টিকটকের কল্যাণে অনেকেই প্রচুর অর্থ আয় করেছেন, করছেন- এমন খবর আমরা নিয়মিতই পেয়ে থাকি। কিন্তু এবারে চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন একজন ব্যক্তি, যেখানে টিকটকের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশ। চলুন জেনে নেওয়া যাক কে এই চীনা নাগরিক।
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং এখন চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। সম্প্রতি হুরুন রিসার্চ ইন্সটিটিউট চীনের ধনী ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় ৪৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ নিয়ে প্রথম স্থানে আছেন ঝ্যাং। বাংলাদেশী মুদ্রায় তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান বাজেটের পরিমাণ ৭ লক্ষ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।
গত বছরের তুলনায় ঝ্যাং ইমিং এর সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৩ শতাংশ। মূলত বিশ্বজুড়ে টিকটকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর (সিইও) পদ থেকে ঝ্যাং স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান। বিভিন্ন সূত্রে পাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী, বাইটড্যান্সের ২০ শতাংশের মালিকানা এখন তাঁর হাতে।
উল্লেখ্য, হুরুন রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তৈরি তালিকায় সেই সব ধনীরাই স্থান পেয়েছেন যাদের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ অন্তত ৫ বিলিয়ন ইউয়ান (৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
‘হুরুন চায়না রিচ লিস্ট ২০২৪’ অনুযায়ী চীনে বর্তমানে ৫ বিলিয়ন বা এর চেয়ে বেশি পরিমাণ সম্পদ আছে এমন ধনী ব্যক্তির সংখ্যা ১,০৯৪ জন, যেটা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ (১৪৭ জন) কম। তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেটা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।
হুরুন রিসার্চ ইন্সটিটিউট-এর প্রধান রুপার্ট হুগওয়ার্ফ বলেছেন, ‘ঝ্যাং ইমিং গত ২৬ বছরে চীনে ১৮তম সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি। আমাদের সাথে তুলনা করলে আমেরিকাতে সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি মাত্র চারজন: বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, জেফ বেজোস ও ইলন মাস্ক। এটা চাইনিজ অর্থনীতির গতিশীলতার দিকেই ইঙ্গিত করে।’
২০১২ সালে বন্ধু লিয়াং রুবোকে সাথে নিয়ে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন ঝ্যাং ইমিং। এরপর ২০১৬ সালে বাইটড্যান্স থেকেই তৈরি ও প্রকাশ করা হয় শর্ট-ফর্ম ভিডিও হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। প্রতিষ্ঠার পর দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠে টিকটক। এরপর বিভিন্ন সময় ‘রিলস’ এর মতো আকর্ষণীয় বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করার কারণে টিকটকের জনপ্রিয়তা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। বর্তমানে টিকটকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি।
টিকটকের ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলেও চীন সরকারের সাথে প্রতিষ্ঠানটির যোগসাজশ আছে বলে আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে। তাঁদের উদ্বেগের মূল কারণ হচ্ছে টিকটক তাঁদের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সরকারের সাথে শেয়ার করে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্পর্কিত অধিকারের যেমন লঙ্ঘন হবে এবং তেমনি দেশের সার্বিক তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও হুমকির সম্মুখীন হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাইটড্যান্সকে এই নিয়ে আইনী লড়াইও লড়তে হয়েছে আমেরিকাতে- যেখানে টিকটকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটি। এমনকি দেশটিতে টিকটকের কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য প্ল্যাটফর্মটির মালিকানা পরিবর্তনেরও চাপ রয়েছে আমেরিকা সরকারের পক্ষ থেকে।
তবে বাইটড্যান্স ও টিকটকের পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবী করা হয়েছে যে চীনের সরকারের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাইটড্যান্স প্ল্যাটফর্মটিকে বিক্রি করে না দিলে আগামী বছর জানুয়ারিতে টিকটকের কার্যক্রম আমেরিকাতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বাজার আমেরিকাতে বাইটড্যান্স ও টিকটকের উপর চাপ ক্রমশ বাড়লেও বিশ্বজুড়ে তাঁদের আর্থিক পারফর্মেন্স যথেষ্ট ভালো। গত বছর বাইটড্যান্সের বৈশ্বিক মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০ শতাংশ। সেই সুবাদে ঝ্যাং ইমিং এর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি



