গত কয়েকবারের তুলনায় এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমেছে নারী প্রার্থীর সংখ্যা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। তবে এবারও নারী প্রার্থীর সংখ্যা হতাশাজনক। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্যমতে, ২৯৮ আসনে প্রার্থী প্রায় দুই হাজার। এর মধ্যে নারী আছেন শতাধিক।
দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা বলার মতো নয়। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি দল। এর মধ্যে জামায়াতসহ ৩০টি দলেরই কোনো নারী প্রার্থী নেই। সর্বোচ্চ ৯ জন নারী প্রার্থী বিএনপির।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রায় সব ন্যায়সংগত দাবি আদায়ের আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সম্মুখভাগে সক্রিয় ছিলেন। অথচ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ হতাশাজনক।
আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণেই দলগুলো নারীদের মনোনয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। নারীদের অংশগ্রহণ কমার পেছনে হয়রানি ও নিরাপত্তাঝুঁকিকে দায়ী করছেন তাঁরা।
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, ‘আইনে আছে, প্রত্যেকটা দলের কমিটি এবং উপকমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব না থাকলে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কিন্তু এটার প্রয়োগ হচ্ছে না। আমরা এমনও শুনেছি, অনেক নারী প্রার্থী যখন মনোনয়নের জন্য গেছেন, তাঁরা অনেক রকম অবাঞ্ছিত ব্যবহারের মুখোমুখি হয়েছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘তাঁদের চরিত্রহরণ করা হয়, হেনস্তা করা হয়, বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়। আমরা এর আগের নির্বাচনেও দেখেছি নারী ও ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা রকম বিষোদ্গার করা হয় বিরোধী পক্ষ থেকে। এগুলো নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। কিন্তু যাঁরা এগুলো করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
সুস্থ ধারার গণতন্ত্র চর্চা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করতে নারী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। আর এটি নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ ও নীতিগত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।



