জেদ্দার লোহিত সাগরের তীর এই ক’দিন তারকাদের আলোয় ঝলমল করছে। তবে রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭ম দিনে সেই চাকচিক্য আরও বাড়ল। রং ছিল কিছুটা আলাদা। গ্ল্যামার, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ কিংবা রেড কার্পেটের দ্যুতি ছাপিয়ে এদিন সামনে চলে আসে গল্প, সত্যতা আর নারীর ক্ষমতায়নের কথা।
ভৌগোলিক দূরত্ব আর প্রজন্মের ব্যবধান যেন নিমিষেই ঘুচে গেল, যখন বলিউড আইকন আলিয়া ভাট এবং হলিউড কিংবদন্তি সিগার্নি উইভার নিজেদের অভিনয় ও দর্শনের কথা শোনালেন। তাঁরা একই মঞ্চে ছিলেন না, তবু মনে হচ্ছিল অদৃশ্য এক সুতোয় বাঁধা দুটি কণ্ঠ কথা বলছে। লক্ষ্য একটাই—সত্যিকারের গল্প বলা।
আলিয়া ভাট: চনমনে কিশোরী থেকে নীরব আত্মবিশ্বাস
মঞ্চে আলিয়া ভাটকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, সময় তাঁকে থামায়নি, বরং আরও সংযত ও স্থির করেছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আলিয়া বলেন, ‘তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বা ১৮। নিজেকে প্রমাণ করার প্রবল তাগিদ কাজ করত। আমি ছিলাম ভীষণ রকম উৎসাহী, সবসময় যেন জোরে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে চাইতাম।’

আজ এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এসে তাঁর উপলব্ধি বদলেছে। আলিয়ার ভাষায়, ‘উদ্দীপনাটা এখনও একই রকম আছে। কিন্তু এখন আমার কাজের ধরন অনেক বেশি নীরব। প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে একটা স্পষ্ট উদ্দেশ্য।’
এই বিবর্তনের ছাপ তাঁর সিনেমাতেও স্পষ্ট। ‘হাইওয়ে’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’ কিংবা ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’র মতো ছবিতে প্রতিবারই তিনি নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আলিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা নিজের প্রবৃত্তি।

প্রযোজনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় গভীর ভালোবাসার সুর। নিজের প্রোডাকশন হাউস ইটারনাল সানশাইন প্রসঙ্গে আলিয়া বলেন, ‘গল্পের প্রতি আমার প্রেমটা খুব গভীর। কোনো প্রজেক্ট যখন শুধু একটা সিনোপসিস বা প্রথম ড্রাফট, ঠিক সেই শুরু থেকেই আমি গল্পটার সম্ভাবনা খুঁজে দেখতে চাই। আমি সেখানে অভিনয় করব কি করব-না, সেটা তখন দ্বিতীয় বিষয়।’
এবারের রেড সি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গোল্ডেন গ্লোবস হরাইজন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন বলিউড সুপারস্টার আলিয়া।
সিগার্নি উইভার: অনিচ্ছাকৃত নায়িকা, কালজয়ী চরিত্র
অন্যদিকে, সিগার্নি উইভার যখন কথা বলছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল দর্শকরা ইতিহাসের পাতার সামনে বসে আছেন। হলিউডের এই কিংবদন্তি জানালেন, তিনি কখনোই নিজেকে অ্যাকশন হিরো হিসেবে কল্পনা করেননি।
‘এলিয়েন’ ছবির আইকনিক চরিত্র এলেন রিপলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তখন বুঝতেই পারিনি যে ইতিহাস গড়ে ফেলছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল শুধু একটা ভালো, ছোট পরিসরের সায়েন্স ফিকশন সিনেমা বানানো।’

উইভার জানান, চিত্রনাট্যকাররা সচেতনভাবেই মিশ্র লিঙ্গের একটি দলের গল্প লিখেছিলেন, যেখানে প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে শেষপর্যন্ত নারী চরিত্রটিই হয়ে ওঠে বেঁচে যাওয়া নায়ক। তাঁর মতে, রিপলি কোনো নারীবাদী ইশতেহার ছিল না। বললেন, ‘এটা ছিল গল্পের প্রয়োজনে নেওয়া একেবারেই স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।’ তবু চরিত্রটি যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
‘রিপলি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিজের ওপর ভরসা করা যায়। কাউকে এসে উদ্ধার করতেই হবে, এমন ভাবনার প্রয়োজন নেই’, বলেন সিগার্নি উইভার।

দুই ভুবন, এক বিশ্বাস
রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এই দিনে জেদ্দায় বসে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়। একজন বর্তমান প্রজন্মের বলিউড সুপারস্টার, অন্যজন হলিউডের বহু যুগের অভিজ্ঞ কিংবদন্তি। তবু তাঁদের ভাবনায় কোনো দূরত্ব নেই।
আলিয়া ভাট ও সিগার্নি উইভার দুজনেই মনে করিয়ে দিলেন, সিনেমা তখনই কালজয়ী হয়, যখন তা মাটির কাছাকাছি থাকে। যখন নারী চরিত্রকে করুণার পাত্র বা অতিমানবী দেবী নয়, বরং রক্তমাংসের, শক্তিশালী ও মানবিক সত্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়।


‘সংস্কৃতি-সংগীত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করুক, নয়তো ভোট দেব না’
‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ পোশাক পরায় আফগানিস্তানে ৪ যুবক গ্রেপ্তার
