আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস (২৫ নভেম্বর - ১০ ডিসেম্বর) উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ৫ ডিসেম্বর সংগঠনের উদ্যোগে 'নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার' বিষয়ে এই অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন অধিশাখা) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী ও ভারপ্রাপ্ত লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি পরিচালক অ্যাড. দীপ্তি সিকদার। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার হুমায়রা পারভীন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০৭, ঢাকা এর স্পেশাল পি.পি অ্যাড. আফরোজা ফারহানা আহমেদ (অরেঞ্জ), কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট নূজহাত-ই, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: দেবিকা রায় এবং দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার নাজনীন আখতারসহ প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শ্রেণী, বয়স, পেশা, সামাজিক অবস্থানের তারতম্য থাকলেও কেবলমাত্র লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে নারীকে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়নি। নারী নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য আইন থাকলেও সাক্ষী সুরক্ষা আইন না থাকায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সূত্রিতা হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্নভাবে নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছে। ১৪ টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ৬১ হাজার ৫৭৩ জন সহিংসতার শিকার নারীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আলোকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে যাওয়ার জন্য গৃহীত কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। নারী ও কন্যা শিশুর জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, 'নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিনিয়োগকে এখন সারাবিশ্বে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইন থাকলেও মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা থাকার কারণে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আইন বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কোন কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা হবে সেবিষয়ে তথ্য-উপাত্তের অপ্রতুলতা রয়েছে । প্রতিরোধ, প্রতিকার ও নির্মাণে বিনিয়োগের উপর সরকারিভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।'
ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা বর্ণনায় মঙ্গলী বাগচী বলেন, ' গত ২৯ জুলাই পোশাকের কারণে দলের খেলোয়ারদেরও উপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি বিপক্ষে যাওয়ায় পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। পরবর্তীতে অপরাধীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে হুমকি প্রদান করে। এই কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, 'নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিকারের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি, কিছু আইন হয়েছে। প্রতিকারের কাজ কে আরও কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সেজন্য আমাদের ভাবতে হবে। নারীর প্রতি সমাজে সম্মানজনক ও সমতা-জনক অবস্থান তৈরির জন্য প্রচার প্রচারণার কাজ জোরদার করতে হবে।'



