আমেরিকা কি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র?

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৩২ পিএম

চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকের কথা।

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তখন শনির দশা। আদালতের রায়ে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়াটাই ভেস্তে যায় কিনা—সেই শঙ্কা উঠে গিয়েছিল জোরেশোরে। তাঁর বিরুদ্ধে ছিল পর্নস্টারের মুখ বন্ধ করতে আর্থিক লেনদেনের এবং তার জন্য ব্যবসায়িক নথিপত্রে গড়মিল করার অভিযোগ। নিউইয়র্কের আদালত এই অভিযোগে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্তও করে।

আর এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বিচার ব্যবস্থাকেই ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। সেই সঙ্গে আমেরিকাকে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর সহযোগীরাই ফাঁসাচ্ছেন তাঁকে। তাঁদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনাতেই সব হচ্ছে। সে সময় এ নিয়ে নানা সংবাদও হয়েছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রতিযোগী। এমনকি তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাও আছে ঢের। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি এর আগে এক দফা আমেরিকার প্রেসিডেন্টও ছিলেন। এমন একজন ব্যক্তি যখন নিজের দেশকে ‘ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র’ বলে বসেন, তখন আমলে নেওয়া কিন্তু দোষের নয়।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমেরিকা কি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র?

বলে নেওয়া ভালো যে, আমেরিকা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কিনা—সেই আলোচনা বা বিতর্ক এবারই প্রথম ওঠেনি। গত শতকের শুরু থেকেই এমন বিতর্ক জারি আছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের অনেক লক্ষণ দেখা যায় আমেরিকায়। যদিও আমেরিকা সারা বিশ্বকে প্রায়ই গণতন্ত্রের সবক দেয়!

ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিস্ট শব্দদুটি উচ্চারিত হলেই মূলত দুটি ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। একটি হচ্ছে নাৎসি জার্মানির বা হিটলারের জার্মানির। অন্যটি হচ্ছে বেনিতো মুসোলিনির ইতালি। এই দুটি হলো প্রমাণিত সত্যের মতো ফ্যাসিজমের উদাহরণ। সাধারণত বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগ এ দুটিকে ফ্যাসিজমের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ধরে থাকেন।

ফ্যাসিজম একটি রাজনৈতিক আদর্শ। ল্যাটিন শব্দ ‘ফ্যাসেস’ থেকে নিজের রাজনৈতিক দলের নামকরণ করেছিলেন ইতালির বেনিতো মুসোলিনি। এ দিয়ে মূলত গাছের ডাল বা কাঠ দিয়ে শক্ত করে বাঁধা কুঠারকে বোঝানো হয়। ব্রিটানিকা বলছে, প্রাচীন রোমে দণ্ডপ্রদানকারী কর্তৃপক্ষের প্রতীক হিসেবে এই ফ্যাসেস’কে বোঝানো হতো। আশা করি, এখন শব্দগতভাবে কিছুটা হলেও ফ্যাসিজমের একটি অবয়ব চোখের সামনে আবির্ভূত হচ্ছে।

রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে ফ্যাসিবাদ অত্যন্ত জটিল। একই সঙ্গে এটি নিয়ত পরিবর্তনশীলও। ১৯২০ থেকে ১৯৩০–এর দশকে ইউরোপে এর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভব ও বিস্তার ঘটে। এবং তার প্রতিভূই মূলত হিটলার ও মুসোলিনি। মুসোলিনি এক্ষেত্রে ছিলেন অগ্রগামী সৈনিক। হিটলার তাঁর কাছ থেকে অনেক শিক্ষাই নিয়েছিলেন এবং নিজের স্বার্থে সেসব কাজেও লাগিয়েছিলেন। জার্মানি ও ইতালির পর ফ্যাসিবাদী আদর্শের ভিত্তিতে ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গঠিত হয়েছিল। আবার ইউরোপীয় ফ্যাসিস্টদের দেখাদেখি লাতিন আমেরিকাতেও এই আদর্শের প্রসার পরিলক্ষিত হয়েছিল।

ফ্যাসিবাদ বললে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সবাই বিবেচনা করে একটি রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রনৈতিক ব্যবস্থাকে। কিন্তু ফ্যাসিবাদ একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও। এবং এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এটিই ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক বন্দোবস্তকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফ্যাসিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় গড়ে ওঠে একই ভাবধারার একটি কার্টেল। এটিই এক পর্যায়ে ফ্যাসিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোয় সকল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে। এক ধরনের একচেটিয়া ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। অর্থ ও বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় ও কৃষিসংক্রান্ত নির্দেশনাসহ উৎপাদন ও বিপণণের নানা নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে থাকে এই কার্টেল। এটিই হয়ে দাঁড়ায় সর্বময় কর্তা। মূলত রাষ্ট্রের ক্ষমতা সুসংহত করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এর পাশাপাশি রক্ষণশীল অভিজাত ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত সম্পদ ভোগ ও তা বৃদ্ধি করার সুযোগও দেওয়া হয়। যদিও পারিশ্রমিক বা মজুরির হার ও মাত্রা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলে ফ্যাসিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়। শ্রমিকদের কম বেতন দিয়ে বাড়তি হিসেবে জাতীয় মর্যাদা গেলানোর প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়।

মজার বিষয় হলো, ফ্যাসিবাদ বলতেই যে হিটলার ও মুসোলিনির কথা আমাদের মাথায় খেলা করে, সেই সময়কার জার্মানি ও ইতালি ছাড়াও আরও কিছু দেশেও এই ফ্যাসিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পত্তন হয়েছিল। সেসব দেশের মধ্যে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকাও ছিল!

জার্মানির ফ্যাসিস্ট শাসক অ্যাডলফ হিটলার। ছবি: রয়টার্সসাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শুরুর আগে মুসোলিনি ও হিটলারের এ ধরনের ফ্যাসিবাদী অর্থনীতির প্রশংসায় ছিলেন আমেরিকা–ইউরোপের নেতারাও। আমেরিকা–ইউরোপের কিছু দেশেও ফ্যাসিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কিছু কিছু চালু হয়েছিল। খোদ আমেরিকাতেই এ ঘরানার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৩৩ সালে মার্কিন মুলুকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ‘নিউ ডিল’ নামের যে নীতি আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, অনেক বিশ্লেষকই সেটিকে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর অনুরূপ বলে মনে করে থাকেন। তাদের মতে, ফ্যাসিস্ট করপোরেট স্টেট হিসেবে আমেরিকার রূপান্তরের শুরু ছিল সেটাই। এ নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। রুজভেল্টের শত্রু হওয়ার আগে বেনিতো মুসোলিনি কিন্তু ‘নিউ ডিল’–এর বেশ প্রশংসাই করেছিলেন, সেটিকে ‘সাহসী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। পাল্টা হিসেবে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টও মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন যে, মুসোলিনি ইতালির পুনর্জন্মের জন্য সৎভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ইতালির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও বেশ আশাবাদী ছিলেন রুজভেল্ট। তবে এর কিছুকাল পরেই ইতালি ও জার্মানির ফ্যাসিবাদ সম্প্রসারণবাদী রূপে নিজেদের রাঙানোয় সেই ঘনিষ্ঠতা রূপান্তরিত হয় ঘোর শত্রুতায়।

আমেরিকার মেরিল্যান্ডের লোয়োলা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন থমাস জে. ডিলরেনজো। তাঁর মতে, ফ্যাসিবাদের অর্থনীতি হলো করপোরেটিজম। ১৯২০ ও ১৯৩০–এর দশকে এটি যেমন ইতালি ও জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তেমনি ওই সময়ে এর একটি রূপ আমেরিকাতেও আবির্ভূত হয়েছিল। তখন মার্কিন মুলুকে একে বলা হতো, ‘পরিকল্পিত পুঁজিবাদ’। এই ফ্যাসিবাদী অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য এখনও আমেরিকাতে বর্তমান আছে ভালোভাবেই এবং এর প্রভাব ক্রমশ বাড়বে বলেই মনে করেন থমাস ডিলরেনজো। তবে যেহেতু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্যাসিবাদ শব্দের ব্যবহার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে, সেহেতু একে ভিন্ন মোড়কে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে।

গত বছরের ডিসেম্বরে একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল, নাম ‘ফ্যাসিজম ইন আমেরিকা: পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট’। এটি সম্পাদনা করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল ডি. রোজেনফেল্ড ও জ্যানেট ওয়ার্ড। ফেয়ারফিল্ড ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল রোজেনফেল্ড মনে করেন, আমেরিকায় ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি এখন আর কল্পিত কোনো বিষয় নয়। যদিও সাধারণ মার্কিন জনগণ এখনও একে বাস্তব হিসেবে গণ্য করতে চান না। তারা মনে করেন, আমেরিকা যেসব মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রভাববিস্তারী হয়েছে, সেসবের পুরোপুরি বিরোধী হলো ফ্যাসিবাদ। মার্কিন জনগণের অধিকাংশ একে ঘৃণা করলেও আমেরিকায় ফ্যাসিবাদের ভিত্তি ক্রমে শক্তিশালী হয়েই চলেছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং এখনও এর বিস্তার অব্যাহত আছে।   

ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার ইতিহাসের অধ্যাপক জ্যানেট ওয়ার্ড মনে করেন, আমেরিকায় ফ্যাসিবাদের চর্চার ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রায় ১০০ বছর ধরে এই চর্চা ধীরে ধীরে জনতুষ্টিবাদ ও উগ্র ডানপন্থায় রূপায়িত হচ্ছে। এই বিষয়টি ক্রমশ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য এর বিপরীতে অনেক বিশ্লেষকই মনে করে থাকেন যে, আমেরিকা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র নয়। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো, দেশটিতে থাকা সরকার ব্যবস্থা ফ্যাসিবাদী নয়। এমনকি মার্কিন সমাজকেও ফ্যাসিবাদী বলা যাবে না। তবে হ্যাঁ, বিচ্ছিন্নভাবে দেশটিতে ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব রয়েছে। ফ্যাসিবাদী ঘরানার রাজনৈতিক নেতাও আছে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি ফ্যাসিবাদী হলেই, তা থেকে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তোলা যায় না।

এই প্রসঙ্গেই এসে যায় ‘পারটিসিপেটরি ফ্যাসিজম’ বা ‘অংশগ্রহণমূলক ফ্যাসিবাদ’–এর বিষয়টি। এই ধারণার প্রবক্তা রবার্ট হিগস। তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইনস্টিটিউটের রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ের সিনিয়র ফেলো ছিলেন। এছাড়া ইনডিপেনডেন্ট জার্নাল–এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকও ছিলেন। তিনি ‘ক্রাইসিস অ্যান্ড লেভিয়াথান’ নামে একটি বই লিখেছিলেন, যা ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ে এবং সংশ্লিষ্ট নানা নিবন্ধে রবার্ট হিগস অংশগ্রহণমূলক ফ্যাসিবাদের বিস্তৃত ধারণা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এখন এই ঘরানার ফ্যাসিবাদ ডানা মেলছে।

রবার্ট হিগসের মতে, ‘পারটিসিপেটরি ফ্যাসিজম’ বা ‘অংশগ্রহণমূলক ফ্যাসিবাদ’ একটি সুনির্দিষ্ট শব্দবন্ধ। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানাকে সীমিত আকারে সমর্থন দিয়ে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করায়ত্ত করা হয়। নানা উপায়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। বিশেষ করে নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের আয়োজন হয় হইহই রইরই ভঙ্গিতে। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। এভাবে জনগণের মধ্যে এই ভাব সঞ্চারিত করার চেষ্টা চলে যে, জনগণই আসলে সরকার চালাচ্ছে! কিন্তু ভেতরে ভেতরে পুরো ব্যবস্থাই থাকে ত্রুটিপূর্ণ এবং সেই ব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক আদর্শ যা চায়, তাই শেষ পর্যন্ত হয়। আর এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করে তাদের ব্যবহার করেই এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা হয়, যেখানে শোষিত হওয়ার পরও বিদ্রোহে শামিল হয় না সাধারণ জনতা। আর এভাবেই তলে তলে চলতে থাকে ফ্যাসিবাদের ইঞ্জিন।

ফ্যাসিবাদ বিষয়ক এই গবেষক বলেন, ‘আমেরিকায় অংশগ্রহণমূলক ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব বেশ ভালোভাবেই গেঁড়ে বসেছে। কিন্তু মার্কিন জনগণ এটি স্বীকার করে নিতে চায় না। তারা এটি মেনে নিতে পারে না যে, তারা এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাস করছে, যা নিখুঁতভাবে অংশগ্রহণমূলক ফ্যাসিবাদের মধ্যে পড়ে। তারা তাই বার বার বলে যে, ফ্যাসিবাদী হতে হলে ডেথ ক্যাম্প থাকতে হয়, ইউনিফর্ম পরা সিভিল ফোর্স থাকতে হবে, হিটলার বা মুসোলিনির মতো খুনী নেতা লাগবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, এসব হলো দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ের ইতালি ও জার্মানির ফ্যাসিবাদের লক্ষণ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ফ্যাসিবাদও বদলেছে এবং নানা সুনির্দিষ্ট কাঠামো লাভ করেছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তা ঘাঁটি গেড়েছে। চারদিকে একটু মনযোগ দিয়ে নজর দিলেই তা বোঝা যাবে।’   

সুতরাং, এতক্ষণের আলোচনায় এটি স্পষ্ট যে, আমেরিকায় সরকার ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি ফ্যাসিবাদী রূপ পরিগ্রহ করেনি। কিন্তু দেশটিতে ফ্যাসিবাদের চর্চা বিরাজমান অনেকদিন ধরেই। সেখানে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক নেতাও আছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমেরিকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি শক্ত হয়েছে। সাধারণ মার্কিনিরা যতই অস্বীকার করুক না কেন, খোদ আমেরিকার অনেক বিশ্লেষকই এই বিষয়টির সঙ্গে একমত। এসব ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে আরও তীব্র হয়ে উঠবে কিনা, সেই উত্তর নাহয় সময়ের কাছেই তোলা থাকল।

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

​সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও...
আরেকটি সাধারণ আশঙ্কা হলো–এআই দিয়ে তৈরি লেখা, ছবি ও কণ্ঠস্বর জনমত ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এই উদ্বেগগুলো যৌক্তিক। তবুও এসব উদ্বেগ আদতে আরও অস্বস্তিকর ও মৌলিক...
গাজা যুদ্ধের দুই বছর হতে চলল। জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডার মতো জি৭ জোটভুক্ত তিন দেশ ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এই ঘোষণা...
গাজা যুদ্ধের দুই বছর হতে চলল। জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডার মতো জি৭ জোটভুক্ত তিন দেশ ও অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির বিষয়ে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এই ঘোষণা...
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার অটো পাসের মতো করে সরকার চালাতে চায়। আবু সাঈদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের সেবা না করে, বাংলাদেশে আর কাউকে অটো পাসের...
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল-ফারহাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোছা. রিম্পা নামের এক নারী বন্দি পালিয়ে যান। রোববার তাকে মোহাম্মদপুর থেকে...
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দগুচ্ছ আবারও যুক্ত হচ্ছে। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া নতুন...
আগামী বছর যেসব নতুন এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে, সেগুলোতে থাকবে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি সিটে মোবাইল চার্জিং সুবিধা। পৃথিবীর অনেক এয়ারলাইন্স যেখানে এই সেবার জন্য অতিরিক্ত...
লোডিং...

এলাকার খবর