দূরে কোথাও বেড়াতে গেলে হোটেলই ভরসা। কিন্তু যতই বিলাসবহুল হোক, আবাসিক হোটেলে থাকার সময় কিছু বিষয় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। না হলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
চলুন জেনে নেয়া যাক কোন কাজগুলো হোটেলে একেবারেই করা উচিত নয়-
রিমোটের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
আপনি আসার আগে বহু মানুষ আপনার হোটেল রুমের টেলিভিশনের রিমোট ব্যবহার করে গেছে। হোটেলের অন্য সব জিনিস পরিষ্কার করলেও রিমোট তো আর সেভাবে পরিষ্কার করা হয় না। তাই হোটেলের জীবাণুর একটি বড় অংশ থেকে যায় টিভির রিমোট কন্ট্রোলে। তাই যতটা সম্ভব রিমোট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে সঙ্গে রাখুন কিছু অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওয়াইপস। তাছাড়া আজকাল ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ বা ইউটিউবের মাধ্যমেই লাইভ টিভি শো দেখার সুযোগ রয়েছে।
মূল্যবান জিনিস লুকোনো থাক
ভ্রমণের সময় অনেকেই বড় অঙ্কের টাকা বা মূল্যবান অলঙ্কার সঙ্গে রাখেন। এরপর হোটেল কক্ষের কোথাও বা লাগেজেই বেখেয়ালে ফেলে রাখেন। কিন্তু এটি করা একদম অনুচিত। কারণ হোটেল কক্ষ থেকেও চুরির ঘটনা ঘটে। এমন কোথাও মূল্যবান জিনিস লুকিয়ে রাখুন যেখানে কেউ খুঁজতেই যাবে না, যেমন প্রসাধনী বা ওষুধের খালি কৌটা। অধিক সতর্কতার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষের লকারেও রেখে দিতে পারেন।
‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন
যত দামি কক্ষই হোক, হোটেলে আপনার বাড়ির মতো স্বস্তি আর নিরাপত্তা আশা করবেন না। সারাদিনের ঘোরাঘুরি শেষে হোটেলের বিছানায় গা এলিয়ে দেয়ার পর যে কেউ উটকোভাবে আপনার ব্যক্তিগত পরিসরে বাধ সাধতে পারে। তাই সব সময় ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন দরজার বাইরে ঝুলিয়ে রাখবেন।
রুম নাম্বার উচ্চারণ করবেন না
চেক-ইনের সময়, রেস্টুরেন্টে বসে, বা লবিতে কারো সঙ্গে পরিচিত হয়েই চট করে নিজের রুম নাম্বারটি বলে ফেলবেন না। কারো সঙ্গে দেখা করতে হলেও হোটেলের বাইরে কোথাও গিয়ে করুন। কারণ দুর্বৃত্তরা এসব তথ্যের জন্য মুখিয়ে থাকে। অবাঞ্ছিত কেউ ঘরে ঢুকে বা চুরি করে ভ্রমণের আনন্দ মাটি করুক, সে প্রত্যাশা কারোরই থাকে না।
মিনিবারের চকলেট বা পানীয় নয়
প্রায় সব হোটেল কক্ষেই ছোট ফ্রিজ বা মিনিবার থাকে। অনেক সময় টেবিলেও চিপস, চকলেটের প্যাকেট ইত্যাদি রাখা থাকে। হোটেলে রাখা এসব কখনোই খেতে যাবেন না। কফি, টি ব্যাগ, পানি সাধারণত কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে দেওয়া থাকে, অর্থাৎ এসবের জন্য আলাদা করে বিল দিতে হয় না। কিন্তু অন্যান্য খাদ্যপণ্য বা পানীয়ের জন্য বিল দেওয়া বাধ্যতামূলক। অনেক সময় এসবের মূল্য বাইরের চেয়ে দুই-তিনগুণ রাখা হয়। আপনার সঙ্গে শিশু থাকলে তাকেও বুঝিয়ে বলবেন যেন মিনিবারের পানীয় বা চকলেটের জন্য সে জেদ না করে।
ছারপোকার তল্লাশি
অভিজাত হোটেলের সুসসজ্জিত বিছানায়ও এই ক্ষুদ্র জীবটির অস্তিত্ব রয়েছে! ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার সময় আপনার সঙ্গে স্যুভেনির হিসেবে এরাও চলে আসতে পারে! হোটেলের বিছানা এবং কক্ষে আপনার লাগেজ ও মূল্যবান সামগ্রী রাখার আগেই ছারপোকা আছে কিনা নিশ্চিত হন। বিছাবার চাদর, বালিশ, সোফা, চেয়ার বা অন্য কোথাও এই পোকার রক্ত বা মলের ছোপ লেগে আছে কিনা খুঁজুন।ছারপোকার আনাগোনা দেখা মাত্রই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
কলের পানি পান নয়
একবার আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসের একটি হোটেলে উঠেছিলেন এক ব্রিটিশ দম্পতি। সে হোটেলের পানি পান করে তাঁরা এবং অন্যান্য অতিথি বেশ তৃপ্তি পেয়েছিলেন। কেমন এক বিচিত্র গন্ধ ছিল সে পানিতে! দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর জানা যায়, সেই হোটেলের ট্যাংকে ভেসে ছিল এক মরদেহ! তাই হোটেলের কল থেকে সরাসরি কখনোই পানি খেতে যাবেন না।
তথ্যসূত্র: স্মার্টার ট্রাভেল


হোটেলের বিছানায় কেন সাদা চাদর ব্যবহার করা হয়?
হোটেলে চেক-আউট সময় বেলা ১২টা কেন হয় জানেন?
