গণতন্ত্র চাই, বিরোধী দল চাই না

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৩ পিএম

দশে মিলে করি কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ–এই কথাটা শিশুকালে আমাদের মাথায় একবার যে ঢুকেছে, তা আর বেরই হয় না। এর হরেক ব্যাখ্যা আমরা নিজের মতো করে দিয়ে থাকি। দশজন মিলেমিশে কাজ করতে হলে সবাইকে কি একমত হতেই হবে? না, ভিন্ন মতের কোনো জায়গা আছে? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমরা জাতিগতভাবে প্রথমটারই পক্ষে–বিচার মানি তালগাছটা আমার।

সেই ১৯৪৭ সাল থেকে এই বঙ্গীয় বদ্বীপে গণতন্ত্রিক শাসনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ অপেক্ষায় আছে। পাকিস্তান শাসনের (১৯৪৭-৭১) ২৪ বছরে মাত্র চারটি নির্বাচনে ভোট দিতে পেরেছিল এখানকার মানুষ। ১৯৭০ ছাড়া বাকিগুলোকে সেভাবে নির্বাচন বলে অভিহিত করা কঠিন। যে কারণে ‘স্বপ্নের পাকিস্তানে’ নিজের অধিকার না পাওয়ার ফলই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। সেখানে অবশ্যই মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথাও ছিল। তবে তা ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই অর্থনৈতিক মুক্তি। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকার এ দেশের মানুষ প্রথম হারাল ১৯৭৩-এর নির্বাচনে। 

১৯৭৩-এর জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট দেখার জন্য আমরা জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাহায্য নিতে পারি। প্রয়াত আহমদ ছফা তাঁর যদ্যাপি আমার গুরু বইতে অধ্যাপক রাজ্জাককে উদ্ধৃত করে লিখছেন, “সেভেন্টি টুতে একবার ইউনিভার্সিটির কাজে তাঁর লগে দেখা করতে গেছিলাম। শেখ সাহেব জীবনে অনেক মানুষের লগে মিশছেন ত আদব লেহাজ আছিল খুব ভালা। অনেক খাতির করলেন। কথায়-কথায় আমি জিগাইলাম, আপনের হাতে ত অখন দেশ চালাইবার ভার, আপনে অপজিশনের কী করবেন। অপিজিশন ছাড়া দেশ চালাইবেন কেমনে। জওহরলাল নেহরু ক্ষমতায় বইস্যাই জয়প্রকাশ নারায়ণরে কইলেন, তোমরা অপজিশন পাটি গইড়্যা তোল। শেখ সাহেব বললেন, আগামী নির্বাচনে অপজিশান পাটিগুলা ম্যাক্সিমাম পাঁচটার বেশি সীট পাইব না। আমি একটু আহত অইলাম, কইলাম, আপনে অপজিশনরে একশো সিট ছাইড়্যা দেবেন না? শেখ সাহেব হাসলেন। আমি চইল্যা আইলাম। ইতিহাস শেখ সাহেবরে স্টেট্‌সম্যান অইবার সুযোগ দিছিল। তিনি এইডা কামে লাগাইবার পারলেন না।” (পৃ-৭৩) গণতন্ত্রে বিরোধী দলের গুরুত্ব না বোঝার ভুলের সেই শুরু, যার মাসুল আজও দিয়ে চলেছে এই দেশ।

স্বাধীন দেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। কিন্তু এর আগেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভোলার একটি আসনে জাসদের প্রার্থী ডা. আজহারউদ্দিনের অপহরণ। ওই আসনে বঙ্গবন্ধুকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তিনি মোট চারটি আসনে প্রার্থী হয়ে দুটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নয়জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ মনোনয়নপত্র জমাই দিতে পারেননি। এরা হলেন সোহরাব হোসেন, তোফায়েল আহমেদ, মোতাহার উদ্দিন, কে এম ওবায়দুর রহমান, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া, মনোরঞ্জন ধর, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও জিল্লুর রহমান। (সূত্র: বেলা-অবেলা, বাংলাদেশ ১৯৭২-১৯৭৫, মহিউদ্দিন আহমেদ)। একই বইয়ে প্রয়াত সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মহিউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, “(১৯৭৩ সালের) ৭ মার্চের নির্বাচনের দিনের ঘটনা ছিল লজ্জাজনক ও হাস্যকর। বিকেল পাঁচটা থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে নির্বাচনের ফলাফল আসছিল। শত শত কর্মকর্তা ও সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাত নয়টার দিকে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে এঁরা জিতে গেছেন, যেমন ন্যাপ থেকে আলীম আর রাজী, আবদুর রহমান, মসিয়ুর রহমান, রাশেদ খান মেনন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত; জাসদের শাজাহান সিরাজ, এম এ জলিল ও আবদুস সাত্তার। …এমনকি টেলিভিশনে তাঁদের কয়েকজনকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। রাত ১০টার দিকে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা বন্ধ রাখার নির্দেশ আসে।”

স্বাধীন দেশের প্রথম নির্বাচনে নিজের ভোটটা দিতে পারেননি প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। ওই সময় ফল চুরির আরেকটি বড় অভিযোগ ছিল। কুমিল্লার দাউদকান্দি আসনে জাসদের প্রার্থী আবদুর রশীদ ইঞ্জিনিয়ার আওয়ামী লীগের প্রার্থী খন্দকার মোশতাক আহমদকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার হস্তক্ষেপ করে মোশতাককে ওই আসনে জিতিয়ে দেয়। মোশতাকের পরের ইতিহাস তো সবার জানা!

১৯৭৩-এর ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৩ আসনে জয়লাভ করে (একটি করে আসন পায় জাতীয় লীগ ও জাসদ এবং বাকি পাঁচটি স্বতন্ত্র)। বঙ্গবন্ধুর কথাই ঠিক হয়–‘আগামী নির্বাচনে অপজিশান পাটিগুলা ম্যাক্সিমাম পাঁচটার বেশি সীট পাইব না।’ অধ্যাপক রাজ্জাক যে প্রজ্ঞা থেকে বিরোধীদের এক শ আসন ছেড়ে দিতে বলেছিলেন, তা বঙ্গবন্ধু বা তাঁর দল অনুধাবন করতে পারেনি। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটিকে ক্ষমতার অপ্রয়োজনীয় অপপ্রয়োগের মাধ্যমে একাধিক আসন জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া থেকে কেউ বিরত করতে পারেনি। ফলে বিরোধী দলহীন সংসদে আওয়ামী লীগের রাশ টানার মতো কেউ ছিল না। তাই ভয়ঙ্কর ক্ষমতাশালী আওয়ামী লীগকে একদলীয় বাকশাল গঠন থেকে বিরত করতে পারেনি কেউ। এর জের জাতিকে টানতে হয়েছে পরবর্তী সেনাশাসকদের অধীনে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত।

স্বাধীনতার পর থেকে অধিকার হারানো মানুষ আবার পথে নামে ১৯৯০-এর ডিসেম্বরে। সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতা দখলকারী হোসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ সরকারের পতন ঘটে ৬ ডিসেম্বর। এটা ছিল একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর দেশের মানুষের বড় জয়। আন্দোলনে বিজয়ের পর দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র যাতে আর পা পিছলে না পড়ে, সেজন্য আন্দোলনকারী তিনটি জোট একটি অভিন্ন রূপরেখায় একমত হয়েছিল। এই তিন জোটে ছিল বিএনপির নেতৃত্বে সাত দলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আট দলীয় জোট ও বামদের পাঁচদলীয় জোট। জামায়াতে ইসলামী ছিল আলাদা, এককভাবে। ক্ষমতার এই পালাবদলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গিয়ে পড়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের ওপর। পরদিন (৭ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে দেন–“…আমার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ হলো দেশে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।” ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। স্বাধীন দেশে প্রথমবারের মতো একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু তিন বছরের মাথায় এই অবাধ নির্বাচনের ধারণা বিপুলভাবে ধাক্কা খেল, ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ মাগুরার একটি আসনের উপনির্বাচনে। এই আসনটি লাগামহীন কারচুপির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেয় বিএনপি। মাগুরার সেই নির্বাচন নজির হয়ে থাকে। বিরোধী দল ও দেশের মানুষের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। ফলে হালে পানি পায় বিরোধী দলের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি। বিএনপি প্রথমে একে একেবারে পাত্তা না দিলেও শেষ পর্যন্ত মেনে নেয়। এই মেনে নেওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ১৯৯১ বা ১৯৯৬ সাল ছাড়া আমাদের জাতীয় সংসদে সেভাবে কোনো দিন শক্তিশালী বিরোধী দল ছিল না। বিরোধী দল ২০০১ থেকে ক্রমক্ষীয়মাণ হতে হতে ২০২৪-এ অপসৃতই হয়ে গেল। ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪-এ যাদের বিরোধী দল বলে দাবি করা হয়েছে, তা শুনে নিশ্চয় হোজ্জার ঘোড়াও হেসেছে। আর বিরোধী দলের এই দশার কারণে শেখ হাসিনার সরকার গত ১৫ বছর, বিশেষ করে শেষ ১০ বছর চরম স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। যা মানুষকে তিলে তিলে দ্বগ্ধ করে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। ক্ষমতা ও দেশ থেকে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক বিদায় শুধু রাজনীতিক না, অন্যদেরও কি কোনো শিক্ষা দেবে?

মনে হয় না। একটি গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমানে যে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায়, তাদের লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত। কাজের চেয়ে কথার তুবড়ি ফুটে চলেছে বেশি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার নজির কম। অথচ সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের সন্তান বলে বর্ণনা করেছেন। সরকারের নানা কাজে ধীরে ধীরে অনেকেই এটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, তাদের পছন্দমতো একটি সরকার বসানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই তারা বিদায় নেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করবেন। কিন্তু সত্যিই যদি তারা শুভাকাঙ্ক্ষী হয় থাকেন, তাহলে তাদের সরকারের চেয়ে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষকে নিয়ে ভাবতে হবে। জাতীয় সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করে দুর্বল সরকার তৈরি সম্ভব, কিন্তু শক্তিশালী বিরোধীপক্ষ হবে না। কেন টেকসই গণতন্ত্রে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল বা জোট লাগে, এবার সেই বিষয়টি একটু দেখা যাক।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (১৯৬১-৬৩) স্যার উইলিয়াম আইভর জেনিংসের মতে, যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই। স্যার জেনিংস শুধু শিক্ষাবিদ নন, তিনি একজন আইনবিদও বটে। তিনি কনস্টিটিউশনাল ল-এর ওপর একজন অথোরিটি হিসেবে খ্যাত। শ্রীলঙ্কার সংবিধান রচনায় সাহায্য করেছিলেন। এহেন লোকের কথা তো ফেলে দেওয়া যায় না।

বিরোধী দল যেকোনো কার্যকরী গণতন্ত্রের একটি মৌলিক স্তম্ভ। ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহি বজায় রাখতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে বিরোধীদের উপস্থিতি স্বচ্ছ শাসনের জন্যও জরুরি। একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলে সেখানে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থান ও প্রতিযোগিতা করতে পারে–এটা একমাত্র হতে পারে শাসক ও বিরোধী পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গণতন্ত্রে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতা যাতে কোনো একক দল বা নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়, যা আদপে কর্তৃত্ববাদ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকে নিয়ে যায়, তা ঠেকানোর জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল জরুরি।

গণতন্ত্রে বিরোধী দলের একটি প্রাথমিক ভূমিকা হলো সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা বা করার চেষ্টা করা। ক্ষমতাসীন দলের নীতি, সিদ্ধান্ত ও কাজকে চ্যালেঞ্জ করে বিরোধী দল নিশ্চিত করে যে, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করছেন। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে, বিরোধী দল আইন প্রণয়নে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করে। সংসদীয় বিতর্ক, আইন প্রণয়নে তদারকি ও অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারের ক্ষমতার দাপটে লাগাম টানে। প্রকৃত বিরোধী দল স্বচ্ছতাকে উৎসাহিত করে এবং ক্ষমতাসীন দলকে তার সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা পেতে সাহায্য করে। সরকারকে জবাবদিহির ওপর রেখে নাগরিক অধিকার হরণ রোধ করে সাংবিধানকে সমুন্নত রাখতে সাহায্য করে।

গণতন্ত্র প্রাথমিকভাবে একটি সমাজের বিভিন্ন কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধিত্ব করে। এই ভিন্ন স্বরের একটি মাধ্যম হলো বিরোধী দল বা দলগুলো। এতে সংখ্যালঘু কণ্ঠস্বরকে একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া যায়। বিরোধী দলের বক্তব্য সরকারকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। তাই গণতন্ত্রে বিরোধী দল, মত ও চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করা আবশ্যিক, যা অনেক জটিল সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য অপরিহার্য। 

গণতন্ত্রে যখন শাসক ও বিরোধী দল মুখোমুখি হয়, তখন তার থেকে অনেক প্রাপ্তিও থাকে। সক্রিয় বিরোধী দল নাগরিকদের চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করে। ক্ষমতাসীন দল যদি জানে যে, বিরোধী নেতারা প্রতিটি নীতি যাচাই-বাছাই করবেন এবং এর দুর্বলতাগুলো তুলে ধরবেন, তাহলে নতুন কিছু জনগণের সামনে হাজির করার আগে দশবার ভাববে। একইভাবে ওই বিরোধী দল যদি কখনো ক্ষমতায় যায়, তাহলে সে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারবে যে, কোনটা করা ঠিক আর কোনটা করা উচিত না। 

বিরোধী দল না থাকলে বাক, সমাবেশ করার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করার মতো কেউ থাকে না, যা আসলেই গণতন্ত্রের ভিত্তি। আমাদের নিকট অতীত তারই সাক্ষ্য দেয়। সরকার আইন করে/ না করে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা সীমিত করতে, সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু শক্তিশালী বিরোধীপক্ষ থাকলে তা অসম্ভব না হলেও খুবই কঠিন।

একটি কার্যকরী গণতন্ত্রে নাগরিকদের পছন্দের বা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। বিরোধী দলগুলো সেই বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এতে ভোটের মাধ্যমে নাগরিকেরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে তাদের সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে। পাশাপাশি বিকল্প থাকার উৎকণ্ঠায় ক্ষমতাসীনেরাও বেলাইনে যাওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে। 

তাই বিরোধী দলের অস্তিত্ব নিছক গণতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি সুস্থ, কার্যকরী গণতন্ত্রের শক্ত মেরুদণ্ড তৈরির পাশাপাশি এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে, যা স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও অগ্রগতি অর্জনে একান্ত জরুরি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যতের শাসকদল ঠিক করার চেয়েও একটি শক্তিশালী বিরোধী দল তৈরির বিষয়টি যদি নিশ্চিত করে যেতে পারে, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। 

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল মিডিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন 

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রায় দুই বছর ভারতে অবস্থানের পর দেশে ফিরে তাঁর আত্মসমর্পণের...
​সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও...
বিরোধী দল কিংবা ভিন্নমত দমনে মামলা-হামলা, গুম, অপহরণ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড—ফ্যাসিবাদের সাড়ে ১৫ বছর এসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশ। আর সেসব অমানবিক জুলুম-নিপীড়নের মুখে সর্বাধিক ভুক্তভোগী...
নারীমুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৯০৫ সালে ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে একটি কালজয়ী উপন্যাস লিখেছিলেন। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত সেই গ্রন্থে পুরুষের সহায়তা ছাড়াই নারীদের দ্বারা শাসিত...
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার অটো পাসের মতো করে সরকার চালাতে চায়। আবু সাঈদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের সেবা না করে, বাংলাদেশে আর কাউকে অটো পাসের...
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল-ফারহাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোছা. রিম্পা নামের এক নারী বন্দি পালিয়ে যান। রোববার তাকে মোহাম্মদপুর থেকে...
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দগুচ্ছ আবারও যুক্ত হচ্ছে। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া নতুন...
আগামী বছর যেসব নতুন এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে, সেগুলোতে থাকবে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি সিটে মোবাইল চার্জিং সুবিধা। পৃথিবীর অনেক এয়ারলাইন্স যেখানে এই সেবার জন্য অতিরিক্ত...
লোডিং...

এলাকার খবর