ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের খোঁজ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে অনুসন্ধানকারী দল। তবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখান করেছে রেড ক্রিসেন্ট। অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ইরানী রেড ক্রিসেন্টের একজন কর্মকর্তা ওই দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় আছেন। তিনি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হেলিকপ্টারটি পাওয়ার খবর সঠিক নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
ওই এলাকার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জ্বালানিমন্ত্রী আলী আকবর মেহরাবিয়ানের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট খোঁজ পাওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো আপডেট নেই।
এতে বলা হয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো ওই এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে, যেখানে হেলিকপ্টারটি পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়া এলাকায় ৬৫টি দল এখন কাজ করছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন হেলিকপ্টারটি সন্ধান পাওয়ার কাছাকাছি তাঁরা।
এর আগে রোববার প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলের বরাতে দিয়ে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এখন পর্যন্ত হেলিকপ্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বার্তা সংস্থা এপি বলছে, ইব্রাহিম রাইসি ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে গেছেন। আর এই দুর্ঘটনা ঘটেছে জলফা নামক এলাকার কাছে। প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজানের সীমান্ত এলাকা এটি।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। উদ্ধারে যুক্ত হয়েছে রেড ক্রিসেন্ট ও সামরিক সদস্যরাও। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে, এলাকাটি কুয়াশাচ্ছন্ন। এ কারণে হেলিকপ্টারের অবস্থান বোঝা যাচ্ছে না।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই বহরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। যার মধ্যে দুটি নিরাপদে ফেরে। যে হেলিকপ্টারটি আছড়ে পড়েছে, তাতে প্রেসিডেন্ট ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমিরাব্দুল্লাহিয়ান ও আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ আলী আলি-হাসেম ছিলেন। আলী–হাসেম ওই অঞ্চলে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতিনিধি ছিলেন।
আইআরএনএ নিউজ বলছে, প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দিজমার নামের একটি বন ও পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, রাইসি কী ধরনের হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করছিলেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইব্রাহিম রাইসি একটি বাঁধ উদ্বোধনের জন্য আজারবাইজান যান। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, হেলিকপ্টারটি গন্তব্যে পৌঁছার আগেই অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন:


প্রেসিডেন্ট রাইসির অনুপস্থিতিতে শাসনের ব্যত্যয় হবে না: খামেনির প্রতিশ্রুতি
