ব্যাটারি স্টোরেজের বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য ক্রমশ আরও সুসংহত করছে চীন। এই প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংরক্ষণের লড়াইয়ে চীনের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে উত্তর আমেরিকা।
বেঞ্চমার্ক প্রতিষ্ঠান মিনারেল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর (২০২৫ সালে) রেকর্ড ১৭৪ দশমিক ১৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নতুন ব্যাটারি স্টোরেজ সক্ষমতা যুক্ত করতে সমর্থ হয়েছে চীন, যা উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে যুক্ত হওয়া সক্ষমতার তিনগুণ।
আরও জানা গেছে, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপনের ক্ষেত্রে গত বছর চীনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীনের ব্যাটারি স্টোরেজ সক্ষমতা ছিল ১২৩ দশমিক ৯৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে সারা বিশ্বে স্থাপিত মোট ৩১৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টা স্টোরেজের অর্ধেকের বেশি এককভাবে সংস্থান করেছে চীন। চীন সরকারের সবুজ জ্বালানিতে রুপান্তর (গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন) নীতি এবং গ্রিড-স্কেল প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের কল্যাণেই এই ব্যাটারি স্টোরেজে এই সাফল্য অর্জন করেছে দেশটি।
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রভাব বিশ্লেষণ করে শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এই প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ এসেছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। সরকারের ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চাপে বছরের শেষ মাসে ৬৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি সক্ষমতা যুক্ত করা হয়, যা গত বছরের তুলনায় ১৩৫ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, চীন সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে নিজেদের ব্যাটারি স্টোরেজ সক্ষমতা দ্বিগুণ করার জন্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকায় গত বছর মাত্র ৫৭ দশমিক ৮ গিগাওয়াট-ঘণ্টা সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডেটা সেন্টারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেলেও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) স্থাপনের গতি চীনের তুলনায় ধীর।
২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় ৭৯ দশমিক ২৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টা স্থাপনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে চীন প্রায় ২৩৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা নতুন সক্ষমতা যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাটারি সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ট্রাম্প প্রশাসনের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক প্রকল্প বাতিল হচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রকল্প বাতিলের হার ৩৪০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া মার্কিন ভর্তুকি পেতে হলে চীন-বহির্ভূত উৎস থেকে ব্যাটারি সংগ্রহ করার যে শর্তারোপ করা রয়েছে, তার বাস্তবায়ন বর্তমানে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ ক্যাটল এবং বিওয়াইডি-এর মতো শীর্ষস্থানীয় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোই ব্যাটারি স্টোরেজের বৈশ্বিক বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ নীতিমালার কারণে উত্তর আমেরিকা ও চীনের মধ্যে এই ব্যবধান আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: নিক্কেই এশিয়া



