রমজানে রোজা ভাঙার জন্য ইফতারের সময় খেজুর খাওয়া খুবই ভালো অভ্যাস। ইফতারিতে খেজুর না থাকলে যেন টেবিলে পরিপূর্ণতা আসে না। খেজুর খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি খুবই পুষ্টিকর খাবার।
খেজুরের বেশ কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে
১. দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি: খেজুর গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ এবং সুক্রোজের মতো প্রাকৃতিক শর্করাতে সমৃদ্ধ, যা একদিন উপবাসের পরে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত পূরণ করে।
২. পুষ্টিকর খনিজ লবণের উৎস: খেজুরে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ফাইবারসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ লবণ রয়েছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং জীবনীশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৩. ফাইবার সমৃদ্ধ : খেজুরে উচ্চ ফাইবার উপাদান স্বাস্থ্যকর, হজম এবং নিয়মিত মলত্যাগকে উৎসাহিত করে এবং হজমের অস্বস্তি কমায় ।
৪. হাইড্রেশন: খেজুরে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা একদিন উপবাসের পর শরীরকে হাইড্রেট করতে সাহায্য করে।
৫. অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য: খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের ব্যথা-বেদনা ও প্রদাহ কমায়,এবং সুস্থতাকে সমর্থন করে ।
প্রাপ্তবয়স্ক টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজান পালন করা এবং খেজুর খাওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পরামর্শ যে, তারা তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বা একজন নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করুন, যাতে আপনারা রমজানের সময় সঠিক পরিমাণে খেজুর খেতে পারেন। সাধারণত এক থেকে দুইটি খেজুর খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যুক্তিসংগত। কিন্তু এটি রোগীর রক্তে বর্তমান সুগারের পরিমাণ, খাদ্যের চাহিদা এবং রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। রোগীদের উচিত রমজানের সময়কালে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং স্থিতিশীল মাত্রা বজায় রাখার জন্য শর্করা গ্রহণের পরিমাণে সামঞ্জস্য রাখা।
লেখক: পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
আরও পড়ুন:



