জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রব্বানী জব্বার পাচ্ছেন ‘বিনামূল্যে বই ছাপানো’ কার্যক্রমের দেড় কোটি বই ছাপানোর কাজ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। গণঅভ্যুত্থানের পরও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীদের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পুনর্বাসন করছে বলে অভিযোগ শিক্ষা গবেষকদের।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা পালিয়ে আছেন। সরকারি দপ্তরগুলোতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিছু সুবিধাভোগীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এখনো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বহাল তবিয়তে সুবিধা ভোগ করছে এদের অনেকে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে এ বছরও দেড় কোটি বই ছাপানোর কাজ পাচ্ছে হত্যা মামলার আসামি রব্বানী জব্বারের দুটি প্রতিষ্ঠান। রব্বানী জব্বার আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের ভাই। নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হন তিনি।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে যে, এই যে যারা এই কাজগুলো করেছে গত ১৫ বছর ধরে, তাদের তো শাস্তির আওতায় আনা উচিত। যদি মামলাই থাকে, তাদের গ্রেপ্তার না করে কীভাবে তারা এখন পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মোস্তফা জব্বারের ভাই রব্বানী জব্বারকে কে-না চেনে?’
এনসিটিবিতে এখনও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী অনেক কর্মকর্তা-ব্যবসায়ী বহাল তবিয়তে আছে। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুদ্রণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান। তিনি বলছেন, ‘৫ আগস্টের পর এনসিটিবিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এনসিটিবির আগের শক্তিগুলো শক্তি আরও বৃদ্ধি করে এগিয়ে যাচ্ছে। এনসিটিবির একটি চক্র এবং আওয়ামী লীগের একটি ব্যবসায়িক চক্র মিলে সত্যের বেড়াজালে অনেককে সরিয়ে রাখতেছে, অনেকে ধারেকাছে যেতে পারছে না।
এনসিটিবি অবশ্য বলছে, দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পেলে কিছুই করার থাকে না। এরপরও বিষয়টি দেখা হবে। এনসিটিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবির চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান দেখে হলো আইনকানুন। রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন ফলো করে আসছে কিনা লোকজন। যারা নিয়ম মেনে আসবে, তারাই। এখন যেটা বলা হচ্ছে, সেই ধরণের কোনো নির্দেশনা বা কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সবকিছু করতে হবে আইনের মধ্য দিয়ে।’
এনসিটিবির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।



