দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকায় নেমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি যাবেন পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনায়। এরপর সেখান থেকে যাবেন হাসপাতালে মাকে দেখতে।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দর থেকে প্রথমে ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। সেখানে তিনিই একমাত্র বক্তা। এরপর এভারকেয়ারে মাকে দেখতে যাবেন। সেখান থেকে গুলশানের বাসায় যাবেন।
তিনি জানান, ২৬ শুক্রবার বাদ জুম্মা বাবার কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। তারপর যাবেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ২৭ ডিসেম্বর ভোটার তালিকার জন্য আবেদন করবেন। এরপর শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর পঙ্গু হাসপাতালে আহত জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে যাবেন।
তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। নেতা–কর্মীদের কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে ৩০০ফিটের সংবর্ধনা এলাকায় আসার আহবান জানান তিনি।
বিএনপির পক্ষে জানানো হয়েছে, লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমান বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
দলীয় সূত্র জানায়, পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি সরাসরি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তাঁর চিকিৎসাধীন মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে।
বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টা মায়ের পাশে অবস্থানের পর সন্ধ্যা নাগাদ তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে যাবেন। দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই ডুপ্লেক্স বাড়িটিই হবে তারেক রহমানের স্থায়ী বাসভবন। এই বাড়ির পাশেই ‘ফিরোজা’ ভবনে থাকছেন বেগম খালেদা জিয়া।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) সমন্বয় করে কাজ করবে।
সরকারিভাবে তাঁকে এসএসএফ প্রটোকল সুবিধা দেওয়া হতে পারে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দর ও সমাবেশস্থলসহ পুরো এলাকা সিসিটিভি এবং ড্রোন নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ‘রজনীগন্ধা’ থেকে শুরু করে পূর্বাচল এবং গুলশান পর্যন্ত পুরো রুটটিকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে।



