যারা ডায়েটের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের অনেকেই সকালে খালি পেটে পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পান করে থাকেন। ঘুম থেকে উঠেই লেবুপানি পানে শরীর ও মন সতেজ থাকে এবং ক্লান্তিভাব কম হয়।
এছাড়াও লেবুপানির মাধ্যমে সকাল শুরু করার রয়েছে অনেক উপকার। আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেসব।
পিএইচ মান ঠিক রাখা
আমরা যখন সকালে ঘুম থেকে উঠি, তখন আমাদের শরীরের পিএইচ মান অ্যাসিডিক থাকে। কারণ রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। আমরা দিনে যা খাই, তা থেকে আমাদের যকৃৎ গ্লুকোজ সঞ্চয় করে রাখে এবং ঘুমের সময় দেহে তা নিঃসৃত করে। অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ এই গ্লুকোজ বা সুগার। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই উষ্ণ এক চুমুক লেবু পানি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
অ্যালকালাইন বা ক্ষারপ্রধান ডায়েট আমাদের ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। লেবুযুক্ত পানি পানের মাধ্যমে ঘুম থেকে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমাদের শরীরে একটি ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি হয়ে ওঠে। এসময় ক্ষুধা কম লাগে। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমে যায় এবং কম ক্যালরি খাওয়া হয়। এক কথায় ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
ত্বকের সুস্থতা
লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। লেবু দেহের ক্ষত নিরাময়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং পটাসিয়াম ফ্রি র্যাডিকেলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফ্রি র্যাডিকেলস উজ্জ্বল ত্বকের জন্যও একপ্রকার বাধাস্বরূপ। প্রতিদিন লেবু পানি পানে লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, অক্সিজেনবাহিত হয়ে কোষগুলো পুষ্ট হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ থাকে।
হজমে সহায়ক
সকালে এক গ্লাস লেবুপানি খেলে হজমশক্তি বাড়ে। হালকা গরম লেবু পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, বদহজম ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দূর হয়। তবে লেবু পানিতে ভিটামিন সি অনেক বেশি হওয়ায় এটি দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে। তাই লেবুপানি পানের পর ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ইয়োগি জেমস


খাওয়ার সময় বা পর পরই কি পানি পান করা উচিত?
গরুর দুধে অ্যালার্জি? জেনে নিন সাতটি বিকল্প
