যে কোনো কারণে স্বামী বা স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে যেতে পারেন। তবে, বিবাহ বিচ্ছেদের সঙ্গে আরও কিছু বিষয় জড়িয়ে থাকে। আমাদের দেশে বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর করতে হলে আইন অনুযায়ী কিছু পদ্ধতি মানতে হয়। এ দেশে ধর্ম অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের ধরণেও ভিন্নতা রয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ বিচ্ছেদ
হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের কোনও বিধান নেই। দাম্পত্য সম্পর্ক তিক্ত পর্যায়ে গেলে একজন স্ত্রী তাঁর স্বামী থেকে পৃথক ভরণপোষণ এবং পৃথক বাসস্থান দাবি করে মামলা করতে পারেন। তবে বর্তমানে আমাদের দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই দেওয়ানি আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে ঘোষণামূলক মামলা করে থাকেন।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ বিচ্ছেদ
খ্রিষ্টান দম্পতি ডিভোর্স দিতে চাইলে জেলা জজ অথবা হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে হয়। দ্য ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯ এর ধারা ১৭ ও ২০ এর অধীন বিবাহ বিচ্ছেদ ও বাতিল–সম্পর্কিত রায় হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয়, যা অনেক বিচারপ্রার্থীর জন্য ঝামেলাপূর্ণ। আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া জটিল বলে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকে অ্যাফিডেভিট করে বিবাহবিচ্ছেদ ও আবার বিয়ে করে থাকেন। তবে এটা আইনসিদ্ধ নয়।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিবাহ বিচ্ছেদ
বৌদ্ধ ধর্মে ডিভোর্সে কোন বাঁধা নেই। বৌদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী যদি কোন বিয়ের সম্পর্কে কষ্ট ভোগ করতে হয়, তাহলে সেই বিয়ে থেকে বিচ্ছেদ ই ভালো। পারিবারিক আইন অর্ডিন্যান্স ১৯৮৫ অনুযায়ী যে কোন ধর্মাবলম্বী পারিবারিক আদালতে গিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারে। এ ছাড়াও আমাদের দেশে বিশেষ বিবাহ আইন (স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৭২) রয়েছে। এই আইনটি হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ এবং জৈন ধর্মাবলম্বী দের জন্য প্রযোজ্য। বৌদ্ধ ধর্মে যুগল পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞ আদালত দুই পক্ষের কথা শুনে বিচ্ছেদের এর অনুমতি দিতে পারেন। আর যদি দুই পক্ষের কথা শুনে বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট না হয় তাহলে অনুমতি না ও দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ
বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে হলে স্বামী বা স্ত্রী চাইলেই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবেন না। এ আইন অনুযায়ী কোনও পক্ষ বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলে তাঁকে ১৮৬৯ সালের ডিভোর্স অ্যাক্ট অনুযায়ী এ বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। এর জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আদালতের অনুমতিক্রমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। বিবাহ বিচ্ছেদের নামে একটি হলফনামা পাঠিয়ে দিলেই বিচ্ছেদ হয়ে যাবে, সেটি বলা যাবে না। আদালতের অনুমতি ছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন করতে চাইলে অপর পক্ষ তা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।
লেখক: ব্যারিস্টার,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট



