মুক্তি পেতে যাচ্ছে চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘চা গরম’। রোববার (৫ এপ্রিল) প্রকাশ্যে এসেছে সিনেমাটির অফিশিয়াল পোস্টার, যা দেখে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে গল্পটির সঙ্গে চায়ের সম্পর্ক রয়েছে। পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্তও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চা বাগানের শ্রমিকদের প্রাত্যহিক জীবন, অধিকার ও তাদের জীবনমানের কিছু কিছু অংশ এই ফিল্মে দেখতে পাবেন দর্শকরা। কিন্তু শঙ্খ দাশগুপ্ত এত সহজভাবে গল্প বলার নির্মাতা নন। সেটা স্পষ্ট চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘গুটি’ কিংবা প্রেক্ষাগৃহে তাঁর প্রথম সিনেমা ‘প্রিয় মালতী’র পর্দায়।
চা গরম নিয়ে শঙ্খ দাশগুপ্ত বলেন, ‘নির্মাতা হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশে চা বাগান সবসময় ব্যবহার হয়েছে ব্যাকড্রপ হিসেবে। চা বাগান একটা সুন্দর এলাকা যেখানে চরিত্রগুলো থাকবে, ব্যাকড্রপে চা বাগান থাকবে—সেটা দেখতে অনেক সুন্দর হবে। তো আমার কাছে মনে হলো এটা ব্রেক করা দরকার। আমরা চা বাগানের ভেতরটায় ঢুকতে চেয়েছি এবং ঢুকেছি। চা বাগানের জীবনটা দেখার চেষ্টা করেছি। সৌন্দর্যটাই শুধু ফ্রেমবন্দি করিনি, এবার আমি চা বাগানের ভেতরে গিয়ে শ্রমিকদের জীবনটাও দেখার সুযোগ পেয়েছি।’

আশ্চর্যজনকভাবে এই নির্মাতা জানালেন, যখন তিনি চা বাগানে গিয়ে গল্প তৈরির জন্য থাকা শুরু করলেন, তখন জানতে পারলেন চা বাগান সম্পর্কে খুব বেশিকিছু তিনি জানেন না, এমনকি সাধারণ মানুষও জানেন না। সেই জানা-অজানার গল্পই হয়তো নতুন কনটেন্টে দেখানোর প্রয়াস নিয়েছেন নির্মাতা। ধাপে ধাপে আরও চমকে যাওয়ার মতো তথ্য জানাবেন বলে জানিয়েছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত।
চা গরম ফিল্মটি চরকিতে মুক্তি পাবে বৈশাখকে কেন্দ্র করে, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল। বৈশাখে যেমন পুরনো গ্লানিকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বান থাকে, চা গরম ফিল্মেও কী তেমন কিছু থাকবে? কিছু বলেননি নির্মাতা। তবে তরুণ শিল্পীদের দিয়েই কাজটি করিয়েছেন তিনি। এতে অভিনয় করেছেন সাফা কবির, পার্থ শেখ, রেজওয়ান পারভেজ ও সারাহ জাবিন অদিতি। পোস্টারে তাঁদের চরিত্র নিয়ে খুব ভালো ধারণা পাওয়া যায়নি। নির্মাতা জানান, শিগগিরই টিজার বা ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে সেই আগ্রহ বা অপেক্ষা দূর হবে দর্শকদের।

তবে এ ফিল্মে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে চার অভিনয়শিল্পী জানিয়েছেন তাঁদের বক্তব্য। সেখান থেকেও কাজটি সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। অভিনেত্রী সাফা কবির বলেন, ‘চা গরম-এর প্রতি আমার আগ্রহের অন্যতম বড় কারণ ছিল পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত। তিনি সবসময়ই ভিন্ন ধরনের গল্প বলেন এবং তাঁর কাজের মধ্যে একটা স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। একইসঙ্গে, গল্পটিও আমার কাছে খুব শক্তিশালী লেগেছে। এটি আমাদের সমাজের এমন একটি দিক তুলে ধরে, যেটা আমরা অনেক সময় দেখি না, কিন্তু খুব কাছেই থাকে। এই বিষয়টিই আমাকে কাজটির অংশ হতে অনুপ্রাণিত করেছে।’
নির্মাতাকে দেখে কাজে যুক্ত হতে চেয়েছেন অভিনেতা রেজওয়ান পারভেজও। তবে নিজের চরিত্রটিরও প্রেমে পরেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘পরিচালকের সাম্প্রতিক কাজগুলো দেখে মনে হয়েছিল যে তাঁর সঙ্গে একটা কাজ করতে পারলে ভালো লাগবে। সেই সুযোগ পেলাম, একইসঙ্গে যে চরিত্রটা পেলাম সেটাও খুব চ্যালেঞ্জিং। এ কথা কেন বলছি, সেটা টিজার বা ট্রেলার দেখতে বুঝতে পারবেন।’

‘চা গরম গল্পটা শোনার পর আমার যে জিনিসটা ভালো লেগেছে সেটা হলো, এই গল্পে খুব সাবলীলভাবে চা বাগানে জীবনযাপনের কিছু কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।’—বলেন সারাহ জাবিন অদিতি। আর অভিনেতা পার্থ শেখের ভাষ্য এমন–‘শঙ্খ দা জানাল যে আমার জন্য একটা চরিত্র আছে। সব শুনে মনে হলো, এটা আমার জন্য ভালো সুযোগ, আর শঙ্খ দার সঙ্গে এর আগে ফিকশনে কাজ করা হয়নি। গল্প ও চরিত্রটা শুনে আমি খুব অনুপ্রাণিত হলাম এবং মনে হলো এমন কাজ খুব কম হয়েছে। তাই রাজি হয়ে গেলাম।’
রবি নিবেদিত এবং অক্সফামের সহ-প্রযোজনায় নির্মিত চা গরম মূলত একটি অনুপ্রেরণার গল্প বলে জানিয়েছেন চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি। তিনি বলেন, ‘জাতীয় জীবন থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবনে বৈশাখ আসে নতুনের বার্তা নিয়ে। নতুন করে শুরু করার প্রত্যয় থাকে সবার মাঝে। সেই উদ্দীপনাই আমরা কনটেন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চাই। চা গরম দেখার মাধ্যমে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হোক—সেই প্রত্যাশা, সবাইকে নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছা।’
চা গরম-এ আরও রয়েছেন এ কে আজাদ সেতু। গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সাইফুল্লাহ রিয়াদ।


সম্মাননা পাচ্ছেন কনকচাঁপা ও কাঙ্গালিনী সুফিয়া
