সুব্রত কুমার দাসের সাক্ষাৎকার 

বাংলাদেশি নভেলস ওয়েবসাইটের প্রারম্ভ এবং দীর্ঘ পথপরিক্রমা–০২

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৫৮ পিএম

["মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে
আমি মানব
একাকী ভ্রমি
বিস্ময়ে... ভ্রমি বিস্ময়ে"! (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) 

জীবনের মনোরথ অবিরাম ছুটে চলার। তাতে সওয়ার হয়ে পাড়ি দিতে হয় বহুক্রোশ দূরের পথ। যাওয়ার পথে কতকিছুই নিমিষেই চোখের আড়ালে চলে গিয়ে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যায় আর কিছু চিরকালীনতায় রয়ে যায় হৃদয়ের মণিকোঠায়। যখন আমরা এসব পরিক্রমা অতিক্রম করছি তখন ঘূর্ণাক্ষরেও টের পাই না সবই আমাদের ঋদ্ধতার ফল।

মাতৃভূমি থেকে প্রবাসে, স্বদেশ থেকে পরবাসে, ফরিদপুর থেকে টরেন্টোতে। এ বছর তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ "উৎস থেকে পরবাস" প্রকাশিত হয়েছে। এতে রয়েছে নানান অজানা অধ্যায়।  শৈশব স্মৃতি রোমন্থন করা থেকে শুরু করে কর্মজীবন, সাহিত্যের জগতে প্রবেশ, কানাডায় আগমণ, কিছু হৃদয়গ্রাহী মানুষের সংস্পর্শ, কানাডার সাহিত্য জগতে প্রবেশ, বিচরণ, ধীরে ধীরে কাজের প্রসার বৃদ্ধি। দুই দেশকে একটি বিষয় সংযুক্ত করেছে তা হচ্ছে তাঁর সাহিত্য প্রীতি। আরও স্পষ্ট করে বললে, তিনি সংযুক্ত করেছেন নিজ মাতৃভূমি এবং কানাডাকে এক সূত্রে। আর এ কাজটি তিনি করেছেন নিজের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন ওয়েবসাইটের  এর মাধ্যমে।

এই দীর্ঘ সফরের বিভিন্ন সময়ের টুকরো স্মৃতি কথা আজ আমাদের শোনাচ্ছেন শিক্ষক, লেখক, গবেষক, সমালোচক, উপস্থাপক এবং বিশিষ্ট সংগঠক সুব্রত কুমার দাস। ঊনষাট বছরের পথচলায় যা কিছু পাথেয় রয়েছে তা জানতে আমরা প্রচেষ্টা করেছি। এই প্রচেষ্টায় আমাদের সাথে রয়েছেন কানাডার হ্যালিফ্যাক্স শহরের তরুণ লেখক অতনু দাশ গুপ্ত।]

অতনু:  নতুন আঙ্গিকে যে ওয়েবসাইট আমরা পেতে চলেছি তাতে কী কী সংযুক্তি বা প্রতিস্থাপন দেখতে পাব? 

সুব্রত কুমার দাস: আমি ওয়েবসাইট নিয়ে যেটি করতে চলেছি সেটি হচ্ছে এটিকে একটা রিসোর্স হিসেবে অনলাইনে রাখতে চাইছি। যারা সাহিত্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাঁরা এটি বোঝেন। মনে রাখতে হবে আমার সাইটটি কোনো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট নয়! আর এটি শুধুমাত্র উপন্যাস নিয়ে বা সাহিত্য নিয়ে। এটি জনপ্রিয় হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। কিন্তু যা করছি এবার তা হচ্ছে ওয়েবসাইটের আদলটা আমরা পরিবর্তন করতে চলছি। কারণ ওয়েবসাইটের লুক পরিবর্তন করতেও কিন্তু যথেষ্ট পরিশ্রম লাগে। মানে এবার যেটা হবে যতগুলো লিঙ্ক ব লেখা রয়েছে সেগুলোর জন্যে নন্দিত আার্টিস্ট মোস্তাফিজ কারিগরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সবগুলো লেখার জন্য তিনি একটি করে স্লাইড তৈরি করছেন এবং আরেক ছাত্রসমতুল্য শাহাদাত হোসেন স্লাইডগুলোর সাহায্যে ওয়েবসাইটের আদলের একটা নতুন বিন্যাস আনছে। এই যে নব্য সংযোজন এবং পরিমার্জন আসছে এটা নিয়ে আমরা একটা অনুষ্ঠান করবো।  এর ফলে অনুষ্ঠান নিয়ে সংবাদ প্রচার হবে, মানুষজন আরও জানবেন ওয়েবসাইট  সম্পর্কে। পরিচিত হবেন।  অনেকেই তো জানেন না। আমরা নিজেদেরকে আরও উৎসাহিত করবো এবং ভাববো যে আর কী কী সেখানে সংযোজন করা যায়। 

অতনু: বাংলা ভাষার পাশাপাশি তাহলে একইভাবে ইংরেজিতে যেসমস্ত প্রবন্ধ রয়েছে তাতেও আমরা একই ব্যাপার প্রত্যক্ষ করবো আশা করি।

সুব্রত কুমার দাস:  অবশ্যই!  পুরোপুরি ওয়েবসাইটকে নতুনভাবে সাজিয়ে আমরা এবার আরও যত্নবান হয়েছি। এই যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে তাতে আমরা বেশ কিছু পৃষ্ঠপোষক বা কোম্পানিকে যুক্ত করেছি। এতে অর্থ্যায়নের ব্যবস্হা হবে। কারণ এত বড় কর্মযজ্ঞের পেছনে যারা কারিগর, যেমন আর্টিস্ট, ওয়েব ডিজাইনার, এরা অনেকদিন ধরে কাজ করেছেন। আমি নিজেও গত কুড়ি বছর  ধরে যে ডোমেইনের খরচ বহন করেছি এতে তো অর্থের প্রয়োজন আছে। তাই বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের যদি জোগান হয় তাহলে কাজের উৎসাহ বাড়বে, নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রয়াস পাব আমরা।

অতনু: আচ্ছা,  এর পরবর্তী যে প্রশ্ন মাথায় আসছে তা হল আগের ওয়েবসাইটে আমরা যেসমস্ত সাহিত্যিকদের দেখতে পাচ্ছি বা তাদের নানান সৃষ্টিকর্ম এখানে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আরও কি কি নতুনভাবে সংযুক্তি ঘটতে পারে?

সুব্রত কুমার দাস:  ওয়েবসাইটটির শুরুতে যদি আমরা একটু ফিরে তাকাই তাহলে দেখবো তখন সব লেখাই কিন্তু আমার নিজের ছিল। পরবর্তীকালে আমি অন্যান্য লেখকদের লেখার সমাবেশ ঘটাই। নতুন লেখকদের  লেখা পাঠাতে বলি, তাদের সাক্ষাৎকারের আয়োজন করি, অন্যান্য লেখকদের লেখাও এখানে রেখেছি। বলা যায় সবাইকে নিয়ে একটা সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছি। ওয়েবসাইটের ব্যাপারটা তো এমন যে এর প্রতিনিয়ত সংস্করণ করা যায়। একটি বই যেমন একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে এর পরবর্তী সংস্করণ না বেরুনো পর্যন্ত এর কোন পরিমার্জন করা যায় না,  ওয়েবসাইটে কিন্তু তা নয়। কাজেই বলবো এই যে ক্রমাগত পরিবর্তন করার মত অর্থের জোগান যদি আমরা করতে পারি এর কার্যক্রম আগামীতে নিয়মিতভাবে চলতে থাকবে।

অতনু:  আমরা আবার একটু শুরুর দিকে ফিরে যাচ্ছি। ২০০৩ সালে প্রারম্ভিক পর্যায়ে যখন এর যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন অর্থের উৎস কী ছিল? আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন এতে ব্যয়ের একটি একটা বিষয় জড়িত রয়েছে। 

সুব্রত কুমার দাস:  খুবই ভালো একটা প্রশ্ন।  অর্থের যে প্রশ্নটি এখনও রয়েছে, শুরুতেও তা ছিল। আমি একটু পাগল প্রকৃতির মানুষ কি না, তাই মনের মধ্যে যদি কোন উদ্যোগ অংকুরিত হয় তাহলে যে কোন মূল্যেই আমি সেটা করতে চাই। চেষ্টা করি যদি এর ব্যবস্হা করা যায় আর না হলে এর খরচ নিজেকেই করতে হয়েছে। গত বিশ বছর ধরে এই যে ব্যয়ভার মেটানোর ব্যাপার তা আমি নিজের ঘর থেকেই দিয়েছি। যখন ডোমেইন কেনা হয়েছিল বা ওয়েবসাইট ডিজাইন করে দেওয়ার কাজটি এটা যাদের সাথে আমি করেছিলাম ওরা আমাকে বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। কারণ ওদের আমি সাহায্য করেছিলাম। এরপরে আমরা যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম, এতে আমার সহধর্মিণী নীলিমা দত্ত সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি একটি সঞ্চয়পত্র ভেঙে বিশ হাজার টাকা আমার হাতে তুলে দেন।  আমি মনে করি নীলিমা ওইদিন এমন একটি কাজ করেছিলেন বলে আমার একটি অপূর্ণ স্বপ্ন পূর্ণতার রূপ পেয়েছিল।

অতনু:  প্রথমদিকের যাত্রা শুরু হয়ে যাওয়ার পর এত বছর ওয়েবসাইটের ব্যয়ভার বহন কি তাহলে নিজেকেই করতে হয়েছিল?

সুব্রত কুমার দাস:  হ্যাঁ, মোটামুটি তাই। আমি নিজেই বহন করে চলেছি। তবে টরন্টো আসার পরে আমি বেশ কয়েকজন পরিচিত মানুষের কাছে অর্থ সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। ইচ্ছে ছিল যদি এতে বিজ্ঞাপন সংযুক্ত করা যায়। এখন টরন্টো শহরে আমার ভিত্তি তখনকার তুলনায় বেশ পাকাপোক্ত হয়েছে। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী অর্থ প্রদানের ব্যাপারে উৎসাহী হয়েছেন।  এবার আমরা সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে আরও এগিয়ে যাব বলে আমার বিশ্বাস।

অতনু: কথার মাঝে আমরা জেনেছি যে প্রথম যে ডোমেইন ছিল তা হারিয়ে গিয়েছিল, সেটা পুনরায় উদ্ধার হলো কিভাবে?

সুব্রত কুমার দাস: উদ্ধার বলতে আগের যে ডোমেইনটি ছিল সেটি আর আমরা রাখতে পারিনি। তার পরিবর্তে আমরা নতুন একটি ইউআরএল পেয়েছি।

অতনু: আপনার ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলেন। বর্তমানে আপনাদের যেসব কর্মযজ্ঞ চলছে, এক সময় এর আপাত সমাপ্তি ঘটবে। যদিও এর পরিমার্জন বা সংস্করণ চলতে থাকবে। এরপর আজ থেকে পাঁচ বা দশ বছর পর ওয়েবসাইটকে আপনি কী অবস্থায় দেখতে চান? 

সুব্রত কুমার দাস: আমি চেয়েছি এটিকে ক্রমেই একটি মূল্যবান সংরক্ষণাগার হিসেবে গড়ে তুলতে। আমার ওয়েবসাইট তো আর পত্রিকা নয়। আমি একে উপন্যাস সাহিত্যের একটি মূল্যবান সংগ্রহশালা হিসেবে গড়তে চেয়েছি। যাতে করে পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে বসে কোন বাংলা ভাষার সাহিত্য অনুরাগী কিছু তথ্যের খোঁজ করলে তিনি যেন তা পান। এভাবেই সবার জন্য বাংলা উপন্যাসের সাহিত্যের বিভিন্ন তথ্যকে আরও সহজলভ্য করা।

বিশ বছর যাবৎ এর যে পথচলা তাতে আমার মনে হয় এতে দুই থেকে তিন হাজারের পৃষ্ঠার সমানসংখ্যক উপাদান এতে রয়েছে। বিদেশে বসে কেউ যদি বাংলা সাহিত্য নিয়ে ভাবতে চান তা যেন করতে পারেন।
একদম শুরুর কথা যদি একটু বলি, একটি ওয়েবসাইটে কয়বার হিট করছে বা প্রবেশ করছে সেসবের একটা হিসাব করার ব্যাপার আছে। আমি কিন্তু শুরুতে এসব  জানতাম না। কারণ প্রযুক্তি সম্পর্কে আমার ধারণা ততটা ছিল না। প্রথমদিকে আমি এসব না জানলেও পরেরবার আমি আর খালেদ যখন এর কাজ করছিলাম তখন এসব বিষয়ে আরও পাকাপোক্ত হই। 

২০০৫ সালের ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয়বারে যখন অনুষ্ঠান হয়েছিল যখন আমরা বাংলা বিভাগ যুক্ত করলাম তখন সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মুস্তাফা নূরউল ইসলাম। তিনি আমাকে এবং আমার করা বিভিন্ন কাজকে ভালোবাসতেন। তিনি আসলেন, ওয়েবসাইটের বাংলা বিভাগের উদ্বোধন করলেন। একটা ছোট্ট তাবুর মতো করে আমরা এর উদ্বোধন করেছিলাম। বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আমরা এটার ব্যবস্হা করলাম। প্রজেক্টর দিয়ে এর অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্হা করা হয়েছিল।  তখন দ্য ডেইলি স্টারে এই অনুষ্ঠান নিয়ে খবর প্রকাশিত হল। ডেইলি স্টারের এ খবরের লিংক এখনও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। (Bangladeshi novels add Bengali section - The Daily Star)। অনুষ্ঠানের পরদিন সকালে আমি অবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখি মোট চুয়াত্তর হাজারবার সাইটে প্রবেশ করেছেন পাঠক। তাও একদিনের ব্যবধানে! এত মানুষের একসাথে ওয়েবসাইটে পরিদর্শন করার এ ঘটনাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল। কারণ ২০০৩ সালের আগে বাংলা ভাষার সাহিত্য নিয়ে কোনো ওয়েবসাইট  ছিল না। ২০০৫ সালে যখন আমরা বাংলা ভাষাকে সংযুক্ত করি তখনও আমার মনে হয় অন্য আর কোনো ওয়েবসাইট হয়তো ছিল না। বিষয়টা আমার অবশ্য অতটা জ্ঞাত না। ওই সময়েও ইউনিকোডের দেখা আমরা পাইনি। প্রচুর মানুষ তখন ওয়েবসাইটের বিভিন্ন বিষয় শুধু পড়েছেন তা নয়,  আমাকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। অধিকাংশই উত্তর আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে।  ইন্টারনেটে তারা বাংলা সাহিত্যের বিষয়গুলো দেখে আনন্দিত, আপ্লুত হয়েছেন।
শুধু তা-ই নয়, অনেক বইতেও কিন্তু আমার ওয়েবসাইটের কথাটা উল্লেখিত হয়েছে। চাইবো এটা সাহিত্যের উপন্যাসের নানান উপাদানের সমষ্টি ঘটিয়ে সবার কাছে তথ্যের ভান্ডার হয়ে থাকবে। আগামী সময়ে এসব নিয়ে আরও বেশি সক্রিয় থাকবো এইটুকুই বলতে পারি।

অতনু: খুব ভালো লাগলো পুরো ব্যাপারটা জানতে পেরে। আমার বিশ্বাস পাঠকদেরও সেরকম অনুভূতি হবে। এ ওয়েবসাইটটি দুই বাংলার সাহিত্যকেও যুক্ত করেছে। আমরা এখন আপনার ওয়েবসাইটের পশ্চিমবাংলার যেসব সাহিত্যিকদের লেখা যেমন ননী ভৌমিক, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, সাবিত্রী রায়, লোকনাথ ভট্টাচার্য, এদের বাছাই করার বিষয়টা জানতে চাইবো। এই আগ্রহের কারণ হচ্ছে তারা কেউই তেমন পরিচিত নন তবু আপনি কেন তাঁদের নিয়ে পেইজ বানালেন।

সুব্রত কুমার দাস: আমি এ লেখকদেরকে নিয়ে বই বা পত্রিকাতে লিখেছি। ইচ্ছে করেছে  লেখাগুলো এ ওয়েবসাইটে থাকুক। হয়তো ন্যয্যতার প্রশ্নে অতটা যথার্থ মনে হবে না। ধরা যাক, সাবিত্রী রায় প্রসঙ্গে আমি একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলাম। সেটা এখানে রেখে দিয়েছি। মনে হয়েছে কোনোদিন যদি কারও প্রয়োজন হয় তারা এখান থেকে পড়তে পারবেন, জানতে পারবেন। এক পত্রিকা তাঁকে নিয়ে রচিত আমার এ প্রবন্ধটি বেশ যত্ন নিয়ে ছেপেছে। আরও অনেকেই এখান থেকে নিয়ে ছেপেছেন।  এই তো! 

অতনু: কম পরিচিত সাহিত্যিকদের নিয়ে লেখা রাখার ধারণাটা কীভাবে আসলো বা কেন? ওরা অপরিচিত, এজন্য?   

সুব্রত কুমার দাস: বিষয়টি সেরকম নয়। চেয়েছি যাকে আমি লিখেছি, হয়তো বিভিন্ন বই থেকে নিয়েই লিখেছি। লেখাটা কোথায় থাকবে? তখন আমার ওয়েবসাইটেই রেখে দিলাম। যেন সবাই প্রয়োজনে পড়তে পারে।

অতনু: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, জানতে চাইবো যারা কানাডার বর্তমান প্রজন্ম, বাংলা বলতে পারে না। তাদেরকে এ ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না বা এমন কোন পরিকল্পনা আছে কি না?

সুব্রত কুমার দাস: এটা তো একটা বিশাল আয়োজনের অংশ। প্রবাসে যারা বাংলা ভাষাভাষী রয়েছেন পরবর্তী প্রজন্মের, তাদেরকে আমাদের সাহিত্যের ভুবনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজটি মূলত  সরকারের করা উচিত ছিল। বাংলাদেশি সাহিত্য সেটা ইংরেজিতে করা হলে সেখানে বিভিন্ন সেকশন থাকতে পারতো যেমন - গদ্য, পদ্য, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, অন্যান্য রচনা, গবেষণা। ধরা যাক এমন দশটা বিভাগ থাকলো, এর অধীনে দুইশত পাঁচশত করে লিংক থাকবে। সরকারের ব্যবস্হাপনায়  কাজটি হতে হবে। এতে কোটি টাকার খরচের ব্যাপার আছে। বিশ–পঞ্চাশ জনের একদল অভিজ্ঞ মানুষের সমাবেশ ঘটিয়ে দুই পাঁচ বছরের একটি প্রজেক্ট করতে হবে। ইংরেজি ভাষায় এভাবে যদি কাজটি করা হয় তাহলে যারা প্রবাসে থাকা ছেলেমেয়ে, বাঙালি বংশোদ্ভূত, তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশের সম্পর্কে  এসব জানতে পারবে। 

এটা তাঁদের চাপিয়ে দেওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। তাঁরা যদি ইংরেজিতে ভালো প্রবন্ধ পায়, ভালো অনুবাদ পায়। ধরা যাক,  শামসুর রাহমানের কবিতা, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর উপন্যাস। এমন কোনো ভালো ইংরেজিতে অনুবাদ তাঁরা যদি পায়, তখন সে বাংলা ভাষায় সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হবে,  আরও জানতে চাইবে। এ কাজটি অনেক বড় মাপের একটি উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। এমন একটি কাজ যে করা সম্ভব এ ভাবনাটি কিন্তু আমার ওয়েবসাইট নির্মাণের প্রথম থেকে ছিল। এজন্যই করতে চেয়েছিলাম, যারা প্রবাসে থাকেন এক্ষেত্রে আমি ভেবেছিলাম যারা অবাঙালি, তাদের কথা। তারা যদি বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে জানতে চান, তারা যেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন। সেই তাগিদ থেকেই এতগুলো প্রবন্ধ বা লেখাকে আমি নিজের ওয়েবসাইটে রেখেছিলাম। বাংলা ভাষা বা সাহিত্যকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

অতনু: পুরো ওয়েবসাইট অ্যাখ্যানের অনেকটাই আমরা এতক্ষণ জেনেছি। হয়তো এরপরও কিছু কথা রয়ে গেছে কারণ আপনিই বলেছেন, মানুষ কখনোই তার গল্প পুরোপুরি বলতে পারে না!  যতটুকু আমরা জেনেছি, ঋদ্ধ হয়েছি। অনেক পুরনো একটা স্বপ্নকে ধরে রাখা এবং এর অনুক্রমিক যত্নশীলতা আমাদের নতুন কিছু করতে উত্তরোত্তর অনুপ্রাণিত করে।  আমার দৃঢ় বিশ্বাস পাঠকরাও শুরুর দিকের অনেক অজানাকে জানতে পারবে এর মধ্য দিয়ে। পরিশেষে উপসংহারে আমাদের জন্য যদি কিছু বলেন।

সুব্রত কুমার দাস:  এটুকুই বলতে পারি যে কিছু বন্ধুবৎসল মানুষ যদি এ কাজে  আমার পাশে এসে দাঁড়ান, তাহলে এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আরও বাংলা সাহিত্যের  বৃহত্তর চিত্রকে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আরও লেখকদের আমরা সম্পৃক্ত করবো।  বহুদিনের এ লালিত স্বপ্নকে বৃহত্তর পর্যায়ে নিতে আমরা সচেষ্ট থাকবো সবসময়। 

 

লন্ডনের মাটিতে লাল-সবুজের আরও একটি গর্বের পতাকা উড়ল। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লন্ডনের মেইজব্রুক ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার...
কানাডা সাহিত্য উৎসব ২০২৬-এর সূচনা বক্তব্যে একত্রিশ গ্রন্থের লেখক অনুবাদক ও সাহিত্য সংগঠক সুব্রত কুমার দাস কানাডার মূলধারার সাহিত্যের সাথে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখার জন্য বাঙালি সাহিত্যিকদের...
আল মদিনা হাইপার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন আলী বলেন, ‘গ্রাহকদের আস্থার প্রতি সম্মান রেখেই বিরকাতুল আওয়ামীরে এই শাখাটি চালু করা হয়েছে। উন্নত সেবার পাশাপাশি সেরা মানের পণ্য সরবরাহ...
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির...
দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ- ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে রোববার ভোর ৪টা থেকে। টুর্নামেন্টে গ্রুপ সি'র প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফিফা...
যারা বাজেটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এসময় কেউ যেন দেশের...
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি। অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা আজ...
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে গিয়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. ইসমাইল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সবুজ নামে এক পথচারী গুরুতর আহত...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর