রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প-উপন্যাসে নারী কখনো নিছক অবলা নন, বরং সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা এক স্বাধীন ও শিক্ষিত সত্তা। সাহসী, আত্মবিশ্বাসী এবং রুচিশীল এই নারীরা বাংলা সাহিত্যে যেমন স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তেমনি তাঁদের সাজপোশাক, ব্যবহার আর ভাবনায় পাওয়া যায় ফ্যাশনের এক অনন্য ছাপ।
তাই তো অমিত, লাবণ্য, চারুলতা, হৈমন্তী কিংবা বিমলা, তাঁদের রুচি, পোশাক, আচরণ এখনো আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। বিশেষ করে ফ্যাশনের দিক থেকে আজও অনেক তরুণ-তরুণীর স্টাইল চিন্তায় ছায়া ফেলে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি।
শুধু কবিতা বা গান নয়, তাঁর সাহিত্যে চরিত্র তৈরির সময় প্রতিটি পোশাকের বিবরণ পর্যন্ত ছিল নিখুঁত। ‘শেষের কবিতা’র অমিত রায় যেমন ছিলেন পাশ্চাত্য পোশাকে অভ্যস্ত, ফ্রেঞ্চ কাট দাড়িতে ঝকঝকে রুচিশীল। তেমনই লাবণ্য ছিলেন শাড়িতে বাঙালি নারীত্বের প্রতীক। এই আধুনিক সময়ে সেইসব চরিত্রের পোশাক ও সাজ আবার ফিরে এসেছে ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগ্রহে।

বিশ্বরঙ, অরণ্য, কে ক্র্যাফট, সৃষ্টি, বিবিআনা, দেশাল, রঙ বাংলাদেশসহ নামকরা ফ্যাশন হাউসগুলো ২৫ বৈশাখকে সামনে রেখে তৈরি করেছে বিশেষ সংগ্রহ। শাড়ি, পাঞ্জাবি, ব্লাউজ, ফতুয়া, কামিজ সবকিছুতেই থাকছে রবীন্দ্র ছোঁয়া, সঙ্গে আধুনিক কাটিং ও মেটেরিয়াল।
বিশ্বরঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যে পোশাক শুধু শরীর ঢাকার উপকরণ নয়, তা ছিল তার চরিত্র নির্মাণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ভাবনা থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি সাহিত্য থেকে ফ্যাশনে এক সেতুবন্ধন গড়তে।’
রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘বিশ্বকবির জন্মদিন মানে রঙ বাংলাদেশের কাছে বিশেষ এক অনুভূতি। তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোশাকের ডিজাইনে আনা হয়েছে কবির স্বাক্ষর, তার মুখাবয়ব ও কবির রচিত গানের বাণী। এসব ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে শাড়ি, টি সার্ট, পাঞ্জাবিসহ নানা পণ্য।’
আধুনিক ফ্যাশনের শুরু ঠাকুরবাড়ি থেকে
সত্যি বলতে আধুনিক ফ্যাশনের গোড়া পত্তন হয় ঠাকুরবাড়ি থেকেই। বিশেষ করে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির নারীরা ছিলেন বেশ ফ্যাশন সচেতন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী শাড়ির সঙ্গে পেটিকোট ও ব্লাউজের চল শুরু করেন। শাড়ি পরার নতুন স্টাইল কুঁচি দিয়ে পরে বাম কাঁধে ফেলা এসব তিনিই চালু করেন। এমনকি নারীদের এভাবে শাড়ি পরতেও তিনি উৎসাহ দিতেন।
স্বর্ণকুমারী দেবীর মেয়ে সরলা দেবী চৌধুরানী স্বদেশি পোশাক ও গয়নার পরতেন। তাঁর মাধ্যমেই নারীদের টিপ পরা, আলতা পরা, দেশি গয়না পরার চল শুরু হয়। এই রুচিশীল, সাহসী ও আত্মনির্ভরশীল নারীদের ভাবনা রবীন্দ্র সাহিত্যের নারী চরিত্রগুলোতে উঠে আসে।
সাজে যেভাবে রাখবেন রাবীন্দ্রিক ছোঁয়া
এই দিনটিতে আপনি সেজে উঠতে পারেন রবীন্দ্র সাহিত্যের নারী চরিত্রের মতো করে। স্নিগ্ধ, রুচিশীল ও ক্লাসিক লুক আপনাকে বেশ আধুনিক লাগবে। পোশাকে বেছে নিতে পারেন দেশি তাঁতের টাঙ্গাইল, মসলিন, সিল্ক, তসর বা হালকা রঙের জামদানী। শাড়ির পাড়ে থাকতে পারে সূক্ষ্ম কাজ বা সাদামাটা ডিজাইন। শাড়ির সঙ্গে পরতে পারেন ফুল হাতা বা থ্রি-কোয়ার্টার হাতা ব্লাউজ। গলার ছাঁট হতে পারে পিঠখোলা, গোল গলা বা কলারযুক্ত।
গয়না হিসেবে থাকতে পারে পাতলা সোনার চেইন, রুপার খোঁপা কাঁটা, হাতে শাঁখা বা কাঁচের চুড়ি, কানে দুল আর নাকে ছোট নথ। চাইলে ব্যবহার করতে পারেন গোল্ডপ্লেট গয়নাও। চোখে টানা কাজল, ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক, কপালের একটু ওপরে মাঝারি টিপ। চুল খোলা না রেখে বেণি বা খোঁপায় সাজাতে পারে। চাইলে খোঁপায় গুঁজে দিতে পারেন গাঁদা ফুল, বেলি বা রজনীগন্ধার মালা।


ফ্যাশনে আসছে নতুন ঢেউ, আপনি প্রস্তুত তো?
গরমে কেমন হবে অফিস পোশাক
