রাজধানীর উত্তরায় কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৪ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মরদেহ উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রাখা আছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।
চলমান কোটা আন্দোলনে সহিংসতায় এ নিয়ে রাজধানীতে ৭ জন আর সারাদেশে ১১ জনের মৃত্যু হলো।
স্থানীয়রা জানান, আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে অংশ নিতে উত্তরার আজমপুর এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশে সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালটিতে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে মেরুল বাড্ডা এলাকা হয়ে ওঠে রণক্ষেত্রে। সকাল ১০টার কিছু সময় পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশও বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে অবস্থান নেয়। সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে বাঁধা দেয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
তবে এসব ঘটনার পর মেরুল বাড্ডা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বেশ কয়েকটি দোকানপাট, স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
এ সময় একই এলাকায় অবস্থিত কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ভবনে আগুন দেওয়া হয়। তবে কে বা কারা কীভাবে ভবনটি আগুন দিয়েছে তা জানা যায়নি।
দুপুরের পর রামপুরায় বেটার লাইফ হাসপাতালের সামনে একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একই সময় রামপুরার বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ভবনে হামলা চালিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা। দুপুর ৩টার পরে আন্দোলনকারীরা বিটিভি ভবনের মূল ফটক ভেঙে প্রবেশ করে। এ সময় ভেতরে থাকা কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিটিভির একজন সংবাদকর্মী ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে জানান, হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা ভবনে প্রবেশ করে। এ সময় পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও ভবনের ক্যান্টিন এবং রিসিপশনে আগুন দেওয়া হয়। এখনও আন্দোলনকারীরা বিটিভির ভেতরে অবস্থান করছেন।
এছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ভেতরে আটকে পড়া পুলিশ সদস্যদের হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুটি হেলিকপ্টারে করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করতে দেখা যায়।
সকাল থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের সদস্যরা কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ভেতরে আশ্রয় নেন।
দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউনকে’ কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে বুধবার রাতেই মোতায়েন করা হয়েছে ১৬ প্লাটুন আনসার সদস্য।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কারের ব্যাপারে আমরা নীতিগতভাবে একমত। সরকার কোটা সংস্কারের পক্ষে। আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের সাথে আজই বসতে রাজি আমরা।’
এ সময় সহিংসতা বন্ধ করে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
- মেরুল বাড্ডায় পুলিশ উদ্ধারে এল হেলিকপ্টার
- দুভাগে চলছে মেট্রোরেল, বন্ধ ৪ স্টেশন
- জেলায় জেলায় চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’
- মহাখালীতে রেললাইন অবরোধ, ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ
- ছাত্রলীগ আক্রান্ত হয়েও ধৈর্য ধরেছে: ওবায়দুল কাদের
- আন্দোলনে গিয়ে আতঙ্কে লেকে ঝাঁপ দেওয়া একজনের মরদেহ উদ্ধার
- বিক্ষোভের মধ্যেই কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে আগুন
- রংপুরে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু
- আন্দোলনকারীদর ওপর কঠোর হবে না পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহালের রায়ে এক মাসের স্থিতাবস্থা
- ‘আন্দোলনের যৌক্তিক কারণ এখন আর নেই’


রামপুরায় বিটিভি ভবনে হামলা, গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর
কোটা সংস্কারে সরকার রাজি: আইনমন্ত্রী
