গত ২৩ জুলাই ব্রডব্যান্ড ও গত ২৮ জুলাই মোবাইল ইন্টারনেট চালু হলেও এখনও দেশে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও টিকটক ব্যবহারের অনুমতি নেই। সেজন্য ব্যবহারকারীর অনেকেই এখন ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলো ব্যবহার করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিপিএন ব্যবহার সাইবার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার আশঙ্কাও আছে।
এ নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ভিপিএন ইন্সটল করার পর চাইলে পার্সোনাল কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক্সেস করতে পারে ভিপিএন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি কমে যায় ইন্টারনেট সংযোগের গতিও।
তানভীর হাসান জোহা বলেন, ভিপিএন যখন ব্যবহার করবেন তখন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান চাইলেই পরে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন ওয়েবসাইটের হিস্টোরি, পাশাপাশি যতধরনের যোগাযোগ সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে। এমন চুক্তি ভিপিএন ডাউনলোডের সময়ই তারা করে নেয়।
ফেসবুক ব্যবহারকারীর দিক থেকে বিশ্বে প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ জন। এ ছাড়া বাংলাদেশে ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের সিংহভাগই এফ-কমার্স উদ্যোক্তা (ফেসবুক-ভিত্তিক উদ্যোক্তা), ফেসবুকে যাদের বিজনেস পেজের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি।
স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুক ব্যবহার করতে না পেরে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। আর তাই শরণাপন্ন হয়েছেন ভিপিএন প্রযুক্তির। গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে ভিপিএন প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫০০ থেকে ৫০১৬ শতাংশ পর্যন্ত।
সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে টানা ৫ দিন বন্ধ ছিল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ ছিল টানা ১০ দিন।
ভিপিএন কী?
ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক হচ্ছে ইন্টারনেটে একটি ডিভাইস আর নেটওয়ার্কের মধ্যে এনক্রিপ্টেড কানেকশন। এনক্রিপ্টেড কানেকশন-এর অর্থ হচ্ছে এই কানেকশন ব্যবহার করে আপনি সেইফলি সেনসিটিভ ডেটা আদান-প্রদান করতে পারবেন। অন্য কোনো থার্ডপার্টি এটা এক্সেস করতে পারবে না। সহজ করে যদি বলি, ইন্টারনেটে পরিচয় গোপন রেখে অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করার একটি মাধ্যম হচ্ছে ভিপিএন।


ভিপিএন কী, ঝুঁকি কতটুকু?
