বর্তমান সময়ে কোরিয়ান স্কিনকেয়ার বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তার অন্যতম কারণ ‘গ্লাস স্কিন’। এই ট্রেন্ড এমন এক ধরনের ত্বকের কথা বলে যা নিখুঁত, উজ্জ্বল, মসৃণ ও স্বচ্ছ দেখায়। এক কথায় এটি হবে কাচের মতো চকচকে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ফলে কোরিয়ান স্কিনকেয়ারের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন বিউটি ব্লগার ও ইনফ্লুয়েন্সাররা যখন এই স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করেন এবং তাদের নিখুঁত ত্বক প্রদর্শন করেন, তখন অনেকেই এটি চেষ্টা করতে আগ্রহী হন। বিশেষ করে কে-পপ তারকা ও কোরিয়ান অভিনেতাদের ত্বক দেখে মানুষ আরও বেশি উৎসাহিত হয়।

কোরিয়ান ফেস মাস্কের জনপ্রিয়তা আরও একটি কারণ এটি সহজে ঘরে তৈরি করা যায়। এটি ব্যয়বহুল প্রসাধনীর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এতে কৃত্রিম রাসায়নিকের ব্যবহার নেই, তাই ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম। নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে এই মাস্কগুলো ত্বককে উজ্জ্বল, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর করতে সাহায্য করে। ফলে, অনেকেই এখন কোরিয়ান স্কিনকেয়ারকে তাদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে নিয়েছেন।
কোরিয়ান স্কিনকেয়ার প্রাকৃতিক উপাদান ও কোমল কিন্তু কার্যকরী ফর্মুলার জন্য জনপ্রিয়। এখানে ৫টি সহজ ফেস মাস্ক রয়েছে যা আপনি বাড়িতেই তৈরি করে নিখুঁত ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে পারেন।
রাইস ওয়াটার ব্রাইটেনিং মাস্ক
উপকারিতা: ত্বক উজ্জ্বল করে, স্কিন টোন সমান করে ও হাইড্রেট করে।
উপকরণ: চাল ২ টেবিল চামচ, পানি ১/২ কাপ ও মধু ১ টেবিল চামচ।
পদ্ধতি: চাল ভালোভাবে ধুয়ে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। চাল ছেঁকে নিয়ে দুধের মতো সাদা পানি সংগ্রহ করুন। তাতে মধু মিশিয়ে নিন। কটন প্যাড বা শিট মাস্ক ব্যবহার করে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
মধু ও গ্রিন টি সুত্থিং মাস্ক
উপকারিতা: ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায়, লালচে ভাব দূর করে ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে।
উপকরণ: টি ব্যাগ ১টি ও মধু ১ টেবিল চামচ।
পদ্ধতি: গ্রিন টি বানিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর তাতে মধু মিশিয়ে নিন। মুখে পাতলা স্তর করে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
দই ও হলুদের ব্রাইটেনিং মাস্ক
উপকারিতা: ত্বক উজ্জ্বল করে, দাগ দূর করে ও ব্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
উপকরণ: টক দই ২ টেবিল চামচ, হলুদ ১/২ চা-চামচ ও মধু ১ টেবিল চামচ।
পদ্ধতি: সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
ডিমের সাদা অংশ ও অ্যালোভেরা টাইটেনিং মাস্ক
উপকারিতা: ত্বক টানটান করে, রোমকূপ ছোট করে ও হাইড্রেট করে।
উপকরণ: ১টি ডিমের সাদা অংশ ও ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল।
পদ্ধতি: ডিমের সাদা অংশ ফেনা হওয়া পর্যন্ত ফেটিয়ে নিন, তারপর এতে অ্যালো ভেরা মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০-১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ওটমিল ও দুধের হাইড্রেটিং মাস্ক
উপকারিতা: ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে, সংবেদনশীল ত্বককে শান্ত করে ও এক্সফোলিয়েট করে।
উপকরণ: ২ টেবিল চামচ ওটমিল ও ৩ টেবিল চামচ দুধ।
পদ্ধতি: ওটমিল ১০ মিনিট গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।


নরম ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য দরকার গোলাপ ও জুঁই এসেনশিয়াল অয়েল
ত্বকের যত্নে কোন শীট মাস্ক ব্যবহার করেন বিটিএস জিমিন, জানেন?
