একসময় বার্সেলোনার প্রায় সব রেকর্ড লিওনেল মেসির দখলে ছিল। এখনো উল্লেখযোগ্য সব রেকর্ড আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডেরই নামের পাশে। সর্বকনিষ্ঠের রেকর্ডগুলোর ক্ষেত্রেই যা একটু ঘাটতি ছিল। ইতো-রোনালদিনিওদের বার্সেলোনার যুগে কিশোর মেসি অতটা সুযোগ পাননি বলে খুব বেশি ‘কম বয়সে’র রেকর্ড গড়তে পারেননি। যে কয়েকটি গড়েছিলেন রেকর্ড,সেগুলো একের পর এক আবির্ভূত ‘নতুন মেসি’- বোয়ান কিরকিচ, আনসু ফাতিরা নিয়ে নিচ্ছিলেন।
কিন্তু লামিন ইয়ামাল সব রেকর্ডই নিজের করে নিতে শুরু করেছেন একের পর এক। মাঠে উপস্থিতি, অ্যাসিস্ট, গোল-সব রেকর্ডই দখল করে নিচ্ছেন মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চাপানো ইয়ামাল। মেসি আর ‘মেসিদের’ রেকর্ডের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেলের রেকর্ডেও ভাগ বসাতে শুরু করেছেন। গতকাল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের ইউরো জেতার পথে স্প্যানিশ বিস্ময়বালক ভেঙেছেন পেলের অবিশ্বাস্য আরেকতি রেকর্ডও।
গত ১৩ জুলাই ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে ইয়ামালের। আর পরদিনই নেমে গেছেন ইউরোর ফাইনালে। এতে কিংবদন্তি পেলের ৬৬ বছর পুরোনো এক রেকর্ড ভেঙে গেছে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে খেলতে নেমেছিলেন পেলে। আর ১৭ বছর ১ দিন বয়সে খেলতে নেমে ফিফা বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ইউরো মিলিয়ে বড় তিন টুর্নামেন্টের ফাইনালের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় বনে গেছেন ইয়ামাল।
এই ইউরোতে পেলের রেকর্ড এর আগেও ভেঙেছেন ইয়ামাল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে গড়েছিলেন সবচেয়ে কম বয়সে ইউরোতে খেলার রেকর্ড। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল করে ইউরোর সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। সেদিন সব ধরনের টুর্নামেন্টে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাও হয়েছেন তিনি।
সেদিনের ওই গোল পেলের সবচেয়ে কম বয়সে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের গোলের রেকর্ডটিও ভেঙেছিলেন ইয়ামাল।
তবে এতসব রেকর্ড গড়া ইয়ামাল কাল একটা ঝুঁকি নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। গতকাল জার্মানির স্থানীয় সময় রাত ৯ টায় খেলা শুরু হয়েছিল। এদিকে জার্মান আইনে বলা আছে ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ রাত ১১টার কাজ করতে পারেন না। ফলে গতকাল ইউরোর ফাইনাল যদি অতিরিক্ত সময়ে গড়াত তবে ইয়ামাল মাঠে থাকলে আইন ভাঙার দায়ে জরিমানা গুনতে হতো স্পেনকে। তবে ৮৬ মিনিটে ওয়ারসাবালের গোল দলকে সে ঝামেলা থেকে উদ্ধার করেছে।



