আজ (১৯ জানুয়ারি) থেকে আমেরিকা’তে বন্ধ হয়ে গেল জনপ্রিয় শর্ট-ফর্ম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই টিকটক দেশটি’তে তাঁদের প্ল্যাটফর্মে অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়। আমেরিকা’তে টিকটক যখন নিষেধাজ্ঞার কবলে তখন আলোচনায় উঠে এসেছে চীনভিত্তিক নতুন এক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ‘রেডনোট’। টিকটকের জন্য চীনের মালিকানা-ই যেখান কাল হয়েছে সেখানে আরেকটি চীনভিত্তিক অ্যাপে আমেরিকানদের হুমড়ি খেয়ে পড়ার বিষয়টি আশ্চর্যজনকই বটে।
একেই বুঝি বলে ‘কারো পৌষ মাস, তো কারো সর্বনাশ’। টিকটকের সর্বনাশ কী করে রেডনোটের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এল, তার প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছুটা আলোচনা এক্ষেত্রে জরুরি হয়ে পড়েছে।
টিকটক নিষিদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত বছর মার্চে আমেরিকার পার্লামেন্টে (কংগ্রেসে) একটি বিল পাস হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় পার্টির সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হওয়া এই বিলটির বিষয় হচ্ছে, বিদেশী শত্রুদেশ নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ্লিকেশন থেকে আমেরিকার জনগণকে সুরক্ষিত রাখা। অর্থাৎ, শত্রুভাবাপন্ন দেশের অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ ব্যবহার করা থেকে আমেরিকানদের বিরত রাখার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করে বাইডেন সরকার।
এবার এই আইনটির প্রথম শিকার হলো চীনের বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন অ্যাপ টিকটক। কেউ কেউ আবার এমনটাও মনে করেন যে, মূলত টিকটককে লক্ষ্য করেই এই আইনটি নিয়ে এসেছে আমেরিকা সরকার। প্রশ্ন হচ্ছে, টিকটকের ক্ষেত্রে কেন প্রযোজ্য হবে এই আইনটি?
বাইডেন প্রশাসনের দাবি হচ্ছে, টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মাধ্যমে চীন সরকার আমেরিকার ১৭ কোটি টিকটক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য (পার্সোনাল ডেটা) অ্যাক্সেস করতে পারে- যেটা আমেরিকার জাতীয় সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরুপ।
অবশ্য এমন অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে বাইটড্যান্স। গত বছরই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, চীন সরকার চাইলেও তাঁরা কখনোই এমনটা করবে না। টিকটক বরং বলেছে, তাঁদের ‘প্রজেক্ট টেক্সাস’-এর অধীনে আমেরিকান ব্যবহারকারীদের সকল ডেটা বর্তমানে সংরক্ষিত আছে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান ওরাকল-নিয়ন্ত্রিত সার্ভারে। ফলে বাইটড্যান্স চাইলেও সেগুলো অ্যাক্সেস করতে পারবে না। তবে তাতেও মন গলেনি বাইডেন প্রশাসনের।
নতুন আইন অনুযায়ী, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৬ মাসের মধ্যে ‘শত্রুদেশের’ মালিকানামুক্ত হতে হবে, অন্যথায় আমেরিকায় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে। সে হিসেবে বাইটড্যান্সের সামনে আজকে (১৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় ছিল টিকটক বিক্রি করে দেওয়ার। কিন্তু তাঁরা সেটা করে উঠতে পারেনি।
টিকটক প্রথম থেকেই এই আইনটি’র বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে। তাঁরা বলছে, আমেরিকার সংবিধানের প্রথম সংশোধনী’তে দেওয়া বাকস্বাধীনতার অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এই আইন। আর এই দাবি নিয়ে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয় গত বছর-ই। তবে নিম্ন আদালত টিকটকের এই দাবি’কে আমলে নেয়নি।
এরপর গত ১০ জানুয়ারি দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতি আড়াই ঘন্টার শুনানি পর্বে টিকটক, বাইটড্যান্স ও আমেরিকার টিকটকারদের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীদের ভাষ্য শোনেন এবং তাঁদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চান। তবে বিচারকদের করা বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্যের ধাঁচ থেকেই আঁচ করা গেছে যে, বাকস্বাধীনতা লঙ্ঘনের দাবির পক্ষে টিকটকের উত্থাপিত যুক্তিতে তাঁরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি।
এরপর শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ সর্বসম্মতিক্রমে বাইডেন-প্রণীত আইনটিকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে রায় প্রকাশ করেন। ফলে আইনানুযায়ী আজ থেকেই আমেরিকায় টিকটক নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, অ্যাপ স্টোর ও প্লেস্টোর থেকে নতুন করে টিকটক ডাউনলোড করা যাবে না।
তবে এই আইনটির অধীনেই বর্তমান ব্যবহারকারীরা আরও কিছুদিন টিকটক ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু টিকটক আজ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই আমেরিকায় তাঁদের অ্যাপটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বর্তমান ব্যবহারকারীরাও এমন টিকটক অ্যাক্সেস করতে পারছেন না।
আমেরিকায় টিকটকারদের দৃষ্টি এখন নতুন প্রেসিডেস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। আগামীকাল শপথ নেওয়ার মাধ্যমে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প নিজের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করতে যাচ্ছেন। টিকটককে নিষেধাজ্ঞা থেকে ৯০ দিনের অব্যাহতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন ট্রাম্প।
রেডনোট কী?
রেডনোট হচ্ছে চীনের একটি লাইফস্টাইল বা জীবনযাপন সম্পর্কিত জনপ্রিয় অ্যাপ। স্থানীয় ভাষায় এর নাম ‘শাওহংশু’- যার অর্থ হচ্ছে ‘লিটল রেড বুক’ বা ছোট লাল বই। চীনে এই ‘লিটল রেড বুক’ কথাটি ঐতিহাহিসভাবে তাঁদের বামপন্থী নেতা মাও সে তুং-এর বিখ্যাত উক্তির কালেকশন বা সংগ্রহকে বোঝায়।
তবে নামের অর্থ যাই হোক না কেন, রেডনোট অ্যাপটি মূলত বিউটি, ফ্যাশন, ট্রাভেল ও ফুড সম্পর্কিত নানা বিষয়ে ইউজার-জেনারেটেড রিকমেন্ডেশন (সুপারিশ) পাওয়ার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়। এই যেমন নির্দিষ্ট একটি এলাকায় কোন রেস্টুরেন্টের খাবার ভালো, কোন হোটেল থাকার জন্য সেরা, কিংবা ত্বকের কোন সমস্যায় কোন প্রসাধনী ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে- এই ধরণের বিষয়গুলো’তে ব্যবহারকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে থাকেন রেডনোট অ্যাপটি’তে। পাশাপাশি নিজেদের জীবনের বিভিন্ন ঘটনাও ডকুমেন্ট করা যায় এই প্ল্যাটফর্মে।
সার্বিকভাবে এই অ্যাপটি ‘চীনের ইন্সটাগ্রাম’ নামেও পরিচিত। তবে টিকটক বা ইন্সটাগ্রামের সাথে রেডনোট বা শাওহংশু অ্যাপটি’র একটি বেসিক পার্থক্য রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে এর ইনটারফেস। টিকটক ও ইন্সটাগ্রামে যেখানে এক সাথে একটি পোস্ট-ই দেখা যায় সেখানে রেডনোটের ইনটারফেসে দেখা যায় একাধিক পোস্ট। অর্থাৎ ভিডিও, ছবি বা টেক্সট- কনটেন্ট যা-ই হোক না কেন রেডনোটের ইনটারফেসে একইসাথে একাধিক পোস্ট দেখার সুযোগ রয়েছে।
ব্যবহারকারীরা এই অ্যাপটি’তে পোস্ট শেয়ার করার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং একে-অন্যকে কলও করতে পারেন। এছাড়া কেনাকাটারও সুযোগ রয়েছে এই অ্যাপটি’তে। শুধু তাই নয়, রেডনোট সম্প্রতি তাঁদের অ্যাপে লাইভস্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি’র বিষয়টিকেও জনপ্রিয় করে তুলতে চাইছে। সেজন্য নানা উদ্যোগও নিয়েছে। চীনের সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, রেডনোটের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটিরও বেশি।
যে কারণে আলোচনায় রেডনোট বা শাওহংশু
গত এক সপ্তাহে ৩০ লাখেরও বেশি আমেরিকান টিকটকার এই রেডনোট অ্যাপটি’তে যোগ দিয়েছে। মূলত টিকটক নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকার বাইডেন প্রশাসন তার প্রতিবাদ জানানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চীনের-ই আরেকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপকে বেছে নিয়েছে আমেরিকার স্বঘোষিত এই ‘টিকটক রিফিউজিরা’।
গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান সিমিলারওয়েব থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ লাখ আমেরিকান এখন প্রতিদিন ব্যবহার করছেন রেডনোট অ্যাপটি। এর একদিন আগেও সংখ্যাটা ৭ লাখের কম ছিল, আর এক সপ্তাহ আগে ৩ লাখের আশেপাশে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে, দু’দিনে অ্যাপলের অ্যাপস্টোর ও অ্যান্ড্রয়েড প্লেস্টোর থেকে রেডনোট অ্যাপটি ৭ লাখেরও বেশিবার ডাউনলোড করেছেন আমেরিকানরা। অর্থাৎ, সাত দিনে অ্যাপটির ডাউনলোড প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে আমেরিকায়।
প্ল্যাটফর্মটি’তে গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত ‘টিকটক রিফিউজি’ (অর্থাৎ টিকটকের আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থী) হ্যাশট্যাগটি প্রায় আড়াই কোটি (২৫০ মিলিয়ন) বার দেখা হয়েছে এবং তাতে কমেন্ট এসেছে ৫৫ লাখেরও বেশি। আমেরিকায় টিকটক নিষিদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়েই আমেরিকান টিকটকাররা দলে দলে যোগ দিচ্ছেন রেডনোটে।
রেডনোট অ্যাপটি’তে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আমেরিকান টিকটক ব্যবহারকারী হিথার রবার্টস বলেন, ‘আমাদের সরকার যদি মনে করে টিকটক নিষিদ্ধ করলে আমরা সেটা সহ্য করব তাহলে তাঁদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এই দেখুন, আমরা নতুন একটি চাইনিজ অ্যাপে চলে এসেছি।’ উল্লেখ্য, রবার্টসের এই ভিডিও বার্তায় ৪৫ হাজার লাইক পড়ে।
আরেকজন স্বঘোষিত টিকটক ‘রিফিউজি’ তার ভিডিও বার্তায় রেডনোট প্ল্যাটফর্মটির প্রশংসা করে বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মটি টিকটকের চেয়েও অনেক ভালো’। শুধু তাই নয় রেডনোটের চীনা ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্য এই ব্যক্তি বলেন, ‘আমেরিকানরা এখানে যুক্ত হচ্ছে…দুঃখিত তোমরা সবাই আমাদের ঘৃণা করো, তবে আমি কথা দিচ্ছি আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করবো (তোমাদের এই ধারণা পালটে দিতে)।’
চীন-আমেরিকা সম্পর্কে রেডনোট কি ভূমিকা রাখতে পারে?
টিকটক নিষিদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকার সংক্ষুব্ধ টিকটকাররা একদিকে রেডনোট অ্যাপটি’তে সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, চীন ও আমেরিকার সাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসার এক মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই প্ল্যাটফর্মটি। ফলে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক যেমন-ই হোক না কেন, রেডনোট অ্যাপটি দেশ দু’টির জনগণের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি’তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চীন ও আমেরিকার ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন এই অ্যাপটি’তে। সম্প্রতি (১৩ জানুয়ারি) এই প্ল্যাটফর্মটি’র একটি লাইভ চ্যাটে অংশ নিয়েছেন আমেরিকা ও চীনের ৫০ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারী।
রেডনোটের মালিক কারা?
২০১৩ সালে মিরান্ডা কু ও শার্লউইন মাও চীনের শাংহাই’তে প্রতিষ্ঠা করেন রেডনোট অ্যাপ। প্রথমদিকে অ্যাপটি’র নাম ছিল ‘হংকং শপিং গাইড’ এবং এর লক্ষ্য ছিল চীনের স্থানীয় পর্যটকদের মেইনল্যান্ডের (মূল ভূখণ্ডের) বাইরে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা।
রেডনোট এখনও শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত হয়নি। তবে অচিরেই শেয়ার বাজারে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বর্তমানে এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে আছে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ও টেনসেন্ট। এছাড়াও অ্যাপটি’তে উল্লেখযোগ্য শেয়ার রয়েছে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রায়াত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেমাসেক এবং তিনটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান- জিএসআর ভেঞ্চার, ডিএসটি গ্লোবাল ও জিজিভি ক্যাপিটাল।
রেডনোটের প্রেসিডেন্ট মিরান্ডা কু-এর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১.৬৪ বিলিয়ন ডলার (১২ বিলিয়ন ইউয়ান)। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শার্লউইন মাও-এর রয়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের (১৮ বিলিয়ন ইউয়ান) সম্পদ।
আন্তর্জাতিক বাজারে রেডনোট (শাওহংশু)
রেডনোট অ্যাপটি মূলত চীনের মান্দারিন ভাষাভাষীরাই ব্যবহার করে থাকে। এতে ভাষা পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত মান্দারিন ভাষার কনটেন্টই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে অ্যাপটিতে। টিকটক ব্যবহারকারীরা হঠাৎ করে দলে দলে এই অ্যাপে যোগ দিতে শুরু করায় বেশ বিপাকেই পড়েছেন রেডনোটের হর্তাকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির সাথে পরিচিত দুটি সূত্র বলছে, হঠাৎ করে বিশাল পরিমাণ ইংরেজি কনটেন্ট আসতে থাকায় এগুলো মডারেট করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেডনোট’কে। ইংরেজি কনটেন্ট সহজে মডারেট করার উপায় খুঁজছে তাঁরা। পাশাপাশি ইংরেজি থেকে চাইনিজ অনুবাদের একটি টুল তৈরি করারও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ, টিকটকের পৌষ মাসে হঠাৎ প্রাপ্ত আশীর্বাদ যাতে অভিশাপে পরিণত না হয় সেদিকে নজর রাখছে রেডনোট কর্তারা।
উল্লেখ্য, রেডনোট অ্যাপটির একাধিক ভার্সন নেই। অর্থাৎ দেশের ও বিদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা আলাদা ভার্সন নিয়ে আসেনি তাঁরা- যেমনটা দেখা যায় টেনসেন্টের মালিকানাধীন উইচ্যাটের আছে। চীন সরকারের মডারেশন নীতির প্রতিপালনের অংশ হিসবে বাইটড্যান্সের টিকটক অ্যাপেরও একটি চাইনিজ ভার্সন রয়েছে- যার নাম হচ্ছে দাউয়িন।
কতটা উচ্চাভিলাষী রেডনোট?
আমেরিকায় টিকটকের উপর বাইডেন সরকার যখন খড়গহস্ত তখন নতুন প্রাপ্ত আশীর্বাদকে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে চীনের-ই আরেক প্রতিষ্ঠান রেডনোট। সূত্র বলছে, রেডনোটের কর্তাব্যক্তিরা এখন অ্যাপটির বৈশ্বিক বাজার বিস্তৃতি’তে মনোনিবেশ করেছে। তাঁরা চাইছে টিকটকের মতো রেডনোটও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠুক।
মজার বিষয় হচ্ছে, চীনের বাইরে রেডনোটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে তাতে টিকটকের কিছুই যাবে আসবে না। কেননা টিকটক হচ্ছে শর্ট-ফর্ম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, আর রেডনোট মূলত লাইফস্টাইল সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার অ্যাপ। চীনের বাইরে জনপ্রিয়তা পেলে রেডনোট বরং মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ইন্সটাগ্রামের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।
তাঁদের এই আকাঙ্ক্ষার কতটা পূরণ হবে সেটা না হয় আপাতত সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যাক।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও সিবিএস নিউজ


আমেরিকায় বন্ধ হয়ে গেল টিকটক
টিকটকের জন্য ভিপিএন-এর ব্যবহার বাড়ছে ভেনিজুয়েলায়
তাঁকে চীনে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বানিয়েছে টিকটক
মাস্কের কাছে টিকটক বিক্রির খবর ‘কল্পকাহিনী’
