হলিউড ফেসিয়াল। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া এই স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড আসলে নতুন নয়। ৯০-এর দশক থেকেই এটি জনপ্রিয়। এই পদ্ধতিতে কার্বন ও লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ত্বকে তাত্ক্ষণিক উজ্জ্বলতা, সূক্ষ্ম লোমকূপ এবং কোলাজেন বৃদ্ধির সুবিধা দেওয়া হয়।
আপনি যদি সম্প্রতি বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের পোস্ট স্ক্রল করে থাকেন। তাহলে মনে হতেই পারে যে হলিউড ফেসিয়াল একেবারে নতুন এবং অভিনব কোনো আবিষ্কার। কিন্তু বাস্তবতা হলো এটি বেশ পুরনো। এমনকি বেশিরভাগ ভাইরাল স্কিনকেয়ার ট্রেন্ডের চেয়েও পুরনো। আসলে, ১৯৯৭ সাল থেকেই এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। যখন ফ্রস্টেড হেয়ার টিপস আর ফ্লিপ ফোন জনপ্রিয় ছিল। তখন থেকেই সেলিব্রিটিরা এই স্কিন-পারফেক্টিং ট্রিটমেন্ট নিতেন।
হলিউড ফেসিয়াল কীভাবে কাজ করে?
স্কিন বিয়ন্ড বর্ডারসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. প্রবীণ বানোদকার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়াতে এটাকে নতুন ট্রিটমেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, এটা গত ২৫ বছর ধরে ভালোমানের লেজার ক্লিনিকগুলোতে ব্যবহার হয়ে আসছে।’
এই ট্রিটমেন্টের দুটি ভাগে করা হয়। মেডিকেল-গ্রেড কার্বন পেস্ট এবং কিউ-সুইচড এনডি:ওয়াইএজি লেজার প্রযুক্তি। প্রথমে ত্বকে কার্বন পেস্টের একটি স্তর প্রয়োগ করা হয়। যা মূলত চুম্বকের মতো কাজ করে, ময়লা, তেল এবং মৃত কোষ শোষণ করে। এরপর লেজারের পালা। এই লেজার কার্বন স্তরকে টার্গেট করে, কার্বন কণাগুলোকে ‘পপ’ করে ত্বকের গভীর থেকে ময়লা দূর করে। শুধু তাই নয়, লেজারের উত্তাপ কোলাজেন উৎপাদনও উদ্দীপিত করে এবং লোমকূপ সংকুচিত করে। যার ফলে ত্বক আরও টানটান, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়।

কেন হলিউড ফেসিয়াল এত জনপ্রিয়?
হলিউড ফেসিয়ালের অন্যতম সুবিধা হলো তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা দেয়। আর তার কোনো ডাউনটাইম নেই। ডা. বানোদকার বলেন, ‘এই ট্রিটমেন্টের পরপরই স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। যা একে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করেছে প্রি-ইভেন্ট স্কিন প্রিপারেশনের জন্য।’
আপনি যদি বড় কোনো ইভেন্ট বা বিশেষ অনুষ্ঠানে যান। কিংবা কেবলমাত্র সুন্দর ত্বকের জন্য প্রস্তুত হতে চান। তাহলে এই ট্রিটমেন্ট হতে পারে আপনার জন্য পারফেক্ট। বিশেষ করে যদি আপনার লোমকূপ বড় হয়, ত্বকের টেক্সচার অসমান হয়, সূক্ষ্ম রেখা থাকে বা উজ্জ্বলতার অভাব থাকে, তাহলে এটি বেশ কাজে দেবে। একবারের সেশনেই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তবে সঠিক রূপচর্চার জন্য কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক সেশন নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
সৌন্দর্য জগতে ট্রেন্ড সবসময় আসা-যাওয়া করে। কিন্তু হলিউড ফেসিয়াল দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। কারণ এটি কেবল প্রচারণার ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং বাস্তবিক ফলাফল দেয়। ডা. বানোদকারের ভাষায়, ‘প্রফেশনাল স্কিনকেয়ারের চাহিদাসম্পন্ন জগতে এটি টিকে আছে। কারণ এটি ত্বকের গুণগত মান, টেক্সচার এবং চেহারার পরিবর্তন হাতে নাতে দেখিয়ে দেয়। এটিকে তাই আধুনিক ফেসিয়াল রিজুভেনেশনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলা যায়।’
তাই, যখনই কাউকে হলিউড ফেসিয়াল নিয়ে উচ্ছ্বসিত হতে দেখবেন। মনে রাখবেন—এটি কোনো ক্ষণস্থায়ী ট্রেন্ড নয়। এটি এমন একটি স্কিনকেয়ার পদ্ধতি। যা কয়েক দশক ধরে তারকাদের পছন্দেন তালিকায় রয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস নাউ নিউজ


ত্বকের যত্নে কোন শীট মাস্ক ব্যবহার করেন বিটিএস জিমিন, জানেন?
আমাদের মতোই রূপচর্চা করতেন প্রিন্সেস ডায়ানা
