেখিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের মতো হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন...
গল্পগুজব করে সময় কাটালে হবে না, রোগীরা যেন যথাযথ চিকিৎসা পায় সেদিকে চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
জনস্বার্থ বিষয়ক প্রকল্পের অর্থায়নে নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভর করতে চায় না সরকার। বরং ভিন্ন ভিন্ন উৎসের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।’ ‎ ‎শুক্রবার বিকেলে যশোর কারিগারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আয়োজিত...
এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ৬১ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ১৭তম অবস্থানে রয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ ও দলীয় স্বার্থে ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির মধ্যে অনৈক্য দেখা দিয়েছে বলে মত বিশিষ্টজনদের। জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন না হওয়াও অনৈক্যের আরেক বড় কারণও বলছেন তারা। তবে সরকার এগিয়ে...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর