‘বয়স হলেই কি সাজগোজ থেমে যাবে? বয়স বাড়লেই কি ফ্যাশন সেকেলে হয়ে যাবে?’-এ প্রশ্নের উত্তর যেন এক ছবিতেই দিয়ে দিলেন জিনাত আমান। ৭২ বছর বয়সেও তাঁর স্টাইল, আত্মবিশ্বাস আর উপস্থিতি যেন প্রমাণ করছে, ফ্যাশনের কোনো বয়স নেই।
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে জিনাত শেয়ার করেছেন একগুচ্ছ টেস্ট-শুটের ছবি। কখনো সাদা শার্টের ওপর সিল্কের চেক ব্লেজার, কখনো মস-গ্রিন ওভারকোট, আবার কখনো একরঙা কালো সাজে পাওয়ার লুক। আছে সহজ অথচ মার্জিত শাড়িও। প্রতিটি ছবিতেই তাঁর সিলভার বব হেয়ারকাট, ওভারসাইজ সানগ্লাস আর চেনা আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি।
ক্যাপশনে লিখলেন, ‘ফ্যাশন সবার জন্য। বয়স বাড়লেই সেকেলে হয়ে যেতে হবে, তা নয়।’ পাশাপাশি আহ্বান জানালেন অনুসারীদের, তাদের পরিবারের স্টাইলিশ প্রবীণদের ছবি পোস্ট করে তাঁকে ট্যাগ করতে। মুহূর্তেই কমেন্ট সেকশন ভরে গেল হার্ট, ফায়ার ইমোজি আর প্রশংসার বন্যায়।
কালজয়ী সাজ, ক্ষণস্থায়ী নয়
জিনাতের সাজের মূল আকর্ষণ ট্রেন্ড নয়, বরং কালজয়ী পোশাক। ফিট করা ব্লেজার, কচকচে সাদা শার্ট, একরঙা লেয়ার কিংবা স্টেটমেন্ট আউটারওয়্যার, যেকোনো বয়সেই মানায়। তিনি যেন বোঝাতে চাইছেন, স্টাইলিশ হতে তরুণ সাজতে হবে না। বরং ফুটিয়ে তুলতে হবে নিজের স্বকীয়তাকেই।
বয়স নয়, গর্ব
যেখানে ফ্যাশন দুনিয়া অনেক সময় তরুণদের ঘিরেই আবর্তিত, সেখানে জিনাতের এই পোস্ট যেন এক সাহসী ঘোষণা। তিনি বলিরেখা, সিলভার চুল, বয়সের ছাপ, সবকিছুকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। এটি অ্যান্টি-এজিং নয়, প্রো-এজিং। বয়সকে আড়াল নয়, বরং পরিচয়ের অংশ হিসেবেই তিনি উদ্যাপন করছেন।
সামাজিক আন্দোলনের রূপ
শুধু নিজেকে দেখিয়েই থেমে যাননি। বরং ফলোয়ারদের উৎসাহিত করেছেন তাঁদের পরিবারের স্টাইলিশ দাদি, মা বা খালার ছবি শেয়ার করতে। এভাবেই বয়স-অন্তর্ভুক্ত ফ্যাশনকে তিনি রূপ দিলেন এক সামাজিক আন্দোলনে। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থাকা নারীরাও পেলেন প্রাপ্য সম্মান।
ভবিষ্যতের ফ্যাশনের ইঙ্গিত
ফাস্ট ফ্যাশনের ভিড়ে জিনাত আমান দাঁড়িয়ে আছেন স্থির আর দৃঢ়ভাবে। তিনি ২৫ হতে চাইছেন না, বরং দেখাচ্ছেন ৭২-ও হতে পারে সমান স্টাইলিশ, সমান সাহসী, সমান আকর্ষণীয়।
হয়তো এই বার্তাই আগামী দিনের ফ্যাশনের মূলমন্ত্র, বয়স কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এক অনন্য শক্তি।


ফ্যাশনে এখন রাজত্ব করছে যে তিন রঙ
যেভাবে জেন-জির ফ্যাশন আইকন হয়ে উঠছেন সুহানা খান
