দেশের সংবিধান অনুসারে সকল নাগরিকের অধিকার সমান, কাজেই সকল ধর্মের মানুষদের নিজ নিজ অধিকার থেকে ধর্ম ও ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা থাকতে হবে। একুশ শতকে এসে দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে সকলের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক এবং অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তুলতে সকলের এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন দুর্গাপূজা উদ্যাপনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য রাখেন ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না, মালেকা বানু, সীমা মোসলেম, রেখা সাহা, রীনা আহমেদ এবং রেহানা ইউনূস। মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের আইনজীবী অ্যাড. ফাতেমা খাতুন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবকে ভন্ডুল করার জন্য প্রতিবছর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নানা অপতৎপরতা চালিয়ে থাকে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইনা। এই গোষ্ঠী ধর্মীয় বিদ্বেষ তৈরির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালায়। এ অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সকল নাগরিককে সচেতন থাকতে হবে। সনাতন সম্প্রদায় যাতে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে ধর্মীয় বিদ্বেষ তৈরি করে ভেদাভেদ তৈরি করা যাবে না। প্রতিবছর পূজা আসলেই প্রতিমা ভাঙচুর করার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে, যা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক একটি দেশের চেতনার পরিপন্থি। এসকল ঘটনা বন্ধে যথাযথ মনিটরিং হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন দুর্গাপূজা উদ্যাপনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ১ অক্টোবর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রসহ সকল জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।



