চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ২০৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যা গত মাসের তুলনায় ৭০টি বেশী। এ মাসে ধর্ষণের ৩৫টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১১টি, ধর্ষণ ও হত্যা ২টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরী।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রেরিত ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন সেপ্টেম্বর, ২০২৪’ এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল এ প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠায় এমএসএফ। বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে এমএসএফ এর পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ধর্ষণের শিকার ৩৫ জনের মধ্যে ৯ জন শিশু, ১০ জন কিশোরী রয়েছে, অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ জন শিশু, ৪ জন কিশোরী ও ৬ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ১ জন শিশু ও ১ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ১৪টি, যৌন হয়রানি ১৫টি, শারীরিক নির্যাতনের ২৫টি ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ২ জন শিশু, ১২ জন কিশোরী ও ২১ জন নারীসহ মোট ৩৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ২ জন কিশোরী অপরদিকে ৬ জন কিশোরী ও ১ জন নারী নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও সেপ্টেম্বর মাসে ২ জন কিশোরী ও ৩ জন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৬২ জন শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ১৮ জন শিশু ও কিশোরী রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত ও অভিমান ইত্যাদি কারণে এ হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ৭ জন মৃত ও ৫ জন জীবিত মোট ১২ জন নবজাতক শিশুকে বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে যা অমানবিক ও নিন্দনীয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতারোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না। সেপ্টেম্বর মাসে দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যেমন– ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, আত্মহত্যা, পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা গত মাসের তুলনায় বেড়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা ঘটছে, যা জাতীয় জীবনে অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।


আগস্ট মাসে ১৩৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে: এমএসএফ
কন্যাশিশুর সমঅধিকার পরিবার দিলেই সমাজ দেবে
