নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে (এনওয়াইএফডব্লিউ) আর কোনো ডিজাইনার পোশাকে ব্যবহার করতে পারবেন না প্রাণীর লোম। এমন ঘোষণা দিয়েছে আয়োজক সংস্থা কাউন্সিল অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স অব আমেরিকা (সিএফডিএ)। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে।
সিএফডিএ জানিয়েছে, সরকারি সূচির কোনো কালেকশনে প্রাণীর লোম দেখা যাবে না। শুধু আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবিকার অংশ হিসেবে ঐতিহ্যগত শিকার থেকে পাওয়া লোমই ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে।
লন্ডনের পর এবার নিউইয়র্ক
২০১৮ সালে লন্ডন ফ্যাশন উইক প্রথম লোম নিষিদ্ধ করে। এবার যুক্ত হলো নিউইয়র্ক। তবে মিলান ও প্যারিস ফ্যাশন উইকে এখনো প্রাণীর লোম দেখা যায়।
হিউমেন ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালসের প্রেসিডেন্ট কিটি ব্লক বলেন, ‘এটি ফ্যাশন দুনিয়ায় বড় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। বড় ব্র্যান্ড, ইনফ্লুয়েন্সার আর মিডিয়া, সবাই প্রাণীর ওপর নির্যাতন কমানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক জায়গায় লোম উৎপাদন ও বিক্রি কমানো হচ্ছে। কারণ এতে প্রাণীর ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি এবং মানুষের স্বাস্থ্যেরও ঝুঁকি থাকে। এখনো প্রতি বছর কেবল লোমের জন্য প্রায় দুই কোটি প্রাণী মারা যায়।’
অনেক বড় ব্র্যান্ড আগেই লোম বর্জন করেছে
গুচি, শ্যানেল, প্রাদা, ক্যালভিন ক্লেইন, রালফ লরেন, ভার্সাচে, অনেক বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড আগেই তাদের কালেকশন থেকে প্রাণীর লোম বাদ দিয়েছে। স্টেলা ম্যাককার্টনি ২০০১ সালেই লোম, বর্জিত ফ্যাশন ব্র্যান্ড শুরু করেছিলেন।
কৃত্রিম লোমের চাহিদা বাড়ছে
রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটসের তথ্য বলছে, ২০২৫ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে কৃত্রিম লোমের বাজার বছরে ১৪ শতাংশের বেশি হারে বাড়বে। প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ, পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ এবং বড় ব্র্যান্ডগুলোর আগ্রহ, সব মিলিয়ে কৃত্রিম লোমের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের এই সিদ্ধান্ত ফ্যাশন দুনিয়ায় প্রাণী নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনকে আরও জোরালো করল।


রঙের ব্যবহারই পোশাকে আনতে পারে আভিজাত্যের ছোঁয়া
ডিওর পোশাকে নাতাশা পুনাওয়ালার ভ্যালেন্তিনো লুক
