নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন এবং নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশ করা, এগুলি প্রত্যেকটিই অপরাধ, এই অপরাধের বিচার করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতাকে রাজনীতিকরণ করা প্রতিহত করতে হবে। বর্তমানে জমি দখল, মন্দির লুট-এর মতো ঘটনায় নারী প্রধান টার্গেট হয়ে উঠছে। মুরাদনগরে ধর্ষণের শিকার নারী কেবল একা নয়, তার সঙ্গে আমরা সকল নারীই আক্রান্ত। নারীর একার পক্ষে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ব্যাপকতা রোধ করা সম্ভব নয়, এজন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার নারী যেন পুনরায় অপমান ও নিগ্রহের শিকার না হন, সে বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে কুমিল্লার মুরাদনগরে নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এসব কথা বলেন। ২ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ১ জুলাই মুরাদনগরের ধর্ষণ, মারধর ও নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির (৬৭ টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম) পক্ষ থেকে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ব্লাস্ট, ব্র্যাক, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, উইক্যান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন উপস্থিত প্রতিনিধিগণ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মালেকা বানু, হুমায়রা খাতুন, সারাবান তহুরা, মৌসুমী কীর্তনীয়া, সেলিনা পারভীন এবং জনা গোস্বামী। মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘মুরাদনগরে নারী ধর্ষণের ঘটনার পরবর্তীতে অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও নির্যাতনের শিকার নারী মামলা তুলে নিতে চচ্ছেন- যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সহিংসতার শিকার নারীকে সহিংসতা পরবর্তী সময়ে কীভাবে চাপের মুখে, ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করা হয়। এমন পরিস্থিতি বন্ধ না হলে সহিংসতার শিকার নারীর ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনার রাজনীতিকরণ বন্ধ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’



