গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের নামে বিভিন্ন দেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন অভিযোগ করেছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি। শনিবার সকালে রাজধানীতে এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কূটনীতি নেওয়া জরুরি।
ইরান যুদ্ধ এবং এর আঞ্চলিক ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিষয়ে রাজধানীর বনানীতে সেমিনার করেছে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। এতে অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তারা ইরানের বিপক্ষে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং এর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সেমিনারে সাবেক উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এ বিষয়টি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনীতিকরা ধরতে পারছেন কি না—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব একশক্তির প্রভাব থেকে বের হয়ে আসছে। একাধিক শক্তিকেন্দ্রের পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নতুন সরকারের নেতৃত্বে প্রস্তুতি নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এখনো প্রতিরক্ষা নীতি নেই। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পরিবর্তন আসছে। দক্ষিণ এশিয়াসহ পুরো এশিয়া পাল্টে যাচ্ছে।’
সেমিনারে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে নিজেদের বিজয় সুনিশ্চিত দাবি করে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি জানান, যুদ্ধটি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কথা বলে চালানো এ যুদ্ধের মূল লক্ষ্য চীনসহ এশিয়ার ক্ষমতা খর্ব করা।
জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, ‘গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারের নামে চীন, রাশিয়া, ইরানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব কর্মকাণ্ড, তা মূলত এশিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তারের বাহানা ছাড়া কিছুই না।’
জয়ের আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর সমস্যা নেই, সমস্যা সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর। ইরান চায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও দপ্তর বন্ধ হোক।’



