ছিমছাম পোশাকে খাপ খাইয়ে নিখুঁত জুতা পরার দিন বুঝি ফুরিয়েছে। এখন ফ্যাশনে চলছে ‘ভুল’ জুতা পরার প্রবণতা। অন্তত ইনস্টাগ্রাম আর টিকটক সেটাই বলছে। আর এই নতুন স্টাইলেন নাম, রং শু থিওরি।
এই থিওরি অনুযায়ী, আপনি যদি রোমান্টিক একটা ফ্লোই ড্রেস পরেন, তাহলে তার সঙ্গে হিল বা পাম্পস নয়। বরং পরতে হবে পুরোনো স্নিকার্স বা ভারী ‘ড্যাড’ স্যান্ডেল। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই স্টাইল এখনই তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কেমন এই ‘ভুল জুতা’র কৌশল?
স্টাইলিস্ট অ্যালিসন বর্নস্টেইনের দেওয়া এই থিওরির ব্যাখ্যা বেশ সরল। যে জুতাটি আপনার পোশাকের সঙ্গে ‘ম্যাচ’ করবে না, সেটাই বেছে নিন। কারণ এভাবে একটা সাজ দেখাতে পারে একেবারে নতুন, ভিন্নভাবে।
কেউ যখন সিল্কের মসৃণ স্লিপ ড্রেসের সঙ্গে পরেন মোটা চামড়ার বুট বা ব্যাগি কার্গো প্যান্টের সঙ্গে পরেন ব্যালে ফ্ল্যাটস। সেটা প্রথমে ‘ভুল’ মনে হলেও, আসলে সেটা তৈরি করে স্টাইলের নতুন ভাষা।

ছকে বাঁধা সাজে অনীহা
জেনজি প্রজন্মের অনেকেই এখন আর সাজেন না সঠিক নিয়মে। পোশাক বা জুতা পরার নিয়মেরও কোনো তোয়াক্কা করে না। বরং তারা সাজেন নিজস্বতা আর সাহসিকতার জায়গা থেকে।
পোশাক আর জুতার অসম্ভব জুটিই যেন, হয়ে উঠছে নতুন ট্রেন্ড। স্টাইলিশ দেখাতে হলে এখন পারফেকশন নয়, চাই স্টেটমেন্ট। একঘেয়ে ডেনিম আর সাদামাটা টপকেও ‘ভুল’ একজোড়া জুতা করে তুলতে পারে নজরকাড়া।
ঢাকাতেও দেখা মিলছে
এই প্রবণতা থেমে নেই কেবল নিউইয়র্ক বা লন্ডনের রাস্তায়। ঢাকার ধানমণ্ডি, গুলশান কিংবা বনানীর ক্যাফেগুলোতেও দেখা মিলছে ‘ভুল জুতা’র পরীক্ষানিরীক্ষা। কেউ পরছেন সুতি সালোয়ার কামিজের সঙ্গে ভারী স্পোর্টস শু, কেউ আবার ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে পরছেন রঙিন স্লিপার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা কিছুটা বিদ্রোহের প্রতীকও বটে। নিখুঁত সাজের পেছনে না ছুটে এখন মানুষ খুঁজছেন নিজের মতো করে ফ্যাশনকে ব্যাখ্যা করার উপায়।
সাজপোশাকে ‘ভুল’ মানেই হয়তো নতুন সঠিক
‘রং শু থিওরি’ নামটি যতই ভুলের ইঙ্গিত দিক, এই ভুলটাই এখন তরুণদের স্টাইল স্টেটমেন্ট। আপনি যদি পরের বার হিলস পরেন ট্র্যাকপ্যান্টের সঙ্গে বা লং কুর্তির নিচে পরেন রাফ অ্যান্ড টাফ বুট। তবে বুঝে নেবেন, সময়ের হাওয়ায় আপনিও রয়েছেন একদম ঠিক পথে।


কলাম ড্রেসিং কী? জেনে নিন সহজ এই ফ্যাশন ট্রিক
ফ্যাশনের ‘রুল অব থার্ডস’ কী জানেন?
