জাতীয় নির্বাচনে ঘটা করে অংশ নিলেও, উপজেলার ভোটে নেই নতুন নিবন্ধিত দল তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)। একদল বলছে, জামানতের টাকা বাড়ানোর কারণে অংশ নিচ্ছে না তারা। আবার কারও দাবি, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। অন্যদিকে বিএনএফ প্রার্থী দিলেও বলছে নিয়ম রক্ষার জন্যই অংশ নিচ্ছে তারা।
দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪৪টি। এর মধ্যে ৭ জানুয়ারির ভোটে অংশ নিয়েছে ২৮টি দল। তবে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছ মাত্র চারটি দল। ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ অনেক দলও বর্জন করেছে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আসা নতুন নিবন্ধিত দল তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএমও প্রার্থী দেয়নি উপজেলা নির্বাচনে। উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের নতুন জামানতের নিয়মের সমালোচনা করেন দলের নেতারা।
তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘যেহেতু যেভাবে হোক আমরা জাতীয় নির্বাচন করেছি, সেহেতু আমরা উপজেলা নির্বাচনে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের যেসব কর্মকাণ্ড, সিদ্ধান্ত এতে একটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে গেছে।’
তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে নমিনেশন ফি হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। আর উপজেলা পর্যায়ে হলো এক লাখ টাকা। এতেই বোঝা যায় যে সর্বসাধারণ যাতে নির্বাচন করতে না পারে।’
বিএনএমের মহাসচিব ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘একটি জিনিস আমরা ওপেন রেখেছি, তা হলো সারা বাংলাদেশ থেকে আমাদের বিএনএমের কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় তাহলে সেটি যেহেতু দলীয় ভিত্তিতে বা দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, সেহেতু তিনি তার নিজ দ্বায়িত্বে এটি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের যেমন বাধা নেই, তেমনি আমাদের কোনো সায় আছে তাও নেই।’
এদিকে তৃণমূল বিএনপি-বিএনএম উপজেলার ভোটে না এলেও, অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)। তবে তারাও মনে করে ভোট সুষ্ঠু হবে না, যাচ্ছে শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য।
বিএনএফের সভাপতি এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা ২৫৩ জন প্রার্থী নিশ্চিত করেছি এবং শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে থাকবে। কেউ প্রতীক নিয়ে থাকবে, কেউ প্রতীক ছাড়া থাকবে। আমরা চাই নির্বাচনটা যাতে সব জায়গাতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় না হয়।’



