মোদি কি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর অপূর্ণ আশার রূপকার

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম

‘হেথায় আর্য, হেথা অনার্য/ হেথায় দ্রাবিড়, চীন-/ শক-হুন-দল পাঠান মোগল/ এক দেহে হল লীন।’ চরণগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলির একটি কবিতার অংশ বিশেষ। লিখেছিলেন ১৮ আষাঢ়, ১৩১৭। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য কবিগুরুর নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথা সবাই জানে। আজ ২৯ বৈশাখ, ১৪৩১। ভাবছিলাম, প্রায় ১১৪ বছর আগে লেখা এই পঙ্‌ক্তিমালা কি রবীন্দ্রনাথ এখন কলকাতা বা শান্তিনিকেতন–কোথাও বসে লিখতে পারতেন? আর লিখলে তাঁর গায়ে কী দেশদ্রোহীর সিল সেঁটে দেওয়া হতো?

এই ভাবনার কারণ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্য। দেশের কর্ণধার হিসেবে মোদি যাদের ‘বহিরাগত’ বলছেন, তাদেরকে যদি কেউ ‘এই ভারতের মহামানবের/ সাগরতীরে’ এক দেহে লীন হওয়ার কথা বলেন, তাহলে তো তাঁর ধৃষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। মোদি জমানার তৈরি ‘আরবান নকশাল’ বিশেষণের ক্ষত তো এখনো দগদগে। রোমিলা থাপার, ইরফান হাবিব, এমনকি অপর নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের মতো প্রথিতযশা লোকজন এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কী হেনস্তাই না হয়েছেন। এই হেনস্তা শুধু সরকারের তরফ থেকে আসেনি, সুনামির মতো এসেছে বিজেপির আইটি সেল থেকে। সবচেয়ে বড় কথা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু তারা তা করেনি। বরং তাকে মান্যতা দিয়েছে। ৩৩১ বছরের মুঘল শাসন ভারতের শিক্ষা কারিকুলাম থেকে উধাও হয়ে গেছে। তা মেনে নিয়েছে সবাই।

এই মান্যতা পাওয়ার বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখলে বিশ্বাসের একটি জায়গা তৈরি হয় যে, বৃহত্তর হিন্দু সমাজে এর একটা চাহিদা ছিল, যেটা শুধু পূরণ করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এই সরকার গত ১০ বছরে মুসলিম বিদ্বেষের মাধ্যমে ঘৃণার যে বাতারবণ তৈরি করেছে, সেখানে যেকোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী মুসলমানদের ভারতের প্রতি আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ‘দেশ-বিরোধী’ লেবেল লাগিয়ে দেওয়াও আশ্চর্যের কিছু না। 

এই বিষয়টির কিছুটা নিজের মতো ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের সম্পাদক রাভি অগ্রবাল। তিনি লিখছেন, ভারতে গত এক শ বছর ধরে হিন্দু জনমনে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, মোদি আদপে তা শুধু সাকার করেছেন। আসলে এটা সমাজের চাহিদা ও সরবরাহের সূত্র ধরেই এগিয়েছে। তবে রাভি এটা লিখতে ভোলেননি, মোদি যদি তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন, তাহলে ভারত একটি অনুদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে, এটা কোনো ফাঁকা আওয়াজ না, বাস্তবতা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তিহার জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন, মোদি চান ‘এক দেশ, এক নেতা’। বিরোধী বা নিজ দলের অন্য কোনো নেতার সেখানে জায়গা নেই। 

সুনীল খিলনানির ‘দ্য আইডিয়া অব ইন্ডিয়া’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: সংগৃহীতভারত স্বাধীনতার ৭৭ বছর পার করতে চলেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে; অর্থাৎ, ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সুনীল খিলনানি ‘দ্য আইডিয়া অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি বই লিখেছিলেন। এই বইয়ে তিনি বলতে চেয়েছেন, সংস্কৃতি, ধর্ম নয়—ভারতকে এক রেখেছে এর গণতন্ত্র। অনেকেই বলে থাকেন বহুত্ববাদী ভারতে অভিন্ন বলতে দুটি বিষয় আছে, এক. ক্রিকেট, আর দুই. হিন্দি সিনেমা। হিন্দি সিনেমায় তো আগেই মুসলমান-বিদ্বেষের কোদাল চালানো শুরু হয়েছে, এখন কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে আরও বেশি মুসলমান ক্রিকেটার ভারতীয় দলে সুযোগ পাবে বলে স্বয়ং মোদি দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বাকি ছিল গণতন্ত্র, সেটাও কোনোমতে টিকে আছে। এখানে গণতন্ত্র বলতে মোটাদাগে নির্বাচনকে বোঝানো হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানি সুনীল খিলনানি বলছেন এক কথা, অন্যদিকে ফরেন পলিসির সম্পাদক বলছেন আরেক কথা। তাহলে কোনটা ঠিক, নাকি দুটোতেই কিছুটা করে সত্যতা আছে। মোদির দল বিজেপির পিতৃ সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আর এসএস) বয়স হতে চলেছে প্রায় এক শ বছর। এই সময়কাল ধরে তারা একটিই কাজ করেছে, তা হলো ভারত নামের একটি হিন্দু রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণ করা। সেই স্বপ্ন জাতপাতে দীর্ণ হিন্দুসমাজের সবাই দেখেছে ব্যাপারটা এমন না। তবে উচ্চবর্ণের হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভেতরে, বিশেষ করে হিন্দিভাষী অঞ্চলে (গুজরাট ও মহারাষ্ট্রসহ) এই চাওয়ার চাপ ছিল। সেটাকে একীভূত করেছে আরএসএসের দীর্ঘ দিনের প্রচার ও সংগঠনিক দক্ষতা। এই স্বপ্নের অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের নাম হিন্দুস্তান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কংগ্রেসে জওহরলাল নেহরু ও অন্যান্য প্রগতিশীল নেতাদের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

রাভি অগ্রবাল লিখছেন, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরই বয়স ২৫ বছরের নিচে। এদের অনেকেই নতুন সংস্কৃতি, নতুন সামাজিক ভাবাদর্শের এক জাতিরাষ্ট্র চায়। এটা অনেকটাই অনুদার, হিন্দু-আধিপত্যবাদী এবং হিন্দু-প্রথম রাষ্ট্রের জন্ম দিচ্ছে। ২০১৯ সালের শেষ থেকে ২০২১-এর শুরু পর্যন্ত ভারতের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি জরিপে চোখ বোলানো যাক। জরিপে দেখা গেছে, ৬৪ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী গভীরভাবে বিশ্বাস করে একজন প্রকৃত ভারতীয় হওয়ার জন্য হিন্দু হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ৫৯ শতাংশ মনে করে ভারতীয়ত্ব প্রমাণের জন্য মুখের ভাষা হিন্দি হওয়া জরুরি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ ধর্মকে তাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বিবেচনা করে। ৫৯ শতাংশ নিয়মিত ধর্মীয় আচার পালন করে থাকে। তথ্যগুলো ছোট ছোট, কিন্তু জরুরি। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুমানসকে বুঝতে এই তথ্যগুলো সাহায্য করে। 

বিনয় সীতাপতির লেখা ‘ইন্ডিয়া বিফোর মোদি: হাউ দ্য বিজেপি কেইম টু পাওয়ার’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: সংগৃহীত‘ইন্ডিয়া বিফোর মোদি: হাউ দ্য বিজেপি কেইম টু পাওয়ার’ বইয়ের লেখক অধ্যাপক বিনয় সীতাপতির ভাষায়, ভারত নিয়ে নেহরুর ধারণার ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে। কিছু বিষয় তো অবশ্যই হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে বলেই, ভারত ২০২৩-এর গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬১তম; ফ্রিডম হাউসের হিসেবে গণতন্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের জায়গায় ভারত ‘আংশিক মুক্ত’ (হংকং ও রাশিয়ার কাতারে); গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৩) ১৪৬টি দেশের মধ্যে ১২৭; ওয়ার্ল্ড জাস্টিস র‍্যাংকে ১৪২টি দেশের মধ্যে ৭৯তম—এর কিছুই এই তরুণদের গায়ে লাগে না। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কট্টর মোদি সমর্থকদের বলতে শোনা যায়, পেট্রোলের লিটার ৫০০ রুপি হোক, আর গ্যাস সিলিন্ডার পাঁচ হাজার রুপি—তাঁরা মোদিকেই ভোট দেবেন। কারণ, নরেন্দ্র মোদি তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের অবতার। 

এই অবতার একসময় ছিলেন নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক গুরু লালকৃষ্ণ আদভানি। ভারতে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি এবং অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির তৈরির আন্দোলনের নেতৃত্ব আদভানিকে এই অবতারের মর্যাদা দিয়েছিল। এক রথযাত্রা করে তিনি ভারত কাঁপিয়ে দিতে পেরেছিলেন। বিজেপিকে লোকসভায় ২ থেকে ৮৬ আসনে উঠিয়েছিলেন। ২০০২ সালে গোধরা কাণ্ডের পর গুজরাট যখন মুসলিম-বিদ্বেষী আগুনে ঝলসে যাচ্ছে, তখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি ছিল তাঁর প্রশ্রয়ের ছায়া। তিনি তো অবতার হবেনই।

১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ও উপস্থিত ছিলেন লালকৃষ্ণ আদভানি। সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও আদভানি বা তাঁর দল বিজেপি অঙ্গীকার রাখেননি। মামলাও হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট ‘বিতর্কিত কঠামোর’ স্থিতিবস্থা বজায় রাখার কথা বলেছিলেন। বাবরি মসজিদের ভেঙে পড়া কাঠামোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। কিন্তু নরসিমা রাওয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে জানায়, বিষয়টি স্পর্শকাতর। এটা নিয়ে এমনিতেই সাম্প্রদায়িক সংঘাত শুরু হয়েছে। সেজন্য সরকার ভেঙে পড়া কাঠামোর নতুন করে নির্মাণের পক্ষে নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অনীহা এবং বিষয়টির ধর্মীয় স্পর্শকাতরতার কথা ভেবে সুপ্রিম কোর্ট আর এগোননি। অর্থাৎ, এত বড় একটা ঘটনা শুধু কয়েকটি মামলার মধ্য দিয়ে সমাজের মান্যতা পেল। আদভানি, কল্যাণ সিংসহ মামলার আসামিরা হয়ে গেলেন বীর।

কিছুদিন তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নেতা অশীতিপর মনিশংকর আয়ার এ বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে অভিযুক্ত করেছেন তিনি। বলেছেন, বাবরি সমজিদ ভাঙার পর তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন। প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও শুনেই একেবারে রে রে করে ওঠেন। বলেন, ‘মনি, তুমি কি বুঝে কথা বলছ? জানো এটা করলে কী হবে? ভারতকে তুমি চেন?’ এরপর আর কথা বাড়াননি মনিশংকর আয়ার।

১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে আধুনিক অবতারে পরিণত হন লালকৃষ্ণ আদভানি, রামমন্দির প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তারই ধারা বজায় রেখেছেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্সবাবরি মসজিদের প্রসঙ্গ টানা এ কারণেই যে, এই বিতর্কের অবসান হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষেই হোক—এ চিন্তায় বিজেপি বা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রায় দিয়েছেন। সেজন্য রাভি আগ্রবাল যখন হিন্দুত্বের ব্যাপারে সমাজের চাহিদার কথা বলেন এবং নরেন্দ্র মোদি চাহিদা মেটানোর কারণেই সাফল্য পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন—তখন এ যুক্তির পাল্টা দাঁড় করানো খুব কঠিন। কারণ কেমব্রিজ পড়ুয়া জওহরলাল নেহরুর উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধ্বংস অনেকটাই হয়েছে তাঁর দল কংগ্রেসের হাতেই। এমনকি তাঁর মেয়ে প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীও এর জন্য কিছুটা হলেও দায়ী।

আর সেই সুযোগটাই নিয়েছে বিজেপি ও আরএসএস। বাজপেয়ি-আদভানির হাত ধরে যেটা শুরু হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদি তাকে পূর্ণতা দিয়েছেন। মোদির কল্পিত ভারতে হিন্দুদের অগ্রাধিকার—এটাই আপাতত প্রতিষ্ঠিত। এর পেছনের ভোটের সমীকরণও খুব সহজ। যে দেশে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ ধর্মীয় পরিচয়ে হিন্দু, কোনোভাবে তাদের অর্ধেকের ভোট বাক্সে এনে ফেলতে পারলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ২০১৪ সালে ৫৪৩ সদস্যের লোকসভায় ২৮২টি আসন পেলেও ভোট পেয়েছিল মাত্র ৩১ শতাংশ। ২০১৯-এ পুলওয়ামা-বালাকোট কাণ্ডের পর মোদি ঝড়ে বিজেপি ৩০৩টি আসন পেয়েছিল মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোটের জোরে। আর এই ভোটারদের একটা বড় অংশ নারী। অর্থাৎ, ভারতের বহুদলীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার কাঠামোয় টিকে থাকার সহজ কৌশল বিজেপি আয়ত্ত্ব করে ফেলেছে। যে কারণে ভারতের বিশিষ্টজনেরা হাসলেও মোদির নজর হিন্দু নারীদের জন্য স্পর্শকাতর মঙ্গলসূত্রের দিকেই। সাধারণ ভোটারের মনের হদিশ এখনো ভারতে মোদির চেয়ে ভালো খুব ভালো কম লোকই জানে। অনেকেই মোদির মুসলমান-বিদ্বেষ নিয়ে কটাক্ষ বা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিন্তু থামছেন না। কারণ, তাঁর লক্ষ্যই হলো ওই ৮০ শতাংশ হিন্দু ভোটারের অধিকাংশের মন জয়।

ইতিহাসবিদ মুকুল কেশভান যতই বিস্মিত হন যে, মোদি ভারতের মতো দেশে এই ধরনের কাজ করেই চলেছেন, কিন্তু পশ্চিমারা দেখেও দেখছে না। আসলে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া মোদি বা তাঁর দলকে কোনো কিছুই এ কাজ থেকে বিরত করতে পারবে না। বিকাশ, উন্নয়ন, বিশ্বশক্তি—এসব কল যখন জনগণের মাঝে কাজ করে না, তখন ‘খুঁড়োর কল’ ধর্মই একমাত্র বেঁচে থাকে। আগামী ৪ জুন ‘মোদি কি গ্যারান্টি’ জয়ী হলে সবাই বলবে, ‘কল করেছেন আজব রকম চণ্ডীদাসের খুঁড়ো-/ সবাই শুনে সাবাস্‌ বলে পাড়ার ছেলে বুড়ো।’ সে পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর তা হলো ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।‘ কিন্তু বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির...
​সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক এবং পরবর্তী ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও...
আমি বলছি না যে সাক্ষাৎকার নেওয়া সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমগুলো ঘুষ খেয়েছে। কিন্তু যে জনসংযোগ–লবিং প্রতিষ্ঠান এত নিখুঁতভাবে এই প্রচার অভিযান সাজিয়েছে, বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা নিশ্চয়ই মোটা...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার অটো পাসের মতো করে সরকার চালাতে চায়। আবু সাঈদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের সেবা না করে, বাংলাদেশে আর কাউকে অটো পাসের...
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল-ফারহাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোছা. রিম্পা নামের এক নারী বন্দি পালিয়ে যান। রোববার তাকে মোহাম্মদপুর থেকে...
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাসপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দগুচ্ছ আবারও যুক্ত হচ্ছে। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া নতুন...
আগামী বছর যেসব নতুন এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে, সেগুলোতে থাকবে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি সিটে মোবাইল চার্জিং সুবিধা। পৃথিবীর অনেক এয়ারলাইন্স যেখানে এই সেবার জন্য অতিরিক্ত...
লোডিং...

এলাকার খবর