ডোপামিন, সেরোটোনিন, এন্ডোরফিন, অক্সিটোসিন- এ চারটি হলো আমাদের হ্যাপি হরমোন বা সুখের হরমোন। প্রাথমিকভাবে আমাদের নানা অনুভূতি ও সংবেদনশীলতা তৈরির জন্য দায়ী এই চার হরমোন; এমনকি আমাদের শারীরিক কর্মকাণ্ড থেকে মানসিক সুস্থতা সবই নিয়ন্ত্রিত হয় এ হরমোনগুলোর মাধ্যমে।
পছন্দের বা আনন্দের কাজ করার পর মস্তিষ্কে সুখী হরমোনের নিঃসরণ বহুগুণে বেড়ে যায়। আবার পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অন্যান্য কারণে এ হরমোনের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
আমাদের শরীর-স্বাস্থ্যে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার একদম সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস হওয়া, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মুড সুইং বা মেজাজের পরিবর্তন, ক্লান্তি, জয়েন্টে ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, চুল ঝরেপড়া, মুখে বা শরীরে লোমের পরিমাণ বৃদ্ধি প্রভৃতি।
তবে কিছু পুষ্টিকর খাদ্য রয়েছে যা আমাদের মন ভালো রাখবে, আবার হরমোনের ভারসাম্যও ঠিক রাখবে।একনজরে দেখে নিন তালিকা।
ডার্ক চকলেট
ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ কার্যকর। এতে এমন যৌগ রয়েছে যা এন্ডোরফিনের নিঃসরণ বাড়ায়। ডার্ক চকোলেটে আরও রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, যা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোতে পটাসিয়াম, ফাইবার এবং গুড ফ্যাট সহ সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এটি ভিটামিন বি-৬ এর একটি ভাল উৎস, যা সেরোটোনিন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
স্যামন
স্যামন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এই খাদ্য উপাদান কর্টিসল নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। প্রসঙ্গত, এই কর্টিসলকে 'স্ট্রেস হরমোন' নামেও ডাকা হয়, যা উদ্বেগ এবং নেতিবাচক ভাবনা সৃষ্টি করে।

সবুজ শাকসবজি
সবুজ শাকসবজি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে। এ ছাড়া পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এটি মানসিক চাপ নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা রেখে সুখী হরমোন বাড়িয়ে তোলে।
টমেটো
বাজারে এখন শীতের পাকা টমেটো মিলছে। টমেটোর খোসায় থাকে লাইকোপেন, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরে প্রদাহ উৎপন্নকারী রাসায়নিক তৈরি হতে দেয় না, যা বিষণ্ণতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে বিজ্ঞানীদের দাবি।
ফারমেন্টেড ফুড
ফারমেন্টেড ফুড বলতে প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবারকে বোঝায়। টকদই, কিমচি, কেফির প্রভৃতি এর মধ্যে পড়ে। এসব খাবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সহায়তা করে। হজমে উন্নতির পাশাপাশি ফারমেন্টেড ফুড উদ্বেগ এবং মানসিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বীজ এবং বাদাম
বাদাম চিবোনোর সময় কেমন ফুরফুরে লাগে খেয়াল করেছেন! বাদামের পাশাপাশি মিষ্টিকুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসির বীজ ম্যাগনেশিয়ামের বড় উৎস। মানসিক চাপ এবং প্রদাহ কমিয়ে মন ভালো রাখতে সাহায্য করে বাদাম এবং বীজ।

কলা
কলাও আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ এবং সুখী হরমোন উৎপাদনে পরোক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে। সেরোটোনিন উৎপাদনের জন্য ভিটামিন বি-৬ প্রয়োজন, যা কলায় প্রচুর পরিমাণে থাকে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


দিনে যতক্ষণ হাঁটলে রক্তে মিলবে ‘সুখী’ হরমোন
সকালে যেসব খাবার খেলে সুস্থ থাকবেন
