কে জানে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ওপর গতকাল শুক্রবার কী ভর করেছিল! সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ফিল সল্ট-জস বাটলাররা যেভাবে ব্যাট চালিয়েছেন, এটাকে স্রেফ টি-টোয়েন্টি মনে হয়নি। মনে হয়েছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা যেন ভিডিও গেমের নেশায় মেতেছেন!
মারকাটারি ব্যাটিংয়ে মার্কো ইয়ানসেন, রাবাদা, উইলিয়ামসদের তুলোধোনা করে একের পর এক বল সীমানা ছাড়া করেছেন সল্ট-বাটলাররা। ব্যাটসম্যানদের তাণ্ডবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে এভারেস্টসম ৩০৪ রানের তোলে ইংল্যান্ড। যা আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
সে রান পাহাড়ে চাপা পড়ে পিষ্ট সাউথ আফ্রিকা পরে গুটিয়ে গেছে ১৫৮ রানে। তাতে ১৪৬ রানের জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ইংলিশরা। আগামীকাল নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুদল।
ইংল্যান্ডকে রেকর্ড সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার। এর মধ্যে বাটলার ইনিংসের অষ্টম ওভারে যখন আউট হলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ৩০ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৩ রান।
সেঞ্চুরি থেকে ১৭ রান দূরে থেকে বাটলার ফিরে গেলেও ঠিকই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন সল্ট। মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়া সল্ট শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ৬০ বলে ১৫ চার ও ৮ ছক্কায় ১৪১ রানে। সে পথেও রেকর্ড গড়েছেন সল্ট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পথে ইংল্যান্ডের হয়ে দ্রুততম শতকের রেকর্ডটা নামের পাশে লিখিয়েছেন। আগের রেকর্ডটি ছিল লিভিংস্টোনের (৪২ বলে)।
এছাড়া তিনে নামা জ্যাকব বেথেল ১৪ বলে ২৬ রান করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। আর চারে নামা হ্যারি ব্রুক অপরাজিত ছিলেন ২১ বলে ৪১ রানে।
বাটলার আর ব্রুক অবশ্য ইনিংসের শুরু থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালাতে থাকেন। ইয়ানসেনের প্রথম ওভারে চার বাউন্ডারিতে (৩ চার ও ১ ছক্কা) ১৮ রান তুলে সে ঝড়ের আভাস দিয়েছেন ফিল সল্ট। রাবাদা দ্বিতীয় ওভারে কিছুটা সামাল (৭ রান) দিলেও লিজাড উইলিয়ামসের পরের ওভারে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৩ রান আদায় করেন বাটলার-সল্ট।
সেই যে শুরু, পাওয়ার প্লে-শেষ হওয়ার আগেই ৫.৫ ওভারের মাথায় ১০০ রানের দেখা পায় ইংল্যান্ড। যা আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। সে পথে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ১৮ বলে ফিফটি আদায় করেন বাটলার।
কম যাননি সল্টও। কিছুক্ষণ পর বাটলারও ফিফটি ছোঁন বাটলারের চেয়ে এক বল বেশি খেলে (১৯ বলে)। ইনিংসের অষ্টম ওভারে গিয়ে বাটলারকে (৮৩) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বিইয়র্ন ফরটান।
বাটলার আউট হলেও রানের গতি কমেনি ইংল্যান্ডের। ৯ ওভারে দেড়শ ছোঁয়া ইংল্যান্ডের ইনিংসের মাঝপথে (১০ ওভার শেষে) সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৬৬ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০ ওভার শেষে দলীয় রানের নতুন রেকর্ড এটি।
সেখান থেকে ১২.১ ওভারের মাথায় ২০০ রানে পৌঁছায় ইংলিশরা। এর একটু পর ৩৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন সল্ট। ইংলিশদের তাণ্ডব দেখে টি-টোয়েন্টির রেকর্ড নিয়েও ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত ৩০৪ রানে থামে ইংল্যান্ডের ইনিংস। অক্ষত থেকে যায় গাম্বিয়ার বিপক্ষে ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ের ৩৪৪ রানের রেকর্ড।
এরপরও সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা এখন ইংল্যান্ডের। আর শুধু পূর্ণ সদস্য দেশ বিবেচনা করলে, রেকর্ডে সবার ওপরে ইংলিশরা।
৩০৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ঝড়োই করেছিলেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটন (১০ বলে ২০)। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ২২ বলে ৫০ রান পায় সাউথ আফ্রিকা। সেখান থেকে ৬ বল ও মাত্র ৮ রানের মধ্য ৩ উইকেট হারালে পথ হারায় দলটি। দলকে ৭৭ রানে রেখে বিদায় নেন ২০ বলে ৪১ রান করা মার্করাম। শেষ দিকে দোনোভান ফেরেইরা (১১ বলে ২৩ রান) ও ফরটানের (১৬ বলে ৩২ রানের ) ক্যামিও শুধু প্রোটিয়াদের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।



