মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা'র ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশনের অধীনে গত ১ এপ্রিল চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটির ৪ নভোচারী। আজ শনিবার নাসা জানিয়েছে, চাঁদের পথে ইতোমধ্যেই অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়েছে নভোচারীদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি।
বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৮টার দিকে 'নাসা আর্টেমিস' নামের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট এ তথ্য জানানো হয়।
নাসা আর্টেমিস-এর ফেসবুক পোস্ট বলছে, 'আমরা অর্ধেক পথ পাড়ি দিয়েছি। এই পোস্টটি করার সময় পর্যন্ত, আর্টেমিস-২ মিশনটি চাঁদের পথে প্রায় অর্ধেক দূরত্ব অতিক্রম করেছে। নভোচারীরা সেখানে পৌঁছানোর পর একটি চন্দ্র ফ্লাইবাই (লুনার ফ্লাইবাই) সম্পন্ন করবেন এবং চাঁদের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবেন।'
ওরিয়ন মহাকাশযানের সোলার অ্যারে উইং বা সৌর প্যানেলে থাকা ক্যামেরায় তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেছে নাসা আর্টেমিস। ছবিতে মহাকাশযানের ডানার বিপরীতে দূরে ছোট বিন্দুর মতো চাঁদকে দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, নাসা'র আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে ৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে মানুষ। ১০ দিনের এই মিশনে তাঁরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
মিশন কন্ট্রোল জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর ওরিয়ন মহাকাশযানটি এখন গভীর মহাকাশে চাঁদের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং এর সকল সিস্টেম ভালোভাবেই কাজ করছে।
আগামী ৬ এপ্রিল নভোচারীরা চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এবারের এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্টে অবতরণ করবেন না। বরং তাঁরা 'লুনার ফ্লাইবাই' সম্পন্ন করবেন। 'লুনার ফ্লাইবাই' বলতে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়াকে বোঝায়। এক্ষেত্রে তাঁরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবে না।
'লুনার ফ্লাইবাই' সম্পন্ন করার মাধ্যমে নভোচারীরা নভোচারীরা চাঁদের উল্টো পিঠের (ফার সাইড) দুর্লভ ছবি তুলবেন এবং চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং সম্ভাব্য অবতরণ স্থলগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি গভীর মহাকাশে মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন।
আর্টেমিস-২ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। তাঁর সাথে রয়েছেন মহাকাশযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। এই যাত্রার মাধ্যমে ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি এবং ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়বেন।
এছাড়া আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩-এর করা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ডটিও ভেঙে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
১০ দিনের এই মিশন শেষে আগামী ১০ এপ্রিল ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করবে। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী 'আর্টেমিস-৩' মিশনে মানুষকে সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামানোর পরিকল্পনা করছে নাসা।


চন্দ্রাভিযানে যাওয়া ৪ নভোচারী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
