স্কিনকেয়ার এবং সৌন্দর্যের জগতে সবসময়ই নতুন হ্যাক আসে। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং বয়সের লক্ষণগুলো দূর করতে সাহায্য করে। ফেস টেপিং এমনই একটি স্কিনকেয়ার হ্যাক, যা অনেকরই নজরে এসেছে। কিন্তু এই ভাইরাল হ্যাক কি আসলেই হাইপের যোগ্য? তবে বেশি মানুষই বলছে, ফেস টেপিং বোটক্স করার মতোই। কিন্তু আসল প্রশ্ন হল, এটি সত্যিই কি ঠিক?
ফেস টেপিং কী?
ফেস টেপিং পদ্ধতিটি আবিষ্কার হয় ১৯৭০-এর দশকে। জাপানের চিরোপ্র্যাক্টর ডঃ কেনজো কেস এই পদ্ধতির উদ্ভাবক। এই টেপটি মূলত আঘাতের পরে শরীরের পেশীগুলিকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। তবে পরবর্তীতে এটি ত্বক টানটান করতে, পাফিনেস কমাতে এবং বয়সের রেখা দূর করতে ব্যবহার করা শুরু হয়। এই পদ্ধতিতে মুখের বিভিন্ন অংশ যেমন, কপাল, চোখের নিচ এবং গালয় টেপ লাগানো হয়। কেয়া লিমিটেডের কনসালটেন্ট ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. রোজি বাদ্যাল বলেন, ‘ফেস টেপিং হল একটি টেকনিক যেখানে মুখে অ্যাডহেসিভ টেপ লাগিয়ে ত্বক টানটান করে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে বলিরেখা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়।’
ফেস টেপিংয়ের সুবিধা
ডা. রোজির মতে, ফেস টেপিংয়ের কিছু সুবিধা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফেস টেপিং ত্বক টানটান করে, সেই সাথে এটি চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে চোয়াল, গাল এবং কপালে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে পেশীর নড়াচড়াও কমানো হয়। বোটক্সের মতো, ফেস টেপ ডায়নামিক রিঙ্কল কমাতে পারে। কিছু লোক বলেন যে, স্কিনকেয়ার পণ্যের ওপর টেপ লাগালে সেগুলো ত্বকে বেশি ভালোভাবে প্রবেশ করে, তবে এর পক্ষে তেমন বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই। তবে ভালো দিক হলে, এতে কোনো ব্যথা হয়না। ত্বক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বোটক্স বা ফিলারের মতো, ফেস টেপিংয়ে কোনো সুই ব্যবহার হয় না এবং এটি অস্থায়ী, তাই যারা সৌন্দর্য চিকিৎসা নিয়ে ভয় পান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প। ফেস টেপিং স্বল্পমেয়াদী সমাধান হতে পারে, কিন্তু এটি কোলাজেন তৈরি করে না বা পেশাদার চিকিৎসার মতো দীর্ঘস্থায়ী বয়স কমানো যায় না।’
ফেস টেপিং কি বোটক্সের বিকল্প হতে পারে?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, ফেস টেপিংয়ে বোটক্সের কিছু সুবিধা পেলেও, এটি বিকল্প হতে পারে না। কারণ-
- অস্থায়ী বনাম স্থায়ী প্রভাব: বোটক্স পেশী শিথিল করে কয়েক মাসের জন্য বলিরেখা কমায়। অন্যদিকে ফেস টেপিং শুধুমাত্র টেপ সরানোর পরেই তার প্রভাব হারায়।
- উপরিভাগ বনাম গভীর বলিরেখা চিকিৎসা: ফেস টেপিং শুধুমাত্র ত্বককে বাহ্যিকভাবে টানটান করে। অন্যদিকে বোটক্স সময়ের সাথে পেশীর নড়াচড়া কমিয়ে বলিরেখা পুরোপুরি দূর করে।
- সুবিধার: বোটক্স কয়েক মাসে একবার করলেই হয়। কিন্তু ফেস টেপিং প্রতিদিন বা রাতভর করতে হয়। যা অনেকের জন্য করা কঠিন হতে পারে।
- ত্বকের ক্ষতির সম্ভাবনা: বোটক্সের ত্বকের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ফেস টেপিং ত্বকে জ্বালা, র্যাশ এবং এমনকি ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য একদমই উপযুক্ত নয়।
ফেস টেপিং সাময়িকভাবে বেশ কার্যকর। তবে দীর্ঘস্থায়ী ফলাফলের জন্য বোটক্স বলিরেখা প্রতিরোধ এবং হ্রাসের ক্ষেত্রে সেরা বিকল্প।
ফেস টেপিং কতবার করা উচিত?
ত্বক বিশেষজ্ঞের মতে, ফেস টেপিং মাঝে মাঝে করা যেতে পারে। তবে ত্বকের জ্বালা এবং ক্ষতির সম্ভাবনার কারণে ঘন ঘন ব্যবহারের না করাই ভালো।
কারা ফেস টেপিং এড়িয়ে চলবেন?
ফেস টেপিং সাধারণত স্বল্পমেয়াদী ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। তবে কিছু ব্যক্তির এটি এড়ানো উচিত। কারা এবং কেন ফেস টেপিং এড়িয়ে চলবেন? জেনে নিন। সংবেদনশীল বা ব্রণ-প্রবণ ত্বকযুক্ত ব্যক্তির এড়িয়ে চলা ভালো। অ্যাডহেসিভ ত্বকে জ্বালা, ফুসকুড়ি এবং পোর বন্ধ করতে পারে। যাদের একজিমা, রোসেসিয়া বা ডার্মাটাইটিস আছে, তাদের জন্য টেপ ত্বকের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যাদের আঠাতে অ্যালার্জি আছে, তাদের এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। কিছু টেপের আঠা ত্বকে সমস্যা বা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। যাদের ত্বক পাতলা বা বয়সজনিত পরিবর্তন হয়েছে, তাদের জন্য এটি ঠিক নয়। বারবার টানলে ত্বকের লচক কমে যেতে পারে, যার ফলে ত্বক আরও ঝুলতে পারে। যারা সম্প্রতি সৌন্দর্য চিকিৎসা করেছেন। তাদের জন্য ফেস টেপিং এড়িয়ে চলা উচিত। বোটক্স, ফিলার, লেজার ট্রিটমেন্ট বা কেমিক্যাল পিলের পর, এটি ব্যবহার করলে চিকিৎসা এবং ফলাফল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ফেস টেপিংয়ের অসুবিধা
ফেস টেপিং অস্থায়ীভাবে ত্বক ঝুলে যাওয়া থেকে তুলতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সেগুলো উল্লেখ করেছেন।
- ত্বকের জ্বালা ও র্যাশ: ফেস টেপের আঠালো পদার্থ ত্বকের বাধা ক্ষতিগ্রস্ত করে লালভাব, সংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
- পোর বন্ধ ও ফুসকুড়ি: টেপ দীর্ঘ সময় ধরে রাখলে তেল এবং ব্যাকটেরিয়া আটকে গিয়ে, ত্বকে ব্রণ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
- ত্বকের ক্ষতি: টেপ বারবার লাগালে বা সরালে ত্বককে দুর্বল করে ফেলতে পারে, যা বলিরেখা বা অকালে ঝুলে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নেই: বোটক্স, কোলাজেন বুস্টার বা রেটিনয়েড, ফেস টেপিং আসলে দীর্ঘমেয়াদে বলিরেখা প্রতিরোধ বা কমাতে সহায়তা করে না।
ফেস টেপিং একটি দ্রুত সমাধান দিতে পারে, তবে এটি বোটক্স বা পেশাদার অ্যান্টি-এজিং ট্রিটমেন্টের বিকল্প নয়। যদিও এটি দারুণ একটি বিউটি হ্যাক, তবে ঘন ঘন ব্যবহার ত্বকের জ্বালা এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী অ্যান্টি-এজিং পদ্ধতির জন্য ত্বক বিশেষজ্ঞের মতে, বোটক্স, কোলাজেন স্টিমুলেশন এবং মেডিকেল-গ্রেড স্কিনকেয়ার সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে।
তথ্যসূত্র: টাইমস নাউ নিউজ


এই বছরে মেকআপে কেমন ট্রেন্ড চলছে জানেন?
নো-মেকআপ লুক পেতে শিখে নিন কনট্যুরিং
৯ ধাপে আলিয়ার মতো হবে পারফেক্ট মেকআপ! 
