তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া মিলিয়ে ১৩ মাসের মধ্যেই শেষ হচ্ছে শেখ হাসিনাসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কার্যক্রম। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজে সময় লেগেছে ১০৫ দিন। একে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলা মনে করা হয়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সার্বিক তথ্য।
জুলাই অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবরে পুনর্গঠন হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিয়োগ দেওয়া হয় ৩ বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা। প্রথমেই শুরু হয় শেখ হাসিনার অপরাধের অভিযোগের তদন্ত।
৭ মাসের তদন্ত শেষে ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এতে ৮১ জনের জবানবন্দিসহ ১৪শ জনকে হত্যায় জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করা হয়।
পয়লা জুন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দেয় প্রসিকিউশন। আসামিদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশসহ ৫টি অভিযোগ আনা হয়। সেদিনই দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সরাসরি সম্প্রচার হয় আদালতের বিচার কাজ।
আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরও আত্মসমর্পণ না করায় পলাতক হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে আমির হুসেনকে আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
১০ জুলাই ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। ওই দিনই নিজের অপরাধ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন সাবেক আইজিপি মামুন।
৩ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্ব। জুলাই শহীদদের পরিবার, আহত, চিকিৎসক, সমন্বয়ক, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গবেষক, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৪ জন সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দেন। ২৮ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর।
১২ অক্টোবর শুরু হয় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন জানায়, আন্দোলন দমনে ৩ লাখ ৫ হাজার গুলি ব্যবহার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। যার মধ্যে শুধু ঢাকায় ৯৫ হাজার।
২৩ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় সব বিচারিক কার্যক্রম।
১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান, বিচারপতি গোলাম মর্তুজা ঘোষণা করেন, মামলার রায় ১৭ নভেম্বর।
আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, হত্যায় উস্কানি, প্ররোচনাসহ ৫টি অভিযোগ প্রমাণে মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার তথ্য প্রমাণ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। আলামত হিসেবে দেয়া হয়েছে ৬৯টি অডিও ক্লিপ, ৩টি মোবাইল নম্বরের সিডিআর এবং হত্যাকাণ্ডের ১৭টি ভিডিও।



